নির্বাচনে হারাতেই চীন ইচ্ছাকৃতভাবে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে -ট্রাম্প

93

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে দেশটির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তার প্রশাসন কিংবা দেশটির গোয়েন্দারা। প্রথমদিকে তো বিষয়টি নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। তার পর আস্তে আস্তে যখন ভাইরাসটি যুক্তরাষ্ট্রে তাণ্ডব শুরু করতে থাকে, তখন সমালোচনা বা অভিযোগের পারদ বাড়তে থাকে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ অভিযোগ হলো- আগামী নভেম্বর মাসে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, সেই নির্বাচনে তাকে হারাতেই চীন ইচ্ছাকৃতভাবে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করছেন, চীনের সঙ্গে তিনি যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছেন, এতে চীনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর সে কারণে বেইজিং চায়, তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ক্ষমতায় বসাতে।

বিবিসি বলছে, চলতি বছরের নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। কিন্তু বছরের শুরু থেকেই দেশটিতে শুরু হয়েছে করোনাভাইরাসের তাণ্ডব। স্বাভাবিকভাবেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাসটি ছড়াতে ভূমিকা রেখেছে চীন। যাতে তাকে আগামী নির্বাচনে হারিয়ে দেওয়া যায়।

চীনে ভাইরাসটির উৎপত্তি হলেও সেখানে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে সে বিষয়টিই উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেছেন, চীন যেভাবে মহামারি নিয়ন্ত্রণে এনেছে, তা থেকেই প্রমাণ হয় যে, আমি যেন নির্বাচনে হেরে যাই, সেটাই চায় বেইজিং।

প্রসঙ্গত, এর আগেও চীনের বিরুদ্ধে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারার অভিযোগ আনেন ট্রাম্প। তার ধারণা, ভাইরাসটি সম্পর্কে চীন বিশ্বকে যথাযথ তথ্য দেয়নি।

আবার চীনকে জড়িয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেন, তার দেশ বেশি অর্থ দিলেও সংস্থাটির চীনমুখিতা দেখা যাচ্ছে এবং কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সংস্থাটি তাদের মৌলিক দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। এ অভিযোগ তুলে সংস্থাটিতে অর্থায়ন বন্ধের নির্দেশও দেন তিনি।

দুই দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, করোনাভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা রয়েছে। তাই সব দেশের উচিত, চীনের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া।

অন্যদিকে, মার্কিন গোয়েন্দারা এর আগে অভিযোগ করেন, চীনের উহানের একটি গবেষণাগার ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। সেখানে তারা জৈব অস্ত্র নিয়ে গবেষণা করছে।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে চীনের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘটনাও ঘটেছে। সেখানে ক্ষতিপূরণও দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন গণনাকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত দেশটিতে এক লাখ ৬৪ হাজার লোক কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছে ৬১ হাজারের বেশি। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ।