শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নলদী বিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়

144

নড়াইল কণ্ঠ : গৌরবের শতবর্ষ পূর্ণ করেছে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদী বিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়। নড়াইল সদর উপজেলা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দুরে নলদী ইউনিয়নের একটি অজপাড়াগাঁয়ে ১০৩ বছর আগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। নলদী গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয় তার নিজস্ব ঐতিহ্য ও গৌরব অক্ষুণœ রেখে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলেছে।

প্রতিষ্ঠার কথা
তৎকালীন নলদী পরগোনার জমিদার উমাচরণ ঘোষ ১৯১৬ সালে তাঁর মা শ্যামা সন্দরী দেবীর নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার সময়ে নাম ছিল নলদী বিএসএস ইনিস্টিটিউশন, অর্থাৎ নলদী ব্রাক্ষ্মণডাঙ্গা শ্যামা সুন্দরী ইনিস্টিটিউশন। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ব্রাক্ষ্মণডাঙ্গা গ্রামের ব্রাক্ষ্মণ ও ঘটক পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা ছিল। তাই উমাচরণ ঘোষের মায়ের নামের সঙ্গে ব্রাক্ষ্মণডাঙ্গা নামটি যোগ করা হয়। শুরুতে এটি প্রথম থেকে তৃতীয় স্তর পর্যন্ত চালু হয়। কয়েকবছর পরে মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত হয়। তখন নামকরণ হয় ‘নলদী বিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়’। এটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ছিল। ১৯৭১ সালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে যাওয়ায় বর্তমানে যশোর শিক্ষা বোর্ডের স্বীকৃতিতে চলছে এ স্কুলটি।

কৃতী ছাত্রছাত্রী যাঁরা
এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই দুই বাংলার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেকেই অবদান রেখেছেন দেশ-বিদেশে। ভারতের খ্যাতনামা চিকিৎসক কার্ত্তিক চন্দ্র কাপুড়িয়া এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, যশোর সদর হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ জয়ন্ত কুমার পোদ্দার, ময়মনসিংহ কৃষি একাডেমির পরিচালক মুন্সী মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শাহীন পারভেজ, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাজ্জাদ জাহিদ, দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক সুবাস চন্দ্র দত্ত, চিকিৎসক মুন্সী মো. সাদ উল্লাহ ও অরুণ কুমার ঘোষ, অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা আফতাব হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন ও তরুণ কুমার ঘোষ, আইটি প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার কুন্ডু এ বিদ্যালয়ের ছাত্র। মুক্তিযুদ্ধে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছিল অনন্য অবদান।

নেপথ্যে যাঁরা ছিলেন
বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন শরৎ চন্দ্র মুখার্জি। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক মো. আক্কাছ হোসেন মোল্লা। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৬ জন শিক্ষক, চারজন কর্মচারী রয়েছে। ৫৬৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৩০৩ জন ছাত্রী। সুযোগ্য শিক্ষকদের পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য বর্তমানে রয়েছে ১১ সদস্যের পরিচালনা কমিটি। এই কমিটির বর্তমান সভাপতি মো. আ. ওহাব মোল্লা। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ব্রাক্ষ্মণডাঙ্গা, জালালসি, বারইপাড়া, গাছবাড়িয়া, হলদা, নোয়াপাড়া, কালাচাঁদপুর, মটবাড়ি, মতিনগর, হবখালী, ব্রক্ষ্মণীনগর, শংকরপুর ও চন্ডিবরপুরসহ আরো কয়েকটি গ্রামের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে।

বর্তমান অবস্থা
বিদ্যালয়ে আছে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ। প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত হলেও এ বিদ্যালয়ের ফলাফল ঐতিহ্যগতভাবে সন্তোষজনক। ২০১৯ সালে এ বিদ্যালয়ের ৮২ জন এসএসসি পরীক্ষা দেয়, পাস করে ৮১ জন। আগের বছর ৯৮ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৮৮ জন। এই বিদ্যালয়ে নানা ধরনের পুস্তকসংবলিত একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার রয়েছে।

শতবর্ষ উদযাপন
ঐতিহ্যের শতবর্ষ উপলক্ষে আগামী ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর পুনর্মিলনী ও নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আ. ওহাব মোল্লাকে অহ্বায়ক ও আইনজীবী মোস্তফা হুমায়ুন কবিরকে সদস্য সচিব করে গঠন করা হয়েছে ৫৭ সদস্যের শতবর্ষ উদযাপন পরিষদ। অতিথি থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অরুনা বিশ্বাস ও যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল আলীমসহ নানা বিশিষ্টবর্গ।