বাঁচতে হলে জানতে হবে করোনার ৮টি নতুন লক্ষণ

112

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক: বৈশ্বিক মহামারি (কোভিড-১৯) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৩ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রামিত হয়েছেন ৪৮ লাখের বেশি। সংক্রমণ শুরুর পর থেকে এখন অবধি বেশ কয়েকবার চরিত্র বদল করেছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি। ছড়িয়েছে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার মাঝে। তাই একেক জনের মধ্যে এর একেক রকম লক্ষণ দেখা গেছে।

সাধারণত জ্বর, সর্দি, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অবসন্নতা করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মাঝে দেখা গেছে। তবে কোনো ধরনের লক্ষণ ছাড়াও আক্রান্তের সংখ্যা কম নয়। এর বাইরেও নতুন ৮টি উপসর্গ করোনা আক্রান্তদের মাঝে খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে চলুন জেনে নেওয়া যাক সেইসব নতুন লক্ষণ সম্পর্কে।

ডায়রিয়া ও পেটে ব্যথা: সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়, করোনাভাইরাস মানুষের শরীরের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্রাক্ট আক্রান্ত করে। ফলে সংক্রমিত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে কারো কারো ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি এ কারণে পেটে ব্যথার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

বমি এবং বমি বমি ভাব: ওই একই সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টে আক্রান্ত হলে সেখানে সাইটোকাইনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এটি নিউরোলোজিক্যাল জড়িত সমস্যা হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির বমি বা বমি বমি ভাব হতে পারে।

একই ধরনের লক্ষণের কথা বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা আক্রান্ত ৫ শতাংশের শরীরে এই ধরনের লক্ষণ দেখা গেছে।

গোলাপী চোখ বা পিংক আই: সম্প্রতি চীনে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের নিয়ে করা এক জরিপে দেখা গেছে, কিছু কিছু রোগীর চোখের পাতা গোলাপী হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা একে পিংক আই বা কনজেক্টিভা বলে থাকেন। মূলত এটি হলো চোখের পাতার অভ্যন্তরে স্পষ্ট পাতলা একটি ঝেল্লা। তবে করোনাভাইরাস ছাড়াও আরো অনেক গুরুতর রোগে আক্রান্তদের মধ্যেও এই ধরনের লক্ষণ দেখা যায়।

স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া: করোনাভাইরাস আক্রান্তদের নিয়ে করা অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, রোগীদের একটি বড় অংশ কোনো ধরনের স্বাদ বা গন্ধ পান না। প্রাথমিকভাবে এটিকে সাধারণ লক্ষণ মনে করা হলেও গবেষকদের পরামর্শ এ দুটিকে করোনাভাইরাসের গুরত্বপূর্ণ লক্ষণের তালিকায় যুক্ত করা উচিত।

চিলব্লায়েন্স বা কোভিড পদাঙ্গুলি: করোনাভাইরাস আক্রান্ত অনেক রোগীর পায়ের আঙ্গুল এবং আঙ্গুলের ফাঁকে চিলব্লিনের মতো একাধিক ক্ষত থাকার লক্ষণ দেখা গেছে। বিশেষ করে শিশু এবং অল্প বয়স্কদের মধ্যে এই লক্ষণ বেশি পরিমাণ দেখা গেছে। চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীরা এটিকে কোভিড পদাঙ্গুলি বলে অবিহিত করছেন।

র‍্যাশ এবং রক্ত জমাট বাঁধা: ইতালিসহ বেশ কয়েকটি দেশের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস আক্রান্ত শিশুদের শরীরে র‍্যাশ এবং রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ দেখা গেছে। যা করোনা কোভিড-১৯ এর কারণে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব লক্ষণ ছাড়াও শিশুদের শরীরে ফুসকুড়ি, ঠোঁট শুষ্ক হওয়া এবং ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ পাওয়া গেছে।

ইতালির একদল গবেষক তাদের প্রতিবেদনে বলেছেন, তারা ৮৮ জন কোভিড আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে গেবেষণা করেছেন। গবেষণায় তারা দেখেছেন, আক্রান্তদের ২০ শতাংশের শরীরের ত্বকে লাল ফুসকুড়ি, ফোসকা, ছত্রাক ও রক্ষ জমাট বাঁধার মতো উপসর্গ রয়েছে।

মাথা ব্যথা: ডব্লিউএইচও’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ১৪ শতাংশের মাথা ব্যাথা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, করোনার অনেক লক্ষণের মধ্যে এটিও একটি।

মাথা ঘোরা: চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সেখানের হুয়াহং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ সংক্রমিত রোগীদের ৩৬ শতাংশেরই মাথা ব্যথা ও মাথা ঘোরার মতো সমস্যা ছিল। তাই কেউ যদি এই ধরনের সমস্যায় ভোগেন তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকরা।