চাঁদে ফোর জি নেটওয়ার্ক করতে নোকিয়াকে নাসা ১৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিল

30

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ চাঁদে ফোর জি সেল ফোন সংযোগে কথা বলার জন্যে নেটওয়ার্ক করে দেবে নোকিয়া। এজন্যে নাসা ১৪.১ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। এধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি করতে এর আকার, যন্ত্রপাতির ওজন ও নেটওয়ার্কের মান কেমন হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ সম্ভাবনা খুবই কম। জেরুজালেম পোস্ট/ইউপিআই
২০২৪ সালে নাসা চাঁদে অভিযান শুরু করার আগেই সেখানে ফোর জি যোগাযোগ ব্যবস্থা পেতে চাচ্ছে। চাঁদে যে ব্যাপক গবেষণা শুরু করতে যাচ্ছে নাসা সে কাজে এধরনের মোবাইল নেটওয়ার্ক দারুন কাজ দেবে। ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে ঘাঁটি তৈরি করে নভোচারীরা বাস করতে শুরু করলে বা গবেষণার তথ্য জানিয়ে দিতে ওই মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন বলে জানান মার্কিন গবেষণা সংস্থা নাসা’র প্রশাসক জিম ব্রাইডেনস্টাইন। একই সঙ্গে নাসাকে চাঁদে বসবাস করার উপযোগী বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করতে হচ্ছে।
জিম বলেন চাঁদে বসবাসের ক্ষেত্রে পৃথিবীর সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগ যাতে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে সেদিকেও নজর দেয়া হচ্ছে। চাঁদে বসবাসের ক্ষেত্রে এধরনের নেটওয়ার্ক বরং সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করবে। এজন্যে মোট প্রকল্প ব্যয় হচ্ছে ৩৭০ মিলিয়ন ডলার। মার্কিন কোটিপতি ও টেসলা গাড়ির মালিক এলন মাস্কের স্পেস এক্স কোম্পানি এ প্রকল্পের সিংহভাগ বাস্তবায়ন করছে। নোকিয়া’র উদ্ভাবনী শাখা বেল ল্যাবস টুইটারে এধরনের ফোর জি নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করার কথা টুইটারে জানিয়ে বলেছে বিনাতারের এ নেটওয়ার্ক সৃষ্টিতে আমাদের উদ্ভাবনী শক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে তা ফাইভ জি সমমানের নেটওয়ার্ক গড়বে । তবে উচ্চমাত্রার রেডিয়েশন ছাড়াও তাপমাত্রা ও মহাকাশে যে ভ্যাকুয়াম বা শূন্যস্থান রয়েছে তা মোকাবেলা করেই এধরনের নেটওয়ার্ক সফল করতে হবে। একই সঙ্গে চাঁদের পিঠে মহাকাশ যান অবতরণের সময় বড় আকারের কম্পনের প্রভাব সহ বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা দূর করে সমন্বিত সেলুলার নেটওয়ার্কের ক্ষুদ্রতম সম্ভাব্য আকার স্থাপন করতে হবে।
তবে চাঁদে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক স্থাপন হলে তা নভোচারী, চন্দ্রযান ও পৃথিবীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্ভব হবে বলে জানান নাসা’র মহাকাশ প্রযু্িক্ত মিশনের প্রশাসক জিম। এজন্যে নোকিয়া টেরিস্টেরিয়াল প্রযুক্তির আরো উন্নয়ন করছে যা সার্বিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাবে। কারণ অধিক দূরত্ব ও গতি বৃদ্ধির মত বিরাট বাধাও আছে।
২০১৮ সালে এধরনের মোবাইল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় ব্রিটিশ ভোডাফোন। এ কোম্পানিটি স্পেস এক্সের তৈরি রকেট, ল্যান্ডার, অডি’র তৈরি রোভার ছাড়াও লুনারের যান ব্যবহার করে যেটি এ্যাপোলে সতেরোর নভোচারীরা ১৯৭২ সালে ব্যবহার করেছিলেন কিন্তু তাতে সফলতা মেলেনি।