নিবন্ধন ছাড়াই চলছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাসপাতাল

75

নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মালিকানাধীন গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে সাড়ে সাত লাখ টাকা জরিমানা করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত টাস্কফোর্স। একইসঙ্গে পার্শ্ববর্তী সেবা জেনারেল হাসপাতালকেও সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) হাসপাতাল দুটিতে অভিযান চালানো হয়। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে দুপুর থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (হাসপাতাল) উম্মে সালমা তানজিয়া ও গাজীপুর র‌্যাব-১ এর কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (হাসপাতাল) উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স আছে কি না এবং সেগুলো ঠিক মতো সেবা প্রদান করছে কি না, সেটা দেখার উদ্দেশ্যেই অভিযান। কোনো প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ বা সিলগালা করার উদ্দেশ্য নেই। সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো সুষ্ঠু নিয়মে চলুক, নিয়মের মধ্যে থাকুক এবং সেবা প্রার্থীদের সেবা নিশ্চিত করুক, এটাই সরকারের চাওয়া।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে যে সার্কুলার জারি করা হয়েছিল সেটি বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, একটা মিডিয়া বলেছে যে অভিযান বন্ধ হয়ে যাবে। অভিযান বন্ধ হয়নি, এটাই তার প্রমাণ।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটির লাইসেন্স নেই এবং তাদের অপারেশন থিয়েটারে যেসব সার্জিক্যাল সামগ্রী পাওয়া গেছে সেগুলো ৫-৬ বছর আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। যা ব্যবহার করলে রোগীদের ক্ষতি হতে পারে। হাসপাতালটির চিকিৎসকরাও বলেছেন, এটা কাঙিক্ষত নয়।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবে অনুমতি ছাড়া ব্লাড ট্রান্সফিউশন করা হচ্ছে। অথচ এটা করতে হলে আইন অনুযায়ী লাইসেন্স করতে হবে। যে সব হাসপাতালের লাইসেন্স নেই, তাদের লাইসেন্স করতে আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত মন্ত্রণালয় সময় বেঁধে দিয়েছে। সে জন্যই হাসপাতালটি সিলগালা করা হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি তারা লাইসেন্স নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়া হবে।

পরে একই অভিযোগে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সেবা জেনারেল হাসপাতালেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানেও মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল সামগ্রী পাওয়া গেছে এবং অনুমতি ছাড়াই রক্ত পরিসঞ্চালন করছিল। এ সময় তাদের সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।