দেশে ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৫৫ জন, নতুন আক্রান্ত ৩,০২৭ জন

62

দেশে করোনা শনাক্তের ১২২তম দিনে ২৪ ঘন্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ১৫১ জন।

গতকালের চেয়ে আজ ১১ জন বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল ৪৪ জন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। গতকালের চেয়ে আজ মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বেশি।

আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ১৩ হাজার ১৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ২৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ১৭৪ জন কম শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল ১৪ হাজার ২৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ৩ হাজার ২০১ জন।

তিনি জানান, দেশে এ পর্যন্ত মোট ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৩ জন। গতকালের চেয়ে আজ ১ হাজার ৫৭১ জন কম সুস্থ হয়েছেন। গতকাল সুস্থ হয়েছিলেন ৩ হাজার ৫২৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭৮ হাজার ১০২ জন।

তিনি জানান, আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৪৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ কম।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৯১ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৫ হাজার ২০১ জনের। গতকালের চেয়ে আজ ১ হাজার ৭১০টি নমুনা কম সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৭৪টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩ হাজার ১৭৩ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৪ হাজার ২৪৫ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ১ হাজার ৭২টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।

তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৪৬ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৭০৩ জন এবং নারী ৪৪৮ জন। মৃত্যুবরণকারী ৫৫ জনের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ২১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২ জন এবং ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১ জন, খুলনা বিভাগে ৬ জন, সিলেটে ২ জন, রংপুর বিভাগে ৮ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৪১ জন এবং বাসায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪ জন। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে হাসপাতালে ৩৯ জন, বাড়িতে ১৫ জন এবং হাসপাতালে মৃত অবস্থায় এসেছেন ১ জন

নাসিমা সুলতানা জানান, এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২৫ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৭১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৫৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩২৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৬২৪ জন এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সের ৯২৪ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২ জন, খুলনায় ৭ জন, বরিশাল বিভাগে ২ জন, সিলেট ২ জন, রংপুর বিভাগে ২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন রয়েছেন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫১ দশমিক ৩৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগের ২৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ৩ দশমিক ০২ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২ দশমিক ৪২ শতাংশ।

তিনি জানান, ‘ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ৭৫টি, আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ১৪৯টি। সারাদেশে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৭৫টি, আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৪০১টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১১ হাজার ৫২০টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ২২৪টি এবং সারাদেশে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ৯৯৯টি। সারাদেশে সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ১৫৬ জন, আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ২১০ জন।

০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে বলে তিনি জানান।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৮০২ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৬ হাজার ৮৭৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭২৩ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ১৫ হাজার ৪৭৮ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন করা হয়েছে ৩২ হাজার ৩৫১ জনকে।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৪৩৮ জনকে। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৭৯৮ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৬৭ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬৩ হাজার ৪৪১ জন।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) ২৪ ঘন্টায় বিতরণ হয়েছে ৪ হাজারটি। এ পর্যন্ত সংগ্রহ ২৫ লাখ ২৮ হাজার ২৪৫টি। এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৪টি। বর্তমানে ১ লাখ ২ হাজার ৪৮১টি পিপিই মজুদ রয়েছে।

গত ২৪ ঘন্টায় হটলাইন নম্বরে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮৫টি এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ৩ হাজার ৪৩৯টি ফোন কল রিসিভ করে স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪৩৮ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।

ডা.নাসিমা সুলতানা জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ১ হাজার ১২৩ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৭ লাখ ৪৫ হাজার ১৬২ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৬ জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৮ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৫১৯ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৬৩ জন এবং এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ৩৬ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৬ জুলাই পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২ হাজার ৫৪৫ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৯০ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ১৩৪ জন এবং এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৩২ হাজার ৩৪০ জন বলে তিনি জানান।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে থাকা, সাবান পানি দিয়ে বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া, বাইরে গেলে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।

তিনি বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।