চামড়ার বিপর্যয়, দাম সর্বনিম্ন

40

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : প্রতিবছর কোরবানি ঈদের চামড়া নিয়ে নানা লুকোচুরি শুরু করে চামব্যবসায়ী সিন্টিগেটরা। এবারও তার ব্যতয় ঘটেনি।

জানাগেছে, দাম নির্ধারণ ও রপ্তানির ঘোষণা দেওয়ার পর কোরবানির পশুর চামড়ার দামের বিপর্যয় ঠেকানো গেল না। রাজধানীতে গরুর চামড়া আকারভেদে ১৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের চামড়ার দাম ২-১০ টাকা। এছাড়া রাজধানী ছাড়াও সারাদেশেই চামড়ার বাজারে চলছে মন্দা , সরকারের নির্ধারিত দাম পাচ্ছে না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

ঢাকার জিগাতলা ট্যানারি মোড় ও পোস্তার আড়তে শনিবার দুপুর থেকে বিকেলে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেল। গতবারের চেয়ে ২০ থেকে ২৯ শতাংশ কমিয়ে ধরলেও নির্ধারিত দামের চেয়েও অনেক কমে বিক্রি হচ্ছে চামড়া।

আড়তদার ও ট্যানারির মালিকেরা বলছেন, চলতি বছর চামড়া ৩০-৩৫ শতাংশ কম, বেশ চাহিদা, এমন পুরোনো যুক্তিই দেখাচ্ছেন তাঁরা।

আজিমপুর থেকে পোস্তায় ঢোকার মুখে সড়কের পাশে বসে শফিকুর রহমান চামড়া কিনছিলেন। বললেন, বড় গরুর চামড়া ৫০০-৬০০ ও মাঝারি গরুর চামড়া ৩০০-৩৫০ টাকায় কিনেছেন। আর ৪ পিছ ছাগলের চামড়া কিনেছেন ১০ টাকায়। দামের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘মোটামুটি কমই।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে চামড়াশিল্পের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে। ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ধরা হয়েছে। আবার দরপতন ঠেকাতে ২৯ জুলাই কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আর ঢাকার বাইরে গরুর চামড়ার দাম ধরা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা। এ ছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া গত বছরের প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৩ থেকে ১৫ টাকা করা হয় ।

গতবার চামড়া কিনে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়েছেন। তাই এবার তেমন ব্যবসায়ীরা মাঠে ছিলেন তুলনামূলক কম। মোহাম্মদপুর থেকে ১২-১৫টি গরুর চামড়া কিনে ভ্যানে নিয়ে পোস্তায় আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. শহীদ।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান বলেন, কাঁচা চামড়া যে দামে বিক্রি হচ্ছে তা ঠিকই আছে। কারণ প্রতি বর্গফুট চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে ৮ টাকা খরচ হয়। তা ছাড়া আড়তদারেরা নগদ অর্থের সংকটে আছেন। বেশির ভাগ ট্যানারির মালিক আড়তদারদের বকেয়া পরিশোধ করেননি।

দাম কম হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ছোট চামড়াই বেশি আসছে এবার। চামড়া প্রক্রিয়াজাতে লবণের খরচ আছে। কাটিংয়েও বাদ যাবে কিছু চামড়া। তা ছাড়া শেষ পর্যন্ত কী দাম পাওয়া যাবে, তা নিয়ে আশঙ্কায় আছেন অনেক ব্যবসায়ী।

বড় আকারের গরুর চামড়া গড়ে ৩৫-৪০ বর্গফুট, মাঝারি আকারের গরুর চামড়া গড়ে ২৫-৩০ এবং ছোট আকারের গরুর চামড়া গড়ে ১৬-২০ বর্গফুটের হয়। তাতে সরকারের নির্ধারিত দাম হিসাব করলে বড় চামড়া কমপক্ষে দেড় হাজার টাকা, মাঝারি চামড়া হাজার টাকা ও ছোট চামড়ার দাম হয় কমপক্ষে ৬০০ টাকা। তার থেকে প্রক্রিয়াজাত, শ্রমিকের মজুরি ও আড়তদারের মুনাফা বাদ দিলেও যা দাঁড়ায় তার কাছাকাছি দামেও চামড়া বিক্রি হয়নি।

এছাড়া সারাদেশ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে ব্যাবসায়ীরা । বগুড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল সারিয়াকান্দির বোহাইল ইউনিয়নের আজম আলীর বাড়িতে চারটি গরু ও তিনটি ছাগল কোরবানি হয়েছিল।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের চৌমুহনীর এক আড়তদারের প্রতিনিধি মো. আলম জানান, ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে তারা চামড়া কিনে নিচ্ছেন। কিছু লাভে সেগুলো আড়তে পাঠিয়ে দেবেন।

ঢাকার রূপনগরের মুদি দোকানি আবুল কালাম জানান, তারা এক লাখ ১০ হাজার টাকা দামের যে গরু কেরবানি দিয়েছেন, ঈদের দিন সন্ধ্যা অবধি তার চামড়া কিনতে কেউ আসেনি।

এবারের ঈদে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সারাদেশের চিত্র এমনই। সবাই বলছেন, এবার জলের দরে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে।

গতবার চামড়া নিয়ে যে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিল, তার সঙ্গে করোনাভাইরাস মহামারী যোগ হওয়ায় চামড়া কিনতে মৌসুমী ক্রেতা বা ফড়িয়াদের আনাগোনা এবার তেমন দেখা যায়নি।

সারা দেশে খাসির চামড়া গত বছরের প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা থেকে ২৭ শতাংশ কমিয়ে ১৩ থেকে ১৫ টাকা করা হয়। আর বকরির চামড়া গত বছরের ১৩ থেকে ১৫ টাকা বর্গফুটের দর থেকে কমিয়ে এবার ১০ থেকে ১২ টাকা করা হয়েছে।