‘অমল সেনের অনুসৃত পথ ধরেই ওয়ার্কার্স পার্টি রাজনীতি করছে’ -মেনন

265

অমল সেনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নড়াইল কণ্ঠ : ‘কমরেড অমল সেনের অনুসৃত পথ ধরেই বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি রাজনীতি করছে। সা¤্রাজ্যবাদ, জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ ও লুটপাটের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি লাগাতার লড়াইয়ে লিপ্ত আছে। অমল সেনের ‘জনগণের বিকল্প শক্তি’ গড়ার মাধ্যমে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন করাই বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির লক্ষ্য।’

কমরেড অমল সেনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাধিতে আলোচনা সভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি এসব কথা বলেছেন।

‘সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে জনগণের বিকল্প শক্তিভিত গড়ে তোল’ এই প্রতিশ্রতির মধ্যদিয়ে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) ১২টায় যশোরের সীমান্তবর্তী বাঁকড়ী গ্রামে ইতিহাসখ্যাত নড়াইলের কৃষকদের তে-ভাগা আন্দোলনের অগ্রপথিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড অমল সেনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন- কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সাতক্ষীরা-১ আসনের এমপি এ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এ সময় সাতক্ষিরা, খুলনা, যশোর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, মাগুরা, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি, খেতমজুর ইউনিয়ন, নারী মৈত্রী, যুবমৈত্রী, ছাত্রমৈত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব বয়সি মানুষ এই কিংবদন্তীতুল্য নেতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে দুপুর ৩টায় ‘অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটি’র সহ-সভাপতি ও নড়াইল জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এ্যাডভোকেট নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি।

অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমেেরড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সাতক্ষীরা-১ আসনের এমপি এ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি, মাহমুদুল হাসান মানিক, সাবেক নড়াইল-২ আসনের এমপি কমরেড এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান, কমরেড নূর আহমদ বকুল , কমরেড জ্যোতি শংকর ঝন্টু, জাতীয় কৃষক সমিতির কার্যকরী সভাপতি কৃষক নেতা হাসান মানিক, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেনদ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল আহসান, বাংলাদেশ খেতমজুর ইঊনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, নড়াইল জেলা জাসদের সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম খান, বাংলাদেশ যুবমৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি যশোর জেলার সভাপতি, নারী মৈত্রীর নেত্রী নড়াইল সদর উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান স্বপ্না সেন, যশোর জেলা ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি শ্যামল কুমার প্রমুখ।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে প্রতিদিন সন্ধ্যায় আবৃতি, গন সঙ্গীত, গন নাটক ও গন সংগ্রাম ভিত্তিক চলচিত্র প্রদশর্নী হবে এবং সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে লোকজ মেলা। নড়াইল যশোর ছাড়াও দেশের অন্যান্য জেলাগুলি থেকে সহ¯্রাধিক ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ও কর্মী এই মেলায় যোগ দেবেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ‘কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটি’র সদস্য সচিব অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস। ১৮ জানুয়ারী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কমরেড অমল সেন ১৯১৪ সালের ১৯ শে জুলাই আউড়িয়ার প্রখ্যাত রায় পরিবারে মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন নড়াইলের আফরার জমিদার পরিবারের সন্তান। নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বৃটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী ‘অনুশীলন’ গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত হন। দৌলতপুর বিএল কলেজে গনিতশাস্ত্রে অনার্স অধ্যয়নরত অবস্থায় মার্কসবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন এবং নড়াইলে ফিরে এসে কৃষক আব্দোলন করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। পিতার জমিদারী, অর্থ সম্পত্তি বিত্ত বৈভব তাঁকে কখনো আকৃষ্ট করতে পারেনি। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন মানব জীবনের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি হতে পারে মানব সমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা তথা শ্রমজীবী মানুষের শোষণ মুক্তির লড়াইতে অংশগ্রহণ করা। তিনি সারাজীবন নিজেকে এ সংগ্রামে নিয়োজিত রাখেন।পাকিস্তান শাসনামলের ২৪ বছরের মধ্যে ১৯ বছরই তাঁকে কারান্তরালে কাটাতে হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ মুক্তিকামী জনতা তাঁকে যশোর কারাগার ভেঙ্গে মুক্ত করে। এরপর স্বাধীনতা আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করেন। ২০০৩ সালের ১৭জানুয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে অকৃতদার এই বিপ্লবী নেতা মৃত্যুবরণ করেন।