নড়াইলে করোনার তথ্য প্রদানে সিএস’এর গড়িমশি, সাংবাদিক মহল ক্ষুব্ধ

210

নড়াইল কণ্ঠ : বৈশ্বিক মহামারির করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে গণমাধ্যমকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করে তা জাতির সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।

বৈশ্বিক মহামারির এই করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর সঠিত তথ্য সংগ্রহ ও তা যথাযথ বিভিন্ন অনলাইন, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়াতে তুলে ধরতে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নড়াইল জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা কোন অংশে পিছিয়ে নেই। এই মহামারী দূর্যোগে সবচেয়ে বড়ভূমিক স্বাস্থ্য বিভাগের এতে কোন সন্দেহ নেই। তেমনি এই স্বাস্থ্যবিভাগের তথ্য প্রয়োজন হয় সংবাদ প্রকাশের জন্য মিডিয়া কর্মীদের।

তারই অংশ হিসেবে নড়াইলের সিভিল সার্জন অফিস থেকে সঠিত তথ্য না পাওয়া, সিভিল সার্জন অফিসের গড়িমশি আর সময় ক্ষেপণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন নড়াইলের সাংবাদিক সমাজ। এ ব্যাপারে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে নড়াইল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকরা সভা করে সিভিল সার্জন অফিসের সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, নিয়মিত করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ, আইসোলেশন, হোম কোয়ারেন্টিন বিষয়ে তথ্য জানার জন্য সিভিল সার্জন অফিসে প্রতিনিয়ত ফোনে যোগাযোগ করা হয়। সিভিল সার্জন অফিস থেকে এ সম্পর্কে কে তথ্য দিবেন এমন কোন সোর্স অদ্যবদি তৈরী হয়নি। সিভিল সার্জনকে ফোন করলে বেশিরভাগ তিনি ফোন রিসিভ করেন না এমন অভিযোগও রয়েছে। ফোনে পাওয়া গেলেও সঠিক তথ্য পেতে কয়েক ঘন্টা সময় লেগে যায়। এহেন পরিস্থিতির কারনে সংশ্লিষ্ট মিডিয়ায় জেলার সঠিক তথ্য প্রদানে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত সাংবাদিকরা। সরকার যেখানে বাড়ি বসে ইন্টানেটের মাধ্যমে সকল তথ্য আদান-প্রদানের কথা বলছেন, সেখানে সিভিল সার্জন অফিসে যেয়েও সঠিক ও সমন্বিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। উপরন্ত সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে সিভিল সার্জন অফিসে গেলে তাদের অপমানসূচক আচরণ করেন সিভিল সার্জন অফিসের কর্মরত চিকিৎসকরা।

নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল মোমেন সম্পর্কে নড়াইলের একজন মানবাধিকার কর্মী নাম প্রকাশ না করে বলেন, আমার দেখা মতে সিভিল সার্জন একজন অযোগ্য অথর্ব্য মানুষ, ওনার কোন ব্যক্তিত্ব বা প্রশাসনিক কোন যোগ্যতাই নেই। এই বৈশ্বয়িক মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জেলার সকল স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে জনগণের ভালো পরামর্শ দিবেন তিনি, ওনার চোখে তো ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ার কথা, ওনি সেটা না করে সরকারি রাজস্ব খানা খেয়ে নড়াইলের মানুষের তামাসা দেখছেন। এমনকি আমি সেদিন দেখলাম, ওনি প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে বসে বসে ঘুমাচ্ছেন। এই রকম একজন নিরুত্তাপ অযোগ্য সিভিল সার্জন এ জেলার মানুষ মেনে নিতে পারছে না।

এ সময় ওই মানবাধিকার এক্টিভিস্ট আরো জানান, সেদিন সাংবাদিকদের সাথে তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে সচক্ষে সিভিল সার্জন অফিসের ডাঃ সৈয়দ শফিক তমাল (এমও ডিসি) এর কথা শুনে হতভম্ব হয়েছি। তিনি সংবাদকর্মীদের সহযোগিতার বদলে হুমকি দেন আমরা ক্যাডার সার্ভিসের লোক, তাদের সাথে কিভাবে কথা বলতে জানেন? ….। বৈশ্বিক মহামারী যুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্স যেমন এক একজন করোনা প্রতিরোধের যোদ্ধা তেমনি সাংবাদিকরাও এই বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধের এক একজন যোদ্ধা। আমি একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে বলতে চাই, এই মূহুর্তে কে ক্যাডার সার্ভিসের লোক, কে কি তার চেয়ে বড় কথা দেশের মানুষকে সঠিক তথ্যদিয়ে বাঁচাতে হবে যার যার দায়িত্বের জায়গা থেকে। অবহেলা বা অযুহাত দেখাবার কোন সুযোগ নেই। এই মুহুর্তে ওনারা সাংবাদিকদের সাথে যা করেছেন তা আমার জানা মতে রীতিমত অধিকার লগ্ন করেছেন। এই মুহুর্তে আমরা সকলেই ওনাদের ভোক্তা। কাজে অবহেলা হলে প্রয়োজনে ভোক্তা অধিকার আইনে লড়তেও পারেন আপনার।

নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীমুল ইসলাম টুলু বলেন, যেহেতু করোনা প্রতিরোধ জেলা কমিটির সদস্য সচিব সিভিল সার্জন। জেলার সমন্বিত তথ্য তাঁর অফিসেই পাওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে তথ্য আনতে গিয়ে যদি সাংবাদিরা বাধাগ্রস্থ হন তাহলে আমরা কিভাবে কাজ করবো, কখনও সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। আর সিভিল সার্জন সাহেব তো ফোনই ধরেন না।

নড়াইল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মাছরাঙ্গা টিভি চ্যানেলের প্রতিনিধি মীর্জা নজরুল ইসলাম বলেন, সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারনে আমরা সঠিক সময়ে ঢাকায় তথ্য প্রেরণ করতে পারছি না। এছাড়া করোনা নমুনা সংগ্রহ একেবারেই ধীর গতিতে চলছে।

আরটিভি’র নড়াইল প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল বলেন, আমি কয়েকদিন আগে সিভিল সার্জনের একটি বক্তব্য আনতে গিয়ে ওই অফিসের দু’জন ডাক্তারের দ্বারা অপমানিত হয়েছি। এরপর তথ্য আনতে ওই অফিসে যাইনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত দুইজন চিকিৎসকের একজন ডাঃ সৈয়দ শফিক তমাল (এমও ডিসি) তিনি করোনা তথ্য সংগ্রহ ও প্রদানে নিয়োজিত বলে নিজেকে পরিচয় দিলেও সাংবাদিকরা তথ্য জানতে চাইলে তিনি সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলতে বলেন। অন্যজন ডাঃ অনিন্দতা ঘোষ (এমও সিএস) সদরের মাইজপাড়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দ্বায়িত্বে থাকলেও সিভিল সার্জন অফিসে সংযুক্তি নিয়ে বসে আছেন। অথচ মাইজপাড়া এলাকার জনসাধারণ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, যেখানে আমাদের কয়েকজন চিকিৎসক মাঠে এবং হাসপাতালে দিনরাত পরিশ্রম করছেন সেখানে উর্দ্ধতন কর্মকতার মেয়ে হবার সুবাদে তিনি সিভিল সার্জন অফিসে বসে আছেন, তাঁরা এসির মধ্যে বসে কি কাজ করেন?

সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল মোমেনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।

জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, সাংবাদিকেরা সঠিক তথ্য দিয়ে সরকারী কাজ তথা জনগণের উপকার করে থাকেন, সিভিল সার্জন কেন সমন্বয় করবেন না, এটা আমি দেখছি।