মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই

39

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৪ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) চিত্ত রঞ্জন দত্ত (বীর উত্তম) আর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। শেষ কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। মেজর জেনারেল (অব.) চিত্ত রঞ্জন দত্ত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি রানা দাশগুপ্ত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত মেয়ের বাসায় থাকতেন তিনি। বেশ কিছু রোগে এমনিতেই কাবু ছিলেন।

রানা দাশগুপ্ত আরো বলেন, গত শুক্রবার তিনি বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন। পায়ে বড় ধরনের ফ্র্যাকচার দেখা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা চলতে থাকলেও সময়ের ব্যবধানে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। মঙ্গলবার সকালে মৃত্যুর আগে তিনি প্রায় ২৪ ঘণ্টা ভেন্টিলেশনে ছিলেন।

‘আমরা চাই, তার মরদেহ বাংলাদেশে আসুক। কীভাবে সেটা করা যায়, তা নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’-যোগ করেন রানা দাশগুপ্ত।

উল্লেখ্য, ১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারি আসামের শিলংয়ে জন্ম নেয়া সি আর দত্তের পৈতৃক বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি গ্রামে। তার বাবার নাম উপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত এবং মায়ের নাম লাবণ্য প্রভা দত্ত। শিলং-এর ‘লাবান গভর্নমেন্ট হাইস্কুল’-এ দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। পরবর্তীকালে বাবা চাকরি থেকে অবসর নিয়ে হবিগঞ্জে গিয়ে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন৷ হবিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে ১৯৪৪ সালে তিনি মাধ্যমিক পাস করেন। পরবর্তীতে কলকাতার আশুতোষ কলেজে বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হয়ে ছাত্রাবাসে থাকা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে খুলনার দৌলতপুর কলেজের বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হয়ে এই কলেজ থেকেই বিএসসি পাস করেন৷

সি আর দত্ত ১৯৫১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কিছুদিন পর ‘সেকেন্ড লেফটেনেন্ট’ পদে কমিশন পান। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৪নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। তিনি সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সঙ্গে যুক্ত। হিন্দু বৈদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উৎযাপন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন তিনি।