‘আমাকে হত্যা করাই ছিল তাদের প্রধান টার্গেট’ -প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

61

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। আমাকে হত্যা করাই ছিল তাদের প্রধান টার্গেট। তবে বাংলাদেশের মানুষের জন‌্য কিছু করতেই আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তাছাড়া ২১ আগস্টের ভয়াবহ হামলায় আমার বেঁচে থাকার কথা নয়।

আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নিয়ে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গ্রেনেড হামলার ঘটনার ১৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এর পর থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নানা অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে। সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর বোমা হামলাসহ দেশের অন্তত ৫ শতাধিক স্থানে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, এসবের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আমরা সমাবেশ ও র‌্যালি করতে যাই। কিন্তু খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সেই সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। আমাকে হত্যা করাই ছিল তাদের হামলার প্রধান টার্গেট।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকটা ঘটনা ঘটার আগে খালেদা জিয়া ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলে এবং বক্তব্য রেখেছিলেন। সেগুলোই তা প্রমাণ করে। যেমন- কোটালীপাড়ায় বোমা হামলার আগে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ আগামী ১০০ বছর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ২১ আগস্ট বোমা হামলার আগে তিনি বলেছিলেন, কোনো দিন বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারবেন না শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, খালেদা জিয়ার এসব বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ওই গ্রেনেড হামলার সঙ্গে তারা জড়িত। তাছাড়া আলামত নষ্ট করাও এক্ষেত্রে একটি প্রধান প্রমাণ।

দলটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আলোচনা সভা পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে ১৯৭১, ১৯৭৫ ও ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভায় স্বাগত বক্তব‌্য রাখেন।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট চার দলীয় জোট সরকারের নৃশংস ওই গ্রেনেড হামলা ঘটনা ঘটে। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। তবে তার শ্রবণ শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। হামলায় প্রাণ হারান মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বেগম আইভি রহমানসহ ২৫ জন।

এ ছাড়া দেশের ইতিহাসে বর্বরোচিত ওই হামলায় অন্তত চার শ মানুষ আহত হন। তাদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। আবার অনেকেই আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি।