পুলিশের লাঠিচার্জ : সিফাতের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

34

কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত সাবেক সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে থাকা একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাহেদুল ইসলাম সিফাতের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুর ১২টায় বরগুনার বামনা উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অন্তত ১০ জন আহত হন।

জানা যায়, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দুপুরের দিকে সিফাতের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন শুরু করেন তার নিজ এলাকার সহপাঠী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় হঠাৎ পুলিশ এসে তাদের মানববন্ধনে বাধা দেয় এবং তাদের মাইক ও ব্যানার ছিনিয়ে নেয়। এরপরও শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন চালিয়ে যাচ্ছিলেন শিক্ষার্থীরা।

পরে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস আলী তালুকদার সেখানে এসে মানববন্ধনরত শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের নির্দেশ দেন। ওসির নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ শুরু করলে মুহূর্তেই শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ওসি ইলিয়াস আলী তালুকদার নিজেও শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ করেন। এত কমপক্ষে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

মানববন্ধনটির আয়োজক বামনা সারওয়ারজান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মনোতোষ হাওলাদার বলেন, সিফাত এই এলাকারই ছেলে। তিনি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী। অথচ তাকেই দুটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এত বড় একটি ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শীকে জেলে রাখা মোটেই কাম্য নয়। তাই তার মুক্তির দাবিতে তার সহপাঠী ও এলাকার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। পাশাপাশি মানববন্ধনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। কিন্তু বামনা থানা পুলিশ তাদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে এসে বাধা দেয় এবং শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে।

পুলিশের লাঠিচার্জে আহত রুবেল নামের একজন বলেন, সিফাত অত্যন্ত ভালো ছেলে। তার বিরুদ্ধে আর যাই হোক মাদকের মামলা দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই নির্দোষ সিফাতের মুক্তির দাবিতে তারা মানববন্ধন করছিলেন। কিন্তু পুলিশ এসে তাদের ব্যানার-ফেস্টুন ছিনিয়ে নেয় এবং মানববন্ধনকারীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে।

তবে লাঠিপেটার কথা অস্বীকার করে বামনা থানার ওসি ইলিয়াস আলী তালুকদার বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা নিহতের ঘটনাটি একটি রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতর বিষয়। শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের বিষয়ে কিছু জানায়নি। তাই নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে পুলিশ সদস্যরা মানববন্ধনে বাধা দিয়েছে।