কালিয়ায় পেড়লী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকে মামলা প্রেরণ

112

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের কালিয়ায় পেড়লী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জারজিদ মোল্যার (৫২) বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ডের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের সুপারভাইজার মো. মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) থানায় মামলা দায়ের করেন। এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য যশোর দুদক কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে পেড়লী ইউনিয়নের অসহায় পরিবারের মহিলাদের দুই বছরব্যাপী বিনামূল্যে প্রতিমাসে ৩০কেজি করে ১৯০টি ভিজিডি কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে।উক্ত কার্ডের বিপরীতে চলতি ২০১৯-২০২০অর্থবছরে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের ০৬ এপ্রিল ৯৬নং স্মারকে ১১নং পেড়লী ইউপির চেয়ারম্যান মো.জারজিদ মোল্যার অনুকুলে ১৯০ জনকে ভিজিডি সুবিধার আওতায় ৫হাজার ৭০০কেজি চালের ডিও প্রদান করা হয়।

তিনি ১৪ এপ্রিল উক্ত চাল উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন। বিধিবহির্ভূতভাবে ভিজিডির ওই চাল বিতরণের অভিযোগ থাকায় ১৬ এপ্রিল তদারকির জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মৌখিক নির্দেশে মো.মতিয়ার রহমান সরেজমিনে উপস্থিত থাকেন। ওইদিন তার উপস্থিতিতে ৯টি ওয়ার্ডের ১৯০টি কার্ডের মধ্যে ১০৫টি কার্ডের চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়। অবশিষ্ট ৮৫টি কার্ডের ২হাজার ৫৫০ কেজি (৮৫বস্তা) চাল গোডাউনে সংরক্ষণ করে তালার চাবি চেয়ারম্যানের হাতে হস্তান্তর করেন।পরবর্তীতে ১৮এপ্রিল অবশিষ্ট ওই চাল বিতরণের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট থেকে গোডাউনের চাবি এনে তার ঘনিষ্ঠ সহচর মো.নিজাম শেখ গোডাউনটি খোলেন।

এসময় মো.মতিয়ার রহমান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার নিশিকান্ত রায় গোডাউনের ভিতরে প্রবেশ করেন।তখন তারা দেখতে পান গোডাউনে ১৬ এপ্রিল রেখে যাওয়া ৮৫বস্তা চাল সেখানে নেই। এ সময় গোডাউনের ভিতরে চেয়ারম্যান নিজে উপস্থিত না থাকায় সুপারভাইজার মো. মতিয়ার রহমান ইউপি সচিব মো.আফজাল হোসেনকে চাল কী করা হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে পাশে উপস্থিত থাকা মো.নিজাম শেখ তাকে জানান, ‘চেয়ারম্যান গোডাউনে সংরক্ষিত চাল বিতরণ করে ফেলেছেন’। বিষয়টির তাৎক্ষণিকভাবে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদারককারী মো.মতিয়ার রহমান উপস্থিত কার্ডধারীদের চাল দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে কার্ডধারী মহিলারা জানান,‘চেয়ারম্যান জারজিদ তাদের কোন চাল দেননি’। তারা আরো জানান, ‘গত ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত তাদের কার্ডের চাল দেয়া হয়নি’। অথচ চেয়ারম্যান বিভিন্ন জীবিত ও মৃত ব্যক্তির নামে ভিজিডি কার্ডের তালিকা করে প্রতিমাসে ২হাজার ৫৫০কেজি চাল আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে পেড়লী ইউপি চেয়ারম্যান জানুয়ারি/২০১৯ মাস হতে এপ্রিল/২০২০ পর্যন্ত ১৬ মাসে ৪০টন ৮০০ কেজি সরকারি চাল দুর্নীতি বা বেআইনীপন্থায় আত্মসাৎ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিশিকান্ত রায় যুগান্তরকে বলেন, ‘নিয়মানুয়ী অবশ্যই দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে ভিজিডির চাল বিতরণের নিয়ম থাকলেও চেয়ারম্যান মো.জারজিদ মোল্যা কখনই বিতরণ নীতিমালা অনুসরণ করেন না। তিনি ট্যাগ অফিসারকে চাল বিতরণের তারিখ অবহিত না করে নিজের ইচ্ছেমত চাল বিতরণ করেন’।

এ প্রসঙ্গে কালিয়া থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘পেড়লী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডি কার্ডের চাল আত্মসাতের এজাহার পেয়েছি।এ অভিযোগ থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য রোববার (১৯এপ্রিল) যশোর দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।’

এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.নাজমুল হুদা যুগান্তরকে বলেন,‘চেয়ারম্যান মো.জারজিদ মোল্যার বিরুদ্ধে চাল বিতরণে অনিয়ম ও অত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় মামলা দায়ের হয়েছে। পরবর্তীতে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ প্রস্েঙ্গ ওই ইউপির চেয়ারম্যান মো.জারজিদ মোল্যার বক্তব্য নেয়ার জন্য যুগান্তরের পক্ষ থেকে একাধিকবার মুঠোফোনে (০১৭৫৬৭৮০০২১নাম্বারে) যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিফ করেননি।