মেজর (অব:) সিনহা হত্যা তদন্ত রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে জমা হচ্ছে ৬ সেপ্টেম্বর!

31

দেশে বহুল আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিটির প্রতিবেদন আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রোববার মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিন ড্রাইভের একটি চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান।

শুক্রবার গণমাধ্যমকে তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তারা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট ৬৮ জনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। তাদের বক্তব্য এবং প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত যাচাই-বাছাই এবং বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর পরই কমিটির সকল সদস্য সর্বসম্মতভাবে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করেছেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রোববার এটি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।

সরকারের যুগ্ম-সচিব মিজানুর রহমান জানান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহার মৃত্যুর ঘটনাটি কেন ঘটেছে এবং এর জন্য কারা দায়ী- তা প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে। সেইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ থাকবে।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমাদের কমিটির তদন্ত কার্যক্রমের বাইরেও এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আদালতে দায়ের করা হত্যা মামলার বিচার চলছে। এখন আদালতই নির্ধারণ করবেন, ওই হত্যার ঘটনার জন্য কারা দায়ী। সেইসঙ্গে তাদের কী শাস্তি হবে সেটাও আদালতের এখতিয়ার। তবে আদালত মনে করলে আমাদের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন ব্যবহার করার এখতিয়ার তাদের আছে।

এদিকে, তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে যে, সিনহা রাশেদকে হত্যার ঘটনায় অযাচিতভাবে যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে। তাছাড়া ওই এময় এমন কোনো পরিবেশ বা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে গুলি চালানোর প্রয়োজন ছিল এবং হত্যাকান্ডের সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ ও ব্যবহার করেছেন বলেও উল্লেখ থাকবে প্রতিবেদনে।

উল্লেখ্য, মেজর সিনহা হত্যার পর গত ২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ কমিটি গঠন করা হয়। গত ৩ আগস্ট এ কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। ৭ কর্মদিবস তথা ১০ আগস্ট কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়। কিন্তু সে অনুযায়ী তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় কমিটির পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করলে তা বাড়িয়ে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়।

কিন্তু তদন্ত শেষ করতে না পারায় দ্বিতীয় দফা সময় বাড়ানোর আবেদন করে কমিটি। এর প্রেক্ষিতে আবারো সময় বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়। তবে মামলার অন্যতম প্রধান আসামি টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ টানা রিমান্ডে থাকায় তার বক্তব্য গ্রহণ করতে না পারায় ওই সময়ের মধ্যেও প্রতিবেদন দিতে পারেনি কমিটি। পরে প্রতিবেদন দাখিলের সময় তৃতীয়বারের মতো বাড়িয়ে ৭ সেপ্টেম্বর করা হয়। এর মধ্যে গত ২ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা কারাগারে প্রদীপ কুমার দাশের বক্তব্য গ্রহণ করেছে কমিটি।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল এসএম সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ বাহিনীর প্রতিনিধি অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক জাকির হোসেন খান এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলী।

বিস্তারিত জানতে ভিডিও দেখুন: