মাশরাফীর শহরে বিশ্ব টয়লেট দিবস পালিত

168

নড়াইল কণ্ঠ : আজ ১৯ নভেম্বর ২০১৯ বিশ্ব টয়লেট দিবস। ‘কারও বাদ রেখে নয়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশের মাশরাফী’র নড়াইল শহরে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বিশ্ব টয়লেট দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় মাশরাফী’র নড়াইল শহরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টয়লেট পরিচ্ছন্নতা প্রদর্শন, র‌্যালি ও প্রচারাভিয়ান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযান দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরিচালিত হয়।
এ দিবসটিকে ঘিরে জাতীয় ক্রিকেট দলের সফল অধিনায়ক, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নেতৃত্বে নড়াইলকে দেশের প্রথম হাইজনিক জেলা গড়ে তুলার প্রত্যয় নিয়ে স্বাবলম্বী বেসরকারী উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংগঠন, সাপ্তাহিক ও অনলাইন পত্রিকা ‘নড়াইল কণ্ঠ’, ‘টিম তারুণ্য ১০০’ ও ‘চলো পাল্টাই’ এর উদ্যোগে আব্দুল হাই সিটি কলেজ, পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে র‌্যালি, আলোচনা ও টয়লেট পরিচ্ছন্নতা প্রদর্শনের কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ সময় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টয়লেট পরিদর্শন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ‘নো মোর, নোংরা টয়লেট’ শ্লোগানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অঙ্গিকারবদ্ধ হন।
কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন, আব্দুল হাই সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো: মনিরুজ্জামান মল্লিক, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিকদার জাকির হোসেন, পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক কোহিনূর আক্তার, স্বাবলম্বী’র নির্বাহী পরিচালক কাজী হাফিজুর রহমান, টিম তারুণ্য ১০০ এর প্রতিষ্ঠাতা মো: রাসেল বিল্লাহ, চলো পাল্টাই এর মুখপাত্র জাকারিয়াসহ প্রমুখ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সময় টিভির প্রতিনিনিধি খায়রুল আরেফিন রানা, একুশে টিভি’র ফরহাদ খান, বিটিভির ক্যামেরা ম্যান মো: রুবেল হাসান, নড়াইল কণ্ঠের কুমার বিশ্বজিৎ, চলো পাল্টাই’এর মেধা, নিতু,ইশরাত, লুছা, ফারিয়াসহ স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। আগামিকাল বুধবার ২০ নভেম্বর’১৯ এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় লোহাগড়ায় সকাল ১০টায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে আয়োজকরা ঘোষনা দেয়।
দিবসটি উদ্যোগ গ্রহণকারিরা জানান, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নেতৃত্বে অব্যহতভাবে নড়াইলে বছরব্যাপি প্রতিটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সমূহে টয়লেট ব্যবহার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উন্নয়নের প্রচারাভিযান চালিয়ে নড়াইলকে দেশের প্রথম হাইজনিক জেলা গড়ে তুলতে কাজ করে যাবে।
তারা জানান, মাশরাফীর সাথে আমরা রয়েছি, আশা করি আপনিও থাকবেন আমাদের এ অভিযানে। আপনার আমার প্রচেষ্টায় দেশের প্রথম হাইজনিক জেলা গড়ে উঠবে ইনশাল্লাহ।
জানাগেছে, খাদ্য-বস্ত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, রপ্তানি বা বৈদেশিক বাণিজ্যের অগ্রগতি, প্রবাসীদের আয় বৃদ্ধি, যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থার উন্নতি, শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং জিডিপির অবিরাম ঊর্ধ্ব হার সত্ত্বেও দেশের কিছু কিছু জরুরি বিষয় উদ্বেগজনক ও নিরাপত্তাহীন রয়ে গেছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা। সবচেয়ে দুশ্চিন্তার ব্যাপার হলো দেশের হাজার হাজার স্কুলের টয়লেটের দুরবস্থা।
দেশের তিন-চতুর্থাংশ স্কুলের টয়লেটই নোংরা : ন্যাশনাল হাইজিন ব্যাস লাইন সার্ভে এবং ইউনিসেফের তথ্য অনুসারে নোংরা থাকায় বাংলাদেশের বেশির ভাগ স্কুলের টয়লেট ব্যবহারের অনুপযুক্ত। অথচ বছরের পর বছর এই অবস্থা সত্ত্বেও সবাই নিশ্চুপ। এ নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষকসহ জনপ্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারক মহল নির্বিকার।
কারণ আমাদের কাছে টয়লেট ব্যবহার বা টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কথা বলা মানে ‘নোংরা কথা’ বলা, যা সবার সামনে তুলে ধরা লজ্জার বিষয়। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যার তুলনায় টয়লেটের সংখ্যা নগণ্য। সঠিকভাবে টয়লেট ব্যবহার করতে না জানা, পর্যাপ্ত পানি, পানি ব্যবহারের পাত্র ও আলোর ব্যবস্থা বা দরজার লক না থাকা, পরিচ্ছন্ন কর্মীর গাফিলতি বা পরিচ্ছন্ন কর্মী না থাকা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসচেতনতা ইত্যাদি নানা কারণেই স্কুলের লাখ লাখ টয়লেট নোংরা এমনকি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে আছে।
স্কুলের দুই কোটি শিশু পরিচ্ছন্ন টয়লেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত: একটি গবেষণায় জানা যায় যে নোংরা টয়লেটের কারণে আমাদের দুই কোটি শিশু টাইফয়েড, জন্ডিস, কলেরা বা ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। স্কুলের ছেলে শিশুরা নোংরা সত্ত্বেও কোনোমতে টয়লেট ব্যবহার করে।
কিন্তু মেয়েদের পক্ষে বেশি নোংরা টয়লেট ব্যবহারের উপায় থাকে না। নোংরা টয়লেট ব্যবহার এড়াতে তারা এমনকি সারা দিন পানিও কম পান করে। টয়লেট চেপে রাখার ফলে তাই তারা মাঝেমধ্যেই ইউটিআই বা ইউরিন ইনফেকশনে ভোগার আশঙ্কায় থাকে।
সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ : ‘এসডিজি সিক্স’কে তুলে ধরতে স্কুলগুলোর টয়লেটের নোংরা অবস্থা বদলানোর নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওয়াটার এইডসহ বেশ কিছু এনজিও ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বহুমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বিশ্বে টয়লেট ব্যবহার ও স্যানিটাইজেশন সম্পর্কে ক্যাম্পেইন শুরু করে ওয়ার্ল্ড টয়লেট অর্গানাইজেশন। এরপর থেকে প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব টয়লেট দিবস। এক জরিপ বলছে, সারাবিশ্বে প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ টয়লেটবিহীন জীবনযাপন করছেন। এছাড়া ১২ থেকে ১৫ লাখ মানুষ প্রতিদিন আসা যাওয়া করলেও তাদের জন্য সঠিক টয়লেটের ব্যবস্থা অপ্রতুল।