কালিয়ায় পৃথক সংঘর্ষে নিহত দুই, আহত ৪

100

নড়াইল কণ্ঠ : ছাত্রখালি খালে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের চালিতাতলা গ্রামে দুইপক্ষের সংঘর্ষে আসলাম গাজী (৪৪) নিহত হয়েছে। বুধবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। আসলাম ঐ গ্রামের ইদ্রিস গাজীর ছেলে। এর আগে ঐদিন (বুধবার) সকাল ৮টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কালিয়ার চালিতাতলা গ্রামের কাদের মোল্যা ও ইদ্রিস গাজী সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত আধিপত্যের লড়াই চলে আসছে। এর জের ধরে বুধবার সকালে গ্রামের ছাত্রখালি খালে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় ইদ্রিস গাজী, তার ছেলে আসলাম গাজী ও রিফায়েত মোল্যাসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। গুরুতর আহত আসলাম খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাতটার দিকে মারা যায়।
কালিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইকরাম হোসেন বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসলাম গাজীর মৃত্যু হয়েছে। থানায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে চাচিকে কুপ্রস্তাববের প্রতিবাদ করায় উপজেলার নড়াগাতি বাজারে জহিরুল মোল্যা (২৪) নামের যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে বখাটেরা। বুধবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যার সাড়ে সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জহিরুল নড়াগাতি গ্রামের আকুব্বর মোল্যার ছেলে, তার নড়াগাতি বাজারে একটি কম্পিউটারের দোকান রয়েছে। ঘটনার সাথে জাড়িত সন্দেহে টুটুল লস্কর ও রনি লস্কর নামের দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের স্বজনরা জানান, জহিরুল মোল্যার চাচি গ্রামের বাড়ি বেড়াতে আসার পথে পাশের কামশিয়া গ্রামের জাহিদ ও তার সহযোগী রেজওয়ান ঐ মহিলাকে উৎত্যক্ত করে ও নানা ধরনে কুপ্রস্তাব দেয়। এ ঘটনা জানার পরে বুধবার দুপরে ঐ বখাটেদের সাথে জহিরুল ও তার ভাই জারজিসের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে জাহিদসহ তার সহযোগীরা ঐ দিন সন্ধ্যায় জহিরুলকে তার দোকানের সামনে কাঠ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। কাঠের আঘতে জহিরুলের মাথায় অতিরিক্ত রক্তখরন হলে চিকিৎসার জন্য খুলনায় নেয়ার পথিমধ্যে রাত ৯টার দিকে জহিরুল মারা যান।
নড়াগাতি থানার ওসি আলমগীর কবীর জানান, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। মরদেহ দাফনের পর মামলা হবে।