সিগারেটসহ সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য নিষিদ্ধ ঘোষণা

108

দেশজুড়ে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশ জটিল হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিড়ি-সিগারেটসহ সব ধরনের তামাক জাতীয় দ্রব্য উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী যুগ্ম সচিব মো. খায়রুল আলম শেখ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের তামাক কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ অনুমতিপত্র প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, তামাককে করোনার সংক্রমণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বলা হয়েছে। কারণ ধূমপানের কারণে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সংক্রমণ এবং কাশিজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাছাড়া অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের করোনা সংক্রমণে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, অধূমপায়ীদের তুলনায় করোনায় আক্রান্ত ধূমপায়ীদের মৃত্যুঝুঁকি ১৪ গুণ বেশি। ইতোমধ্যে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাময়িকভাবে সিগারেট ও তামাক জাতীয় দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়, সীসা বার, উন্মুক্ত স্থানে পানের পিক ফেলার মতো বিষয়গুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় করোনা মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে সরকার। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগও ভাইরাসটির মোকাবেলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তামাক কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ অনুমতিপত্র প্রদান বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

তাই জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সংক্রামক রোগ আইন-২০১৮ অনুযায়ী, বাজার, গণজমায়েত সাময়িকভাবে বন্ধ, দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো এতদিন শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার অজুহাত দিয়ে আইন ভঙ্গ করে চলেছে।