এই প্যানডেমিকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে চীন, আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মৃত্যু ঘটেছে!

48

শুভ কামাল: ইবোলা ভাইরাসের ওষুধ রেমডিভিসিরকে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন করোনার জন্য ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। এই সংস্থাকে কিন্তু সারা পৃথিবী অন্ধের মতো ফলো করে। দুনিয়া উল্টায়ে গেলেও তারা কোনোভাবেই নিজেরা সন্তুষ্ট না হলে কোনোকিছুর সার্টিফিকেট দেয় না। তাই করোনার ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রে এটাকে মাইলফলকই বলা যায়। ট্রাম্পও অসুস্থ হয়েছিলেন যখন তখন এই ট্রিটমেন্ট নিয়েছিলেন।

যাইহোক এই উপলক্ষ্যে আবার মনে করিয়ে দিই বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা হু চীনের পাপেট টেড্রসের তত্ত্বাবধানে কতোটুকু পঁচে গেছে! এই ওষুধটা আমেরিকান কোম্পানির কাছ থেকে নিয়ে করোনার জন্য প্রথম চায়নাই ট্রায়াল দিচ্ছিলো। পরে এক সময় তারা ট্রায়াল বন্ধ করে দেয়। কারণ তারা যথেষ্ট পরিমাণ রোগী পাচ্ছিলো না। কিন্তু আমার ধারণা তারা তখনই টের পেয়েছিল এই ওষুধটা কার্যকর। এপ্রিল মাসে কি হয়েছিল মনে করিয়ে দিই।
বেশ কয়েকটা ওষুধের ট্রায়াল চলছিলো কোনটায় কাজ হয় কিনা দেখার জন্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সবগুলার ফলাফলের খবর রাখছিলো। তখন ভুল (!) করে হু রেমডিভিসের গবেষণার ফলাফল তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করে দিলো, সেটাতে বলা ছিলো, রেমডিভিসিরে কাজ হয় না। একদিন পরেই তারা সেটা ওয়েবসাইট থেকে নামিয়ে নিয়েছিলো। একে তো চায়নার গবেষকরা গবেষণাটা শেষ করারই সুযোগ পাননি তাদের রোগী ছিলো না বলে, দ্বিতীয়ত সেটা পিয়ার রিভিউডও নয়। তারা পরের দিন ওয়েবসাইট থেকে সেই গবেষণা নামিয়ে বলেছিল সেটা নাকি ভুলে হয়ে গেছে! খেয়াল করুন, অন্য কোনো ওষুধের ক্ষেত্রে কিন্তু তাদের এমন ভুল হয়নি। অন্য কোনটার ফলাফল তখন আপলোড করেনি।

যাইহোক, পরে দেখা গেলো তারা যে গবেষণা করেছে সেটাতে ওষুধ ট্রায়ালের মূলনীতিই মানেনি, ওষুধের ট্রায়াল ব্লাইন্ডেড ট্রায়াল হতে হয়, মানে একদল রোগীকে আসল ওষুধ দেবে, অন্য দলকে দেবে প্লাসিবো, মানে ভেতরে কোনো ওষুধ থাকবে না, কিন্তু রোগী ভাববে সে আসলে ওষুধ পাইছে। তখন দেখবে দুই দলের ফলাফল একই আসে কিনা। একই আসলে ধরে নেবে সেটায় কাজ হয় না। কিন্তু হু যে গবেষণার কথা বলেছে, সেটাতে এই বেসিক নিয়ম মেনে ট্রায়াল করেনি। তারা ব্যস্ত ছিল কোনরকমে কাজ হয় না বলে দেয়ায়! যাইহোক, আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ এর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, এই ওষুধে অসুস্থ থাকার সময় তিন ভাগের এক ভাগ কমে যায়। এভারেজে ১৫ দিন থেকে কমে ১০ দিনে নেমে আসে। ও হ্যাঁ, তাদেরটা পিয়ার রিভিউড, প্রকাশিত জার্নাল। এজন্য আজকে এফডিএ এই ওষুধকে পারমিশন দিয়ে দিয়েছে।

যাইহোক পশ্চিমের ভ্যাকসিন আর চায়না-রাশিয়ার ভ্যাকসিনের পার্থক্য বলি। চায়না আর রাশিয়া যে ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে ফেলেছে বলে দুই দিন পরে পরে লাফায়, সেই জাতের ভ্যাকসিন আমেরিকা আর ইউরোপ অনেক আগেই আবিষ্কার করে বসে আছে। পার্থক্যটা হচ্ছে এরা নিশ্চিত না হয়ে অনুমোদন দেবে না। মনে আছে মাঝে অক্সফোর্ডের ট্রায়াল বন্ধ করে দিয়েছিলো? তারা শুধু খবর পেয়েছিল ট্রায়ালে অংশ নেয়া একজন অসুস্থ হয়েছে, সাথে সাথে পুরা প্রজেক্ট বন্ধ রেখেছে। যখন নিশ্চিত হয়েছে ওই লোকের অসুস্থতার সাথে তাদের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের সম্পর্ক নেই তখন আবার ট্র্যায়াল চালু করেছে। আর চায়না-রাশিয়ায় যদি সুপ্রিম লিডার বলে এই সবাই লাইন ধইরা এই ভ্যাকসিন নে, ট্রায়াল মায়াল লাগবো না, সবাই ইয়েস স্যার বইলা লাইনে দাঁড়ায়া যাবে ভ্যাকসিনের জন্য, এইটাই পার্থক্য!

আগেও লিখেছি গ্লোবাল প্যানডেমিক চাইলে থামানো যায়। হু-এর জন্মের পর থেকে কোনো গ্লোবাল প্যানডেমিক হয়নি। কারন ডঐঙ তখন শক্ত হাতে সেটা দমনে ব্যবস্থা নিতো। সার্স, মার্স, ইবোলা, সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লু কিন্তু কোনটাই গ্লোবাল পর্যায়ে যায়নাই।এটার আন্তর্জাতিক প্রটোকল আছে। আমি বলিনা চায়না এই ভাইরাস সৃষ্টি করে বাজারে ছেড়েছে। কিন্তু আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই চায়না আর তাদের পাপেট টেড্রচের কারনে সময়মত সেটা থামানো যায়নাই। এ নিয়ে পুরনো একটা লেখার লিঙ্ক কমেন্টে দিতে চেষ্টা করবো।

দিন যত যাচ্ছে আমার তত বেশী বিশ্বাস হচ্ছে চায়না আসলে এই করোনা দিয়ে ব্যবসা করতে চাচ্ছে। এক্ষেত্রে তাদের মূল হাতিয়ার

WHO। এই প্যানডেমিকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে চীন। আর এই প্যানডেমিকের মাধ্যমেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মৃত্যু হয়েছে।

তথ্য সূত্র : আমাদেরসময়.কম