গণমাধ্যমের ওপর চাপ গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত:টিআইবি

27

শত চাপ ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সাংবাদিকরা যদি সততা ও সাহসের সঙ্গে কাজ করেন তাহলে পরিবর্তনের ধারা সূচিত হবে। প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমেই জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে এবং তাদের মাঝে আশার সঞ্চার করতে হবে।

বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের পরিসর ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, নানা কৌশলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিসরকে সংকুচিত করে রাখা হয়েছে। এর ফলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চর্চা কঠিন হয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমের ওপর চাপ গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক ২০২০ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫১তম।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ‘তথ্য অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় এসব বিষয় তুলে ধরেছে টিআইবি।
সভায় ‘দুর্নীতিবিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২০’ ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশের গণমাধ্যম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে পারছে না মন্তব্য করে অধ্যাপক আফসান চৌধুরী বলেন, ‘গণমাধ্যম এখন নিজেকে সংবাদমাধ্যম হিসেবে না ভেবে উপরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ভাবছে। তারা অনুসন্ধানী না হয়ে এখন হেডলাইন নির্ভর। গণমাধ্যমকর্মীদের সফল হওয়ার চেষ্টা নেই, তারা প্রস্তুত না, এমনকি মালিকপক্ষও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয় না।’

এ থেকে বের হতে না পারলে গণমাধ্যম মুক্ত হতে পারবে না, গণমাধ্যমকর্মীরাও তাদের দায়িত্ব পালনে সফল হবে না বলেন আফসান চৌধুরী।

অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমই গতানুগতিক উল্লেখ করে গীতিআরা নাসরিন বলেন, ‘গণমাধ্যম ওয়াচডগের ভূমিকা কতটা পালন করতে পারছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। সব মিডিয়া একই ধরনের তথ্য প্রদান করছে। এক ধরনের ‘সহমত ভাই’ সাংবাদিকতা শুরু হয়েছে। প্রচলিত কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে এ ধারা থেকে বের হতে না পারলে গণমাধ্যমের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন এবং আশা তৈরি সম্ভব হবে না।’

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে পুরস্কার ঘোষণা ও সমাপনী বক্তব্যে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানানো গেলেও এই আইনের বাস্তবায়নে সরকারের একাংশের মানসিকতা হলো- ‘তথ্য হচ্ছে সরকারি সম্পত্তি’, এর নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে এবং সরকার যেভাবে যতটুকু তথ্য প্রকাশ করতে চাইবে ততটুকুই প্রকাশিত হবে।’

পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাবানদের একাংশের সমালোচনা সইবার সৎ সাহসের ঘাটতি থাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় বিবেচনায় তথ্য প্রকাশ একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেন ইফতেখারুজ্জামান।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে টিআইবি প্রধান বলেন, ‘গণমাধ্যমের ওপর এই চাপ গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত, বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অপ্রতিরোধ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। যেটি আত্মঘাতিমূলক এবং বুমেরাং হতে বাধ্য।’

আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ।