সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত, ঢাকাসহ সারা দেশে বৃষ্টি

55

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিম্নচাপটি বাংলাদেশের দিকে আরও এগিয়ে আসায় সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত নামিয়ে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে নদীবন্দরের মধ্যে কিছু এলাকায় ২ এবং কিছু এলাকায় ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদফতর সূত্র এসব তথ্য জানায়। গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে সাধারণত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। এই নিম্নচাপ কী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে—জানতে চাইলে নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ জানান, ‘‘সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নিম্নচাপ ঘনীভূত হলে ঘূর্ণিঝড় হয়। কিন্তু এই নিম্নচাপ যেহেতু আগে থেকেই বৃষ্টি ঝরাচ্ছে সেহেতু এর শক্তি কমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ঘূর্ণিঝড় নাও হতে পারে। তবে যদি এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে তাহলে আগামীকাল সকাল নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তখন এর নাম হবে ‘গতি’। তবে এখনই আমরা ঘূর্ণিঝড়ের কথা বলতে চাইছি না। তাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়তে পারেন। এখনও নিম্নচাপটি বেশ দূরেই আছে।’’

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, নিম্নচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি এখন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত নদীবন্দরগুলোর আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া দেশের অন্য এলাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে বরিশাল বিভাগের খেপুপাড়ায়, ২৭৯ মিলিমিটার। এছাড়া ঢাকা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে মাদারীপুরে ৫১, ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে নেত্রকোনায় ৪৭, চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে হাতিয়ায় ১৫৭, সিলেটে ৯৪, রাজশাহী বিভাগের মধ্যে ঈশ্বরদীতে ৩৬, রংপুর বিভাগের মধ্যে ১৬ এবং খুলনা বিভাগের মধ্যে মংলায় ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, লঘুচাপের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

ভারী বৃষ্টির সতর্কতায় বলা হয়, নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী অর্থাৎ ৪০ থেকে ৮৮ মিলিমিটার থেকে অতি ভারী অর্থাৎ ৮৯ মিলিমিটারের চেয়েও বেশি বৃষ্টি হতে পারে। তাপমাত্রা কমতে পারে ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

সতর্ক বার্তায় জানানো হয়, নিম্নচাপটি ছিল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, এখন তা আরও এগিয়ে এসে ৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। একইভাবে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ছিল ৬৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, এখন তা ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে আছে। মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ছিল ৫৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, এখন আছে ৪৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ছিল ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, এখন ৫০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ একটানা ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপের কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল। এ কারণে দেশের চার সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রাকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত নামিয়ে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে গভীর সাগরে বিচরণ করতে না করা হয়েছে।