বাউল সাধক চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান : চারণ কবি মো: রওশন আলী

56

বাউল শব্দটি আলোচনায় আসলেই সাধারণভাবে মানুষ সংসার ত্যাগী উদভ্রান্ত পথশিল্পীর কথা অন্তরে এঁকে নেয়। কিন্তু এস এম সুলতান যেহেতু একজন সংগীতশিল্পী নন সেহেতু বাউল সাধক সুলতান শীর্ষক শিরোনামের তাৎপর্য বুঝতে গেলে অবশ্যই বাউল এবং সাধক শব্দ দুটি আলাদাভাবে বুঝতে হবে। বাউল শব্দটি নিয়ে বিগত বহু শতাব্দী ধরে গবেষকগণ চুলচেরা বিশ্লেষণ করেও সঠিক কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। বরং এক একজন এক এক ধরনের মত প্রকাশ করেছেন। তবে অধিকাংশ জনের মতামতে বাউল অর্থ সংসার ত্যাগী, জীবনের প্রতি উদাসীন, বিশেষ ধর্মীয় মূল্যবোধে আবিষ্ট নন এমন শ্রেণির লোকদের বা সম্প্রদায়কে নির্দেশ করেছেন। কয়েকটি উদাহরণ এ ক্ষেত্রে সন্নিবিষ্ট করতে চাই যথা- কাজি আব্দুল ওদুদ তাঁর “ব্যবহারিক শব্দকোষ” গ্রন্থে বাউল অর্থ বলেছেন “ঈশ্বর-ভক্ত সম্প্রদায় বিশেষ; ইহারা প্রচলিত হিন্দু মুসলিম আচার অনুসারে চলে না। সংগীত ইহাদের সাধনার প্রধান অঙ্গ। শৈলেজ বিশ্বাস “সংসদ বাঙ্গালা অভিধান”-এ বাউল অর্থ উদাসীন ও গায়ক সাধক সম্প্রদায় বিশেষ, খেপা লোক, পাগল ইত্যাদি বলেছেন। রাজশেখর বসু “চলন্তিকা”য় বাউল অর্থ গায়ক ভিক্ষুক সম্প্রদায় বিশেষ উল্লেখ করে বলেছেন এরা সর্ব সংস্কারমুক্ত এক শ্রেণির ধর্মাচারী। হরিচরণ বন্দোপাধ্যায় “বঙ্গীয় শব্দকোষ” গ্রন্থে বাউল শব্দের তিনটি অর্থ বলেছেন যথাÑ(১) উন্মত্ত বা পাগল (২) বিহবল বা কাতর (৩) চৈতন্য প্রাপ্ত সম্প্রদায়, ইহাদের মত দেহতত্ত্ব¡ বলিয়া প্রসিদ্ধ। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় আঞ্চলিক ভাষায় বাউল শব্দের ভিন্ন অর্থ লক্ষ্য করা যায়। কুমিল্লা জেলায় বাউল বলতে মাদুর বোঝায়, খুলনার দক্ষিণাঞ্চলে বাউলে, বাউলী, বাউয়ালী ইত্যাদি শব্দদ্বারা মন্ত্রঞ্জ বনচারীকে বোঝায়, ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলায় গৃহহীনকে বোঝাতে বাউলিয়া শব্দ ব্যবহৃত হয়, উত্তর বাংলায় বাউরা বা বাউরি শব্দ দ্বারা উন্মত্ত মানুষকে বোঝায়, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া,খুলনা, যশোর জেলায় বাউল বলতে ভিক্ষাজীবী সম্প্রদায়ের গায়ক-সাধকদের ইঙ্গিত করা হয়। মোটকথা বাউল এমন একটা শব্দ যার সঠিক মর্মার্থ আজ অব্দি উৎঘাটিত হয়নি। বরং বিভিন্ন ব্যক্তি ও গ্রন্থের পরিভাষায় যা বোঝা যায় তা হলো- ছন্নছাড়া অপরিকল্পিত জীবনের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে যাযাবর সময়কে যে সমপ্রদায় অধিক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন পারতপক্ষে তঁঁাঁদেরকে বাউল বলে আখ্যায়িত করা সমীচিন হবে। তবে এসব মানুষেরা যাযাবর হলেও তাঁরা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী মানব ধর্মকে সঠিক জ্ঞান করেন এবং অধিকাংশ বাউল লম্বা কেশমন্ডিত, দাড়ি বা শশ্রু রাখেন এবং সংগীতকে অর্চনা বা মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম মনে করেন। তবে ছন্নছাড়া জীবনের আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে নেশাগ্রস্ত নায়কের মত কেউ যদি পেশায় আলাদাও হন তাহলেও বাউল হিসেবে তাঁদেরকে নির্দেশ করা যাবে না এমন ধরনের নিষেধাজ্ঞাও বাউল শব্দ দ্বারা বোঝানো হয়নি। সুতরাং বঙ্গীয় শব্দকোষ গ্রন্থের প্রণেতা হরিচরণ বন্দোপাধ্যয়ের মতে চৈতন্যপ্রাপ্ত যে কোন শিল্পীকেই বাউল হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। অন্যদিকে বাউল দর্শনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলেও বাউলের স্বরূপ উৎঘাটন করা সম্ভব হবে। আমরা জানি লোকায়ত দর্শনের জীবনবাদেও ছাপ বাউল মতবাদের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এখন দেখা যাক লোকায়ত দর্শন কী। দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যয় “লোকায়ত দর্শন” গ্রন্থে লিখেছেন লোকায়ত বলতে বোঝায় বস্তুবাদ. দেহাত্মবাদ অর্থাৎ আত্মা নেই, ইশ্বর নেই, পরলোক বা পরকাল নেইÑ দেহই হলো চরম ও সার সত্য।” সুতরাং লোকায়তিকরা বস্তুবাদী ও দেহাত্মবাদী। অর্থাৎ আত্মা দেহ নিরপেক্ষ নয়Ñ দেহ সাপেক্ষ। দেহের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে আত্মার বিকাশ ও দেহের ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে আত্মারও ধ্বংস অনিবার্য। লোকায়তিকদের এই পরিচিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাউল মতবাদ বিশ্লেষণ করলে উভয়ের সমীপ্য সহজেই অনুমান করা যায়। লোকায়তিকদের মত বাউলরাও বস্তুবাদী। বাউল কবি দুদ্দুশাহের গানের ভাষায় তা পরিস্ফুটিতÑ “বাউল জীবন জানতে কয়
কেমন জীবন-বস্তু…..কি সে জন্ম কোথায লয় ॥/যে বস্তু জীবনের কারণ…..তাই বাউল করে সাধন/জীবনই পরম নিরাপন….বাউলেরা কয়॥/জীবন তীর্থ ধর্মপথ….এই কথা বাউলের মত/বস্তুবাদী বাউল আদৎ….কহ কেহ কয়॥/না করে অনুমান ভজন…..করে না মুক্তির কারণ/জীবনই পরম নিরাপন…..দীন দুদ্দু জানায় ্॥”
অর্থাৎ স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, বাউলের জীবন বস্তুবাদী জীবন। লোকায়তিকরা দেহ-নিরপেক্ষ আত্মা, পরকাল, পরলোক, ঈশ্বর মানেন না তেমনিভাবে বাউলরাও ঐ সকল বিষয়ের প্রতি বীতস্পৃহ বা বীতশ্রদ্ধ। তাঁরা একমাত্র দেহেরই অনুগত। সেজন্যই তাঁদেও উক্তিÑ“দেহের দলপদ্ম বারÑ উপাসনা নেইরে তার
অন্য কোথা কি মেলে।/তীর্থ ব্রত যার জন্যেÑ এই দেহে তার সব লীলে”।
দেহস্থ সেই লীলাকারী, লীলাময় সত্বাকে বাউলগণ বস্তুতত্ত্বদ্বারা উপলব্ধির প্রয়াস পেয়েছেন। তাঁরা অলৌকিকতাকে আদৌ প্রশ্রয় দেননি। সুতরাং বস্তু নিরপেক্ষ আল্লা-হরি বাউলের কাছে মূল্যহীন এবং সেজন্য তাঁরা বলেছেনÑ
বস্তু ছাড়া নাহি আর আল্লা কিংবা হরি/এহি মত দেখ সবে নর বস্তু ধরি ॥
অর্থাৎ মানব নরনারীই সকল সাধনার লক্ষ্যমূল। এরা কেউ কেউ নারীর রজ বীর্যকে সাধনার উপায় হিসেবে মনে করেন এবং একদল বাউল একেশ্বরবাদী চিন্তায় মানুষকেই সর্ব সাধনার আঁধার মনে করেন। এ সম্প্রদায়টি বৈঞ্চব মতবাদ ও সুফী মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত। মূলত হিন্দু-মুসলমানের যাপিত ধর্মজীবনে ভক্তিবাদ পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নেয়। ভক্তি রসামৃত পান করে অমীয় সুন্দরের স্থিতি নিজের মধ্যে আবিস্কারই এর অন্যতম লক্ষ্য। এরা নির্দিষ্ট নিয়মের নিগড়ে সীমাবদ্ধ তবে জাতপাত কিংবা আনুষ্ঠানিক ধর্মাচার এদের নেই। সুলতান এ ঘরানার একজন উচাঙ্গ মার্গীয় সাধক। তিনি ব্যক্তি জীবনে উদার, নিরংকারী, মানবতার প্রতি নিবেদিত,পরমত সয়িঞ্চু, সদা হাস্যময় ও নিরাভরণ জীবনের অধিকারী ছিলেন।ব্যক্তি জীবনের বাইরে শিল্পী হিসেবে যাপিত জীবনে সুলতান গ্রাম, নিসর্গ, প্রকৃতি, শ্রমজীবী মানুষ এবং পরবর্তীত জীবনের প্রেক্ষাপটে মানবতার মূল্যবোধকে তুলির পরশে চিত্রে অনন্য সাধারণভাবে চিত্রিত করেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন নিরাপদ নির্মল পৃথিবী যেন সুন্দরের প্রতিভু , পবিত্রতার প্রতীক শিশুদের বাসযোগ্য হয়। তাই তিনি গঠন করলেন শিশুস্বর্গ এবং সত্যের সন্ধানে ব্রতী, সুকুমার হৃদয়বৃত্তিকে লালন করে প্রত্যেকে আমরা যেন পরের ত্বরে উৎসর্গীকৃত হতে অভ্যস্ত হই এজন্য তিনি তৈরি করলেন লাল বাউল। সুতরাং বাউলের চেতনা সুলতানের স্বপ্নের রূপকল্প। সে দৃষ্টিতে সুলতান একাধারে একজন শিল্পী এবং বাঊল। কারণ তিনি ছিলেন সত্য সুন্দরের প্রেমে মশগুল এক বিহবল মানুষ। তিনি নিজের মাঝে নিজেকে আবিষ্কার করেছিলেন বলেই ¯্রষ্টার করুণার দান সৃষ্টিরাজির সবকিছুকে সুলতান মরমের মাঝে আপন করে নিয়েছিলেন। অন্যদিকে ইপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছে কাক্সিক্ষত ফল লাভের জন্য ব্যবহৃত প্রক্রিয়াকেই সাধনা বলে। অর্থাৎ সাধনা হল একাগ্র মনে বিশেষ বিষয়ের প্রতি সম্পূর্ণ নিমজ্জমানতা । যিনি যত বেশি নিমজ্জিত হবেন তিনি ততধিক সফল সাধক। এ দৃষ্টিতে বলা যায় প্রায় অশিক্ষিত একজন মানুষ বিশেষ কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই কেবলমাত্র অভ্যন্তরীণ মেধার জোরে বিশ্বদরবারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন তা কেবল নিরবচ্ছিন্ন সাধনার জোরেই। সুতরাং সুলতান একজন যথার্থ সাধক। এবার সংক্ষিপ্তভাবে সুলতানের জন্ম, জীবন ও চিত্রশিল্প চর্চার উপর আলোকপাত করে প্রসঙ্গ শেষ করতে চাই।
১৯২৪ সালের ১০আগস্ট নড়াইল পৌরসভার অধীন মাছিমদিয়া গ্রামে গরীব রাজমিস্ত্রী শেখ মেসের আলীর ঔরসে এবং মাজু বিবির গর্ভে শেখ মোহাম্মদ সুলতান (ডাক নাম লাল মিয়া) জম্মগ্রহণ করেন। সুলতান ১৯২৮ সালে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হয়ে মাত্র পাঁচ বছর শিক্ষা গ্রহণের পর রাজমিস্ত্রীর কাজে পিতার সহযোগী হিসেবে যোগ দেন। তিনি পিতার ইমারত তৈরির কাজ দ্বারা প্রভাবিত হন এবং কাজের ফাঁকে ফাঁকে আঁকাÑআঁকি করতে থাকেন। ১৯৩৪ সালে মি. আশুতোষ মুখার্জির ছেলে ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে আসেন। এ সময় সুলতান ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির পেন্সিল স্কেচ অংকন করেন। চিত্রটি ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে এবং এ চিত্রের মাধ্যমেই শিল্পী সুলতানের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৩৮ সালে একজন শিল্পপ্রেমী হিসেবে জমিদার মি. ধীরেন্দ্রনাথ রায় সুলতানের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সুলতানকে কলকাতা নিয়ে আসেন এবং প্রায় তিন বছর সুলতান কলকাতায় মি. রায়ের বাসভবনে থেকে লেখাপড়া করেন। এখানে থাকাকালীন তৎকালীন বিখ্যাত শিল্পসমালোচক ও কলকাতা আর্ট স্কুলের গভর্নিং বডির সদস্য প্রফেসর শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর ঘনিষ্ট সংস্পর্শে আসেন। এর ফলে কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তির যোগ্যতার অভাব থাকা সত্ত্বেও ১৯৪১ সালে সুলতান কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তির সুযোগ পান। আর্ট স্কুলের সকল ব্যয়ভার প্রফেসর শাহেদ সোহরাওয়ার্দী বহন করেন এবং সুলতানকে নিজের দত্তক পুত্রহিসেবে পরিচয় দান করেন । ১৯৪১ সাল হতে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত সুলতান কলকাতা আর্ট স্কুলে লেখাপড়া করে ঐ স্কুল ত্যাগ করেন। সময়ের পরিবর্তনের সিঁড়ি বেয়ে সুলতান জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহন করেন এবং বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পীর মর্যাদায় আসীন হন। তিনি কলকাতায় থাকাকালীন ফ্রিল্যান্স পেইন্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৪৩ সালে সুলতান কলকাতার খাকসার আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৫১ সালে তিনি পাকিস্তানের করাচিতে প্রত্যাবর্তনের পর একটা ফার্সি স্কুলের অংকন শিক্ষক হিসেবে দু’বছর দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তানে সে সময়কার বিখ্যাত শিল্পী নাগী, চুগতাই, শাকের আলী, শেখ আহম্মদ প্রমুখ তাঁর বন্ধু ছিলেন। ১৯৪৬ সালে ভারতের সিমলায় প্রথম তাঁর একক প্রদর্শনী আয়োজিত হয় এবং কর্পুরীতলার মহারাজা প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানে তাঁর একক প্রদর্শনী হয় এবং প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন ফিরোজ খান নুন (পরবর্তীকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী)। ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানের করাচিতে তাঁর একক প্রদর্শনী হয় এবং প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন মিস ফাতেমা জিন্নাহ। ১৯৫০ সালে লন্ডনের হ্যামস্টিডস্থ ভিক্টোরিয়া এমব্যাংকমেন্ট আয়োজিত গ্রুপ প্রদর্শনীতে পিকাসো, দালি, ব্রাক, ক্লী প্রমুখের সঙ্গে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি নিজ জম্মভূমি নড়াইলে প্রত্যাবর্তন করেন এবং নন্দন কানন প্রাইমারি স্কুল, নন্দন কানন হাই স্কুল এবং নন্দন কানন ফাইন আর্টস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৯ সালে নড়াইলের কুড়িগ্রামে ফাইন আর্টস ইনস্টিটিউট ও যশোরে একাডেমী অব ফাইন আর্টস নামে আর্টস ইনস্টিটিউট (বর্তমানে চারুপীঠ) প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে ও ১৯৮৭ সালে ঢাকাস্থ জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে তাঁর একক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা হয়। তিনি ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত ১ম ও ২য় জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে তিনি প্রথম এশিয়া চারুকলা প্রদর্শনী, বাংলাদেশের বিচারক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে তিনি নড়াইলে শিশুস্বর্গ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৫ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মান, ১৯৯৪ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন এবং ১৯৮৪ সাল হতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির রেসিডেন্ট আর্টিস্ট এর মর্যাদা পান। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। আমি তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। (ইন্না লিল্লাহে…রাজেউন)। ২০০০ সালে সরকার শিল্পীর জম্মভূমিতে “এস, এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা” কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। উপরোক্ত আলোচনায় সুলতানকে যথার্থই বাউল সাধকের মর্যাদায় সমুন্নত করা হোক এ আমার চেতনার অভিপ্রায়। জয় হোক শিল্পের, মর্মে সমুজ্জ্বল হোক বিগত, বর্তমান এবং অনাগত শিল্পীবৃন্দ।
লেখক: অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ, নড়াইল।

এই লেখার তথ্য উপাত্ত সবাই লেখকের একান্ত নিজস্ব। লেখাটি ভালো লাগলে আপনার মতামত জানাবেন। আপনার মতামত এ ধরণের লেখা প্রকাশে আমাদের অনুপ্রাণিত ও উৎসাহ যুগাবে। সুলতান, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ, নিহারঞ্জন গুপ্ত, কমলদাশ গুপ্তসহ নড়াইলের কৃতি সন্তানদের নিয়ে এধরণের লেখা থাকবে প্রতি সপ্তাহে। এছাড়া নড়াইলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য নিয়ে, নদী, খাল, বিলসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান নিয়ে প্রতি সপ্তাহে একটি করে লেখা নড়াইলকণ্ঠ পাটকদের জন্য প্রকাশের চেষ্টা থাকবে। পাঠকের মতামত, আগ্রহ ও পরামর্শ প্রত্যাশ করি।