নড়াইলের পেড়লী ইউপি চেয়ারম্যানের নামে দুদকের মামলা

115

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যার নামে ভিজিডি চাল আত্মসাতের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোর মামলা করেছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে এ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদক এ মামলা দায়ের করে। একই সাথে দুদক চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনী নির্দেশনা দিয়েছে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক যশোরের উপ-পরিচালক নাসমুসাদাত।

‘কথায় আছে না চোরের মায়ের বড় গলা’ এমন ঘটনার চাকুস প্রমাণ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যা। চেয়ারম্যান জারজিদের এ অপকর্ম ঢাকতে একই দিনে (মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল) বিকালে চেয়ারম্যানের বাড়ি খড়লিয়া এলাকায় গুটি কয়েক লোক ভাড়া করে ও ভয়ভিতী দেখিয়ে যোগাড় করে এনে পক্ষে এ মানববন্ধন করায় চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যা।

এলাকার সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যানের বাড়ির আশে পাশের কয়েকজন নারী-পুরুষদের ভয়ভিতী দেখিয়ে এবং অর্থ ও চাল দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ডেকে এনে তার পক্ষে এ মানববন্ধন করানো হয়। তার এ মানববন্ধনের মিডিয়া কভারেসের জন্য কতিপয় গণমাধ্যম কর্মীদের ডেকে নেয়।

স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, চেয়ারম্যান ভয়ংকর প্রকৃতির মানুষ তার ভয়ে তার বিপক্ষে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পাইনা। তার রয়েছে নিজস্ব বাহিনী কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে তাকে সাহেস্থা করে থাকেন। কয়েক বছর পূর্বে তার বিরুদ্ধে নিউজ করতে যেয়ে নড়াইলের দুইজন গণমাধ্যম কর্মি হামলার স্বিকার হন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে এ ঘটনায় মামলাও হয়।

উল্লেখ্য, নড়াইলের কালিয়ায় পেড়লী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যার (৫২) বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ডের চাল আত্মসাতের অভিযোগ মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের সুপারভাইজার মো.মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে গত ১৮ এপ্রিল কালিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য যশোর দুদক কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে পেড়লী ইউনিয়নের অসহায় পরিবারের মহিলাদের দুই বছরব্যাপী বিনামূল্যে প্রতিমাসে ৩০কেজি করে ১’শ ৯০টি ভিজিডি কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে। উক্ত কার্ডের বিপরীতে চলতি ২০১৯-২০২০অর্থবছরে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের ০৬ এপ্রিল ৯৬নং স্মারকে ১১নং পেড়লী ইউপির চেয়ারম্যান মো.জারজিদ মোল্যার অনুকুলে ১’শ ৯০ জনকে ভিজিডি সুবিধার আওতায় ৫ হাজার ৭’শ কেজি চালের ডিও প্রদান করা হয়। তিনি ১৪এপ্রিল উক্ত চাল উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন। বিধিবহির্ভূতভাবে ভিজিডির ওই চাল বিতরণের অভিযোগ থাকায় ১৬ এপ্রিল তদারকির জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মৌখিক নির্দেশে মো.মতিয়ার রহমান সরেজমিনে উপস্থিত থাকেন। ওইদিন তার উপস্থিতিতে ৯টি ওয়ার্ডের ১’শ ৯০টি কার্ডের মধ্যে ১’শ ৫টি কার্ডের চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়। অবশিষ্ট ৮৫টি কার্ডের ২হাজার ৫’শ ৫০ কেজি (৮৫বস্তা) চাল গোডাউনে সংরক্ষণ করে তালার চাবি চেয়ারম্যানের হাতে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে ১৮এপ্রিল অবশিষ্ট ওই চাল বিতরণের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট থেকে গোডাউনের চাবি এনে তার ঘনিষ্ঠ সহচর মো.নিজাম শেখ গোডাউনটি খোলেন। এসময় মো.মতিয়ার রহমান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার নিশিকান্ত রায় গোডাউনের ভিতরে প্রবেশ করেন। তখন তারা দেখতে পান গোডাউনে ১৬এপ্রিল রেখে যাওয়া ৮৫বস্তা চাল সেখানে নেই। এ সময় গোডাউনের ভিতরে চেয়ারম্যান নিজে উপস্থিত না থাকায় সুপারভাইজার মো.মতিয়ার রহমান ইউপি সচিব মো.আফজাল হোসেনকে চাল কী করা হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে পাশে উপস্থিত থাকা মো.নিজাম শেখ তাকে জানান, ‘চেয়ারম্যান গোডাউনে সংরক্ষিত চাল বিতরণ করে ফেলেছেন’। বিষয়টির তাৎক্ষণিক ভাবে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদারককারী মো.মতিয়ার রহমান উপস্থিত কার্ডধারীদের চাল দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে কার্ডধারী মহিলারা জানান,‘চেয়ারম্যান জারজিদ তাদের কোন চাল দেননি’।

তারা আরো জানান, ‘গত ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত তাদের কার্ডের চাল দেয়া হয়নি’। অথচ চেয়ারম্যান বিভিন্ন জীবিত ও মৃত ব্যক্তির নামে ভিজিডি কার্ডের তালিকা করে প্রতিমাসে ২হাজার ৫’শ ৫০কেজি চাল আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, পেড়লী ইউপি চেয়ারম্যান জানুয়ারি/২০১৯ মাস হতে এপ্রিল/২০২০ পর্যন্ত ১৬ মাসে ৪০টন ৮০০ কেজি সরকারি চাল দুর্নীতি বা বেআইনীপন্থায় আত্মসাৎ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিশিকান্ত রায় বলেন, নিয়মানুয়ী অবশ্যই দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে ভিজিডির চাল বিতরণের নিয়ম থাকলেও চেয়ারম্যান মো.জারজিদ মোল্যা কখনই বিতরণ নীতিমালা অনুসরণ করেন না। তিনি ট্যাগ অফিসারকে চাল বিতরণের তারিখ অবহিত না করে নিজের ইচ্ছেমত চাল বিতরণ করেন।

এ প্রস্েঙ্গ ওই ইউপির চেয়ারম্যান মো.জারজিদ মোল্যার বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পেড়লী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ডের চাল আত্মসাতের এজাহার পেয়েছি। এ অভিযোগ থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য গত রোববার যশোর দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়।

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.নাজমুল হুদা বলেন,‘চেয়ারম্যান মো.জারজিদ মোল্যার বিরুদ্ধে চাল বিতরণে অনিয়ম ও অত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় মামলা দায়ের হয়।