নড়াইলের মেয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী ভারোত্তোলন কোচ

334

নড়াইল কণ্ঠ : শুচি নড়াইলের মেয়ে। তাঁর পুরা নাম শাহরিয়া সুলতানা শুচি। সবাই তাঁকে ডাকেন শুচি বলে। পড়াশুনা করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়াতে।

জানাগেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিষয়ে পড়াশুনার সময় থেকেই খেলাধুলার সাথে যুক্ত হন। দেশের অন্যতম সেরা নারী ভারোত্তোলক মোল্লা সাবিরা সুলতানার উৎসাহে ছাত্র জীবনে ভারোত্তোলন খেলার সাথে যুক্ত হন। ২০০৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশের সর্বপ্রথম নারী ভারোত্তোলন প্রশিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে(এনএসসি)। ২০০৬ সালে এনএসসিতে শুরু করা প্রশিক্ষকের চাকরীটা চালিয়ে যাচ্ছেন বেশ ভাল ভাবেই।

শাহরিয়া সুলতানা শুচি পছন্দ করেন তৃণমুল পর্যায়ে নবীন ছেলে ও মেয়েদের নিয়ে কাজ করতে।

তিনি বাংলাদেশে প্রথম নারী কোচ হিসেবে ২০০৭-২০০৮ সালে ভারতের পাঞ্জাবের পাতিয়ালায় ভারোত্তোলের উপর করেন ডিপ্লোমা কোর্স। ঐ সেশনে অংশ নেয়া মেয়েদের মধ্যে মেধা তালিকায় প্রথম হন তিনি।

শাহরিয়া সুলতানা শুচি ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে জাতীয় পর্যায়ে খেলেছেন বাংলাদেশ আনসার দলে।

তিনি খেলোয়াড়ী জীবনে রেকর্ড গড়েন ১৫টির অধিক। জাতীয় পর্যায়ে গোল্ড মেডেল পান ১৩টি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম অংশ নেন ২০০৫ সালে কাতারের দোহাতে অনুষ্ঠিত আইডাব্লিউএফ ওয়ার্ল্ড ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে।

এছাড়া তিনি ২০১১ সালে চীনে অনুষ্ঠিত আইডাব্লিউএফ গ্র্যান্ড প্রিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে পান ব্রোঞ্জ পদক পান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম স্বর্ণ পদক পান ২০১২ সালে। ২০১২ সালের ২২-২৪ মার্চ নেপালে অনুষ্ঠিত প্রথম সাউথ এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপ। উক্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ৭৫ কেজি ওজন শ্রেণীতে। স্ন্যাচে ৬৫ ও ক্লিন এন্ড জার্ক এ ৮৮ মোট ১৫৩ কেজি তুলে স্বর্ণ পদক জয় করেন শুচি।

উল্লেখ, এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পক্ষে ভারোত্তোলন ডিসিপ্লিনে সর্বপ্রথম স্বর্ণ পদক জয় করেন মোল্লা সাবিরা ও শাহরিয়া সুলতানা।

নড়াইলের মেয়ে শাহরিয়া সুলতানা শুচি বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম নারী রেফারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দক্ষিণ কোরিয়াতে অনুষ্ঠিত “এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০০৮”।

তিনি সুনাম ও মেধার সাথে ২০০৮ সাল থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মোট ২৩টি প্রতিযোগিতায় রেফারী ও টেকনিক্যাল অফিসিয়াল হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।