মধুমতি তীরের স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিয়ম, দুদকের তদন্তের দাবি!

186

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়ার মধুমতি নদীর তীরের ১১ কোটি টাকার স্থায়ী সুরক্ষা কাজটি ৭ মাসে সম্পূর্ণ করার কথা থাকলেও ১২ মাসেও কাজ হয়নি ১০ভাগ। নদী তীর প্রতিরক্ষার নামে প্রতি বছর চলে লুটপাটের মতো ঘটনা। সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের দাবি ঘাঘা এলাকাবাসির।
জানাগেছে, River Bank Protection work along the bank of modhumoti river from km 71.245 to km 71.455 total 210 m, km 71.455 to 71.655 total 200 m at Ghagha in upazila lohagara district Narail under rehabilitation of Bhutiar Beel & Barnal-Solimpur-kolaBasukhali flood control & Drainage project in khulna district phase-11 under Narail O & M division BWDB Narail during the year 2018-2019 এ প্রকল্পের আওতায় দুটি লটের কাজ ২০১৮ সালের ০৬ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ৭ মাসে শেষ করার কথা থাকলেও তা আজও ১০ভাগ কাজ হয়নি বলে দাবি করেছে এলাকাবাসি।
এদিকে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা যায়, মধুমতি নদীর পশ্চিম পাড়ে দুটি লটে মোট ৪১০ মিটার দুরত্বের স্থায়ীনদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ১১ কোটি টাকার মতো ব্যয়ে করছে। এ দু’টি লটের কাজ শুরু হয়েছিলো ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের ০৬ তারিখে এবং শেষ করা কথা ছিলো ৩০ জন ২০১৯। যা আজও শেষতো হয়নি, বরং অগ্রগতি স্বচোখে দেখলে রীতিমতো হভম্ব হতে হবেই।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে হিসেবে এ প্রকল্পের ২টি লটের কাজ করছেন কুমিল্লার ঝাউতলা ২১২শহীদ শামসুল হক সড়কের মশিউর রহমান চৌধুরী (01764697722)।
গত বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর মধুমতি নদীভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনকালে এলাকার ভুক্তভোগি মানুষ আমাদের অবহিত করেন এখানে যে মধুমতি নদী পশ্চিমপাড়ে স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধের কাজ ১০শতাংশ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। অন্যদিকে নড়াইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন একাজের ইতিমধ্যে ৩০শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ আগামি বর্ষার আগে শেষ করা যাবে।
নদীভাঙ্গন এলাকার রহিত জানান, সম্প্রতি নড়াইলে নদীভাঙ্গন নিয়ে বর্ষামৌসূমে বেশ হৈহুলা চলতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, নদীভাঙ্গনে মধুমতি, নবগঙ্গা পাড়ে বসবাসকারিদের সর্বস্ব হারিয়ে কেউ কেউ পথের ভিখেরী বনে গিয়েছেন, আবার নদীভাঙ্গন ঠেকানোর নামে এক শ্রেণির মানুষ অঢেল কালো টাকার মালিক হয়ে গিয়েছেন। খোঁজ-খবর নিলে হয়তো এমন অজানা তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
এলাকার রাসু নামে এক তরুন জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নড়াইল-২ আসনের এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমেই তিনি এসেছিলেন বিগত ২৮ ফেব্রুয়ারি লোহাগড়ার মধুমতি নদীভাঙ্গনকবিত মানুষের দু:খ-দুর্দশা দেখতে। আমার যতদুর মনে পড়ে তিনি (মাশরাফী) মধুমতি পাড়ে দাড়িয়ে এলাকাবাসির উদ্দেশ্যে বলেছিলেন কোন কাজে ফাঁকিবাজি চলবে না। সময় মতো কাজ শেষ করতে হবে। ফিরে আবার ফেব্রুয়ারি আসতে মাত্র ৩মাস।
উল্লেখ্য, মধুমতি নদী ভাঙ্গন নতুন কোন ঘটনা না। সম্প্রতি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয় মাশরাফীর এক সাক্ষাতে সাফ বলেছিলেন নড়াইল জেলা কোন নদীভাঙ্গন এলাকা নয়। কথাটি শুনতে বেমানান হলেও সত্য। সম্প্রতি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় গিয়ে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়ে কাছ থেকে এমপি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা জানাতে পারলেন, নদীভাঙ্গন কবলিত এলাকা হিসেবে নড়াইল জেলা এ মন্ত্রণালয়ের তালিকায় চিহ্নিত নেই। এমন খবর জানতে পেরে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নিজে মর্মহত হন এবং তাৎক্ষনিক মন্ত্রীকে দিয়ে নড়াইলকে নদীভাঙ্গন এলাকা হিসেবে লিখে নেন। ঘটনাটি কিছুটা নাটকীয়তার মতো মনে হলেও সত্য। গত সেপ্টেম্বর মাসে আমাদের প্রিয় এমপি মাশরাফীর সাথে আমার একান্ত আলাপকালে তিনি বিষয়টি খুলে বলেন এবং মন্ত্রী মহোদয়ের নিজের হাতে নড়াইল লেখাটির একটি তালিকাও প্রদর্শন করে।
মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা এমপি হওয়ার আগে উন্নয়ন বঞ্চিত নড়াইলকে নিয়ে এর আগে এমন তৎপরতা আমাদের চোখে পড়েনি। কারন ক্ষমতাশীন দল ক্ষমতায় থাকাকালিন নেতাকর্মী, এমপি, চেয়ারম্যানদের ভেতর নড়াইল উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে এতোটা মাঠ পর্যায় পদচারণ চোখে পড়েনি। এখন প্রশ্ন হলো এমনটা হঠাৎ কেন হলো? ইতিমধ্যে দেশবাসি নিশ্চয় অবগত হয়েছেন যে, এমনটার একটাই মাত্র কারন দেশের সেরা সম্পদ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের পর পরই নড়াইল উন্নয়ন নিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয় ধন্না দিয়ে চলেছেন। তার একটি মাত্র স্বপ্ন নড়াইল হবে বসবাসের শ্রেষ্ঠ বাসযোগ্য স্থান। এমনিটি ভাবনা নিয়ে তিনি এমপি হওয়ার আগ থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশ’ নামের একটি সংগঠনের মাধ্যমে।

এলাকার অভিযোগসহ বিস্তারিত সচিত্র প্রতিবেদন নড়াইল কণ্ঠ ইউটিউব নিউজ চ্যানেলে চোখ রাখুন।