নড়াইলে পূজা মন্ডপে হামলায় একজন আহত

96

নড়াইলকণ্ঠ : নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর পশ্চিমপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। হামলায় আশীষ নামে এক যুবক আহত হয়েছে। তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চন্ডিবরপুর পশ্চিমপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক কালিদাস জানান, রবিবার রাতে মণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। মণ্ডপের এক পাশে মহিলারা বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলেন। এসময় একই ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামের কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক মহিলাদের বসার স্থানে গিয়ে বসে পড়েন। ওই যুবকদের অন্যত্র বসতে বলায় পূজা কমিটির সদস্যদের সাথে বাকবিতন্ডতার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উচ্ছৃঙ্খল যুবকেরা হামলা করে মন্দিরের পূজার সামগ্রী নষ্ট করতে থাকে। ঠেকাতে গেলে আশীষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তাকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি জিতেন বিশ্বাস জানান, প্রতিবছরই আমবাড়িয়া গ্রামের কতিপয় যুবক এসে ঝামেলা করে।

মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি রমেশ বিশ্বাস বলেন, তারা ২৫-৩০ জন অস্ত্র নিয়ে এসে মন্দিরে ভাঙচুর চালায়। যারা বাধা দিয়েছে তাদেরই মেরেছে। ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়। এ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের দায়িত্বরত বিট পুলিশ কর্মকর্তা এস আই ফাহাদ জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তারা বাড়ি না থাকায় আটক করা সম্ভব হয়নি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস বলেন, চন্ডিবরপুর পশ্চিমপাড়া পূজামণ্ডপে অপ্রীতিকর ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। তার অর্থ এই নয় যে, অনুষ্ঠানে এসে বাঁধার সৃষ্টি করবে, হামলা করবে। পুলিশ প্রশাসন এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা-অর্চনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগামীতে আরও বাধা-বিপত্তির সৃষ্টি হবে। আশা করি বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বের সাথে দেখবেন।

নড়াইল সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন বলেন, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।