৪২ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রেসলেট মাশরাফীর কাছেই থাকছে

177

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : ১৮ বছরের নিত্যসঙ্গী নিজের ব্রেসলেট করোনাকালে বিপদে পড়া মানুষের সাহায্যার্থে নিলামে তুলেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ৫ লাখ টাকা ভিত্তিমূল্যের তার সেই ব্রেসলেট ৪২ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রিও হয়েছে।

নিলামে সর্বোচ্চ দর ৪০ লাখ টাকার ডাকের সাথে আরও ২ লাখ টাকা যুক্ত করে ব্রেসলেটটি ৪২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। রবিবার (১৭ মে) দিবাগত রাত ১২টা ৪৩ মিনিটে ‘অকশন ফর অ্যাকশন’ এর ফেসবুক পেজে নিলামটি শেষ হয়।

দামের দিক থেকে সাকিব ও মুশফিকের ব্যাটকে ছাড়িয়ে গেল মাশরাফীর ব্রেসলেট। এর আগে বিশ্বকাপে সাকিব যে ব্যাট দিয়ে ৬০৬ রান করেছেন, সেই ব্যাটটি নিলামে বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ টাকা। মুশফিকুর রহিম যে ব্যাট দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে করেছেন প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি, সেই ব্যাটটি নিলামে শহীদ আফ্রিদি কিনেছেন ২০ হাজার মার্কিন ডলার দিয়ে(বাংলাদেশী মুদ্রায় ১৭ লাখ টাকা)।

ব্রেসলেটটি কিনেছে বাংলাদেশ লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিং অ্যাসোসিয়েশন। তবে কেনার পরও প্রতিষ্ঠানটি সেটি না নিয়ে তা মাশরাফীকেই ফিরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আপাতত ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক ব্রেসলেটটি হাত থেকে খুলে রাখলেও পরবর্তীতে বাংলাদেশ লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিং অ্যাসোসিয়েশন করোনা দুর্যোগ কেটে গেলে বড় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নড়াইল এক্সপ্রেসের ফাউন্ডেশনের হাতে ব্রেসলেটটি পরিয়ে দেবে বলে অঙ্গীকার করেছে। মূলত খেলার মাঠে মাশরাফীর ১৮ বছরের ক্যারিয়ারকে সম্মান জানাতেই ব্রেসলেটটি তাকেই ফিরিয়ে দেয়া হবে।

ব্রেসলেটটি নেহায়েতই সাধারন ধাতু দিয়ে তৈরি, গোল্ড প্লেটেড নয়, বসানো হয়নি কোনো রত্ন। তারপরও এই ব্রেসলেটটি মাশরাফীর সঞ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। অথচ বাবার ভয়ে শৈশবে ব্রেসলেট হাতেই দিতে পারতেন না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর অবশ্য বাবা দেয়নি বাধা।

প্রিয় ব্রেসলেটটি নিলামে তোলার ঘোষণা দিয়ে মাশরাফী ফেসবুককে লিখেছিলেন, “গত ১৮ বছরে খুব কম সময়ই এটি খুলেছি হাত থেকে। অপারেশনের সময়, এমআরআই করানোর সময় খুলতে হয়েছে। আর কয়েকটি ম্যাচ বা কিছু সময়ের জন্য খুলেছি শুধু। তবে যখনই খুলেছি, কখনোই স্বস্তি বোধ করিনি। মনে হতো, কী যেন নেই, খালি খালি লাগত। আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, এটি আমার সৌভাগ্যের প্রতীক।”

“আমার ক্যারিয়ারের সব উত্থান-পতনের স্বাক্ষী এই ব্রেসলেট। যত লড়াই করেছি, মাঠের ভেতরে-বাইরে যত কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে, সব কিছুর স্বাক্ষী এটি। আমার ১৮ বছরের সুখ-দুঃখের সাথী। আমার অনেক আবেগ-ভালোবাসা জড়িয়ে এটিতে, এই ব্রেসলেটকে আসলে ব্যাখ্যা করা আমার জন্য খুব কঠিন।”