নড়াইলে দুদকের অভিযান: মধুমতি নদী তীরের স্থায়ী বাঁধনির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত

306

নড়াইল কণ্ঠ : প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকার ব্যয়ের এ কাজের দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিয়মের কারণে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া প্রায় ২’শ বতসবাড়ি, কৃষি ও অন্যান্য জানমালের ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার কে নেবেন? দুদকের ১০৬ নম্বরে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মধুমতি নদীর তীরের স্থায়ী সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এলাকায় দুর্নীতি দমন কমিশন যশোরের উপ-পরিচালক নাজমুছসাদাতের নেতৃত্ব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
গত রবিবার (২৪ নভেম্বর) বিকালে ঘাঘা এলাকা দুর্নীতি দমন কমিশন যশোরের উপ-পরিচালক নাজমুছসাদাতের নেতৃত্ব এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের সাথে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন, দুদক যশোরের সহকারি পরিচালক মো: মোশারফ্ফ হোসেন, পরিদর্শক আব্দুস সালাম, নড়াইল জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান ও সদস্য মো: আব্দুস সাত্তার।
অভিযান পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ওয়াজেদ আলী চাকলাদার, কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারি প্রকৌশলী এনামুল হক, সহকারি প্রকৌশলী রথিন বাড়ৈ, ঠিকাদার মশিউর রহমান চৌধুরীর প্রতিনিধি সরদার তারিকুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বাঁধ নির্মাণের দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিয়মের অভিযোগ সরেজমিনে যাচাই শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নড়াইলের লোহাগড়ার মধুমতি নদীর তীরের (দুইটি লটে ৪১০ মিটার) স্থায়ী সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ ২০১৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। অদ্যবধি এখন নভেম্বর শেষ পর্যায় এসেও কাজ শেষ হয়নি। ২০৬ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা, কিন্তু ২০৬ পার হয়ে আরো ১৩৭দিন পার হইছে, কিন্তু কাজের অগ্রগতি মাত্র ২৭ ভাগ।
তিনি আরো জানান, আপনার জানেন যে ১০৬ নম্বর দুদকের একটি হট লাইন আছে। এটা সাধারণ জনগণ যে কোন প্রান্ত থেকে আমাদের ১০৬ এ ফোন করতে পারেন। ১০৬ এ একজন কোন সচেতন নাগরিক ফোন দিয়েছেন। সেখান থেকে দুদক হেড অফিস আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছেন। আমরা এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি টিমসহ আমি উপ-পরিচালক তার নেতৃত্বে এবং আমার সহকারি পরিচালক, একজন পরিদর্শক আছেন। ওনাকে সহ আমরা সরেজমিনে এবং আমাদের সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাও আছেন। ওনাদের নিয়ে আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করি। এখানে কাজপত্র পর্যালোচনা করি।
কাজের দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিয়মের কারণ হিসেবে ঠিকাদারের অবহেলা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্লোজ মনিটরিং এর অভাব ছিলো বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ওয়াজেদ আলী চাকলাদার সাংবাদিকদের জানান। এ সময় তিনি আরো জানান, এ দুটি লটের কাজ আগামী বর্ষার আগেই শেষ করা যাবে।
ঘাঘা সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য বিএম জিয়াউর রহমান জানান, এই কাজডা যদি দ্রুত হতো আগের টাইমতো হতো তাহলি এলাকার অনেক খতি কম হতো, যেমন অনেক বাড়ি ভাইঙ্গে গেছে, বোর্ড অফিসের নিকটে চলে আইছে নদী, এই কাজ পিছিয়ে যাওয়ার কারণে আমরা খুব ক্ষতিগ্রস্থ। এ নদীভাঙ্গনে আমরা বিলিন হয়ে গেছি। ঘাঘা গ্রামটা নাই বললেই চলে। এই ভাঙ্গন প্রতিরোধ একবছর আগের থেকে শুরু হইছে, কিন্তু এরা খুব ধীরগতিতে কাজ করার কারনে ১৫-২০ পাখি জমি ভেঙ্গে নদী চলে গেছে। এই কাজটা আগে হলে এসব জমি ভাঙ্গনতো না।
অফিস সূত্রে জানাগেছে, মধুমতি নদীর তীরে দু’টি লটে স্থায়ী সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজটি ঠিকাদারী হিসেবে কাজ করছেন মশিউর রহমান চৌধুরী। ১১ কোটি ৪৯ লক্ষ ৯৬ হাজার ৭৭৭ টাকা ব্যয়ে নড়াইলের লোহাগড়ার মধুমতি নদীর তীরে দু’টি লটে স্থায়ী সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয় যথাক্রমে (বিবিএসকেবি/ডাব্লিউ-০৭/২০১৮-১৯) ২০১৮ সালের ০৫ ডিসেম্বর এবং অন্যটি (বিবিএসকেবি/ডাব্লিউ-০৭/২০১৮-১৯) এ বছরের ১৩ জানুয়ারি। এ দু’টি লটের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো এ বছরের ৩০ জুন (২০১৯)।