‘রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি, সমাধান তাদেরই করতে হবে’ -প্রধানমন্ত্রী

53

‘মিয়ানমার রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি করেছে। সুতরাং এর সমাধানও তাদেরকেই করতে হবে।’ এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’ গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে এবারের অধিবেশন ভার্চুয়ালি হচ্ছে। সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সরকার প্রধানরা অধিবেশনে তাদের পূর্বে রেকর্ড করা ভাষণ দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১১ লাখেরও বেশি মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে। যাদেরকে জোরপূর্বক উদ্বাস্তু বানানো হয়েছে। তিন বছরের বেশি সময় চলে গেছে। কিন্তু মিয়ানমার এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি।

তিনি বলেন, খুব শিগগিরই নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধের একটি কার্যকর টিকা বিশ্ববাসী পাবে বলে আশা করছি। ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে সেটিকে কোনো এক দেশের বা একক গোষ্ঠীর সম্পদ না ভেবে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। বিশ্বের প্রতিটি দেশ যাতে এক সঙ্গে এবং সময়মতো করোনার প্রতিষেধক পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

কারিগরি জ্ঞান ও মেধাস্বত্ব প্রদান করা হলে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণে ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে পারবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এ ভাইরাস মোকাবেলায় এবং এর থেকে মুক্তি পেতে আমাদের সকলের উদ্যোগ ও এজেন্ডা-২০৩০ অর্জনের প্রচেষ্টা সমানতালে এগিয়ে নিতে হবে।

ভাষণে শুরুতেই শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের এ সভাকক্ষটি তার জন্য অনেক আবেগের একটি স্থান। এই কক্ষে দাঁড়িয়ে ১৯৭৪ সালে তার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের হয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন। এই কক্ষে দাঁড়িয়েই বঙ্গবন্ধু প্রথম বাংলা ভাষায় ভাষণ দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা নিজেও ১৬ বার এই কক্ষে স্বশরীরে দাঁড়িয়ে বিশ্বশান্তি ও সৌহার্দ্যের ডাক দিয়েছেন। বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে এটি তার ১৭তম ভাষণ।

করোনার সংক্রমণের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যার দিনরাত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন সেসব স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিবকে সাধুবাদ জানাই, তিনি এ দুর্যোগ মোকাবেলায় তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেখিয়েছেন। নিয়েছেন বহু পাক্ষিক উদ্যোগ। যুদ্ধবিরতিসহ তার সকল উদ্যোগকেই বাংলাদেশ শুরু থেকে সমর্থন দিয়ে আসছে।