যশোর অঞ্চলের সব্জীচাষীদের লোকসান ঠেকাতে সেনাবাহিনীর তৎপরতা

347

নড়াইল কণ্ঠ : বৈশ্বিক মহামারি (কোভিড-১৯) করোনাভাইরাস প্রতিরোধকল্পে প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত নীতিমালা অনুসরন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা অব্যহত রেখেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) যশোর অঞ্চলে কৃষকের লোকসান ঠেকাতে ন্যায্যমূল্যে সরাসরি মাঠ থেকে সবজি ক্রয় শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের ফলে স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন এসব এলাকার কৃষকেরা।

উল্লেখ্য, দেশের প্রধান সব্জী উৎপাদনের মাঠ হচ্ছে যশোর অঞ্চল। এ অঞ্চলের সব্জীচাষীরা করোনার প্রভাবে তাঁদের উৎপাদিত সব্জী নিয়ে পড়েছেন বেপাকে। পরিবহণ ও পাইকার সংকটের কারণে প্রকৃত মূল্য পাচ্ছেন না তাঁরা। সব্জীর এই ভরা মৌসুমে সময়মতো বিক্রি না হওয়ায় অনেকের উৎপাদিত সব্জী খেতেই নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে।

যশোর অঞ্চলের কৃষকের এ পরিস্থিতিতে যশোর সেনানিবাসের সদস্যরা সব্জী চাষীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে যশোর সেনানিবাসের ইউনিটসমুহ যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সরাসরি মাঠে গিয়ে অসহায় কৃষকদের ক্ষেত হতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্রয় করে তাদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এতে স্বস্তি ফিওে আসতে শুরু করেছে চাষীদের মনে। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন তাঁরা।

এছাড়াও যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় করোনা সংক্রমন বিস্তার ঠেঁকাতে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা প্রতিনিয়ত সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানুষের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং লিফলেট বিতরণ, অসহায় ও হত দরিদ্রদের মাঝে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণ, বিনা প্রয়োজনে মানুষ যাতে যত্রতত্র ঘোরাফেরা না করতে পারে সে দিকে নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিয়মিত বাজার মনিটারিং করার কাজে বেসামরিক প্রশাসনকে যথাসাধ্য সহযোগিতার পাশাপাশি কখনো কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে দরিদ্রতা মোকাবেলায় খেটে খাওয়া, অসহায় এবং ভ্রাম্যমান মানুষদের হাতে নিয়মিত খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়া অব্যাহত রেখেছে।

করোনা মহামারি মোকাবেলায় সেনাবাহিনির নানামুখি মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি নিয়েছেন তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।