জার্মানির ড্রেসডেনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

127

বেলাল জার্মান : জার্মানির ড্রেসডেন শহরে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রবিবার ড্রেসডেনের টাউন হল (রাথাউস) এ অস্থায়ী বেদিতে ৫২’এর ভাষা আন্দোলনের শহীদ ভাষা সৈনিকদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় স্মরণ করা হয়।

ড্রেসডেনের বাংলাদেশি কমিউনিটি, সাউথ এশিয়ান এসোসিয়েশন ও ড্রেসডেনের ইন্টিগ্রেশন ও আউসল্যান্ডরবাইরাট এর যৌথ আয়োজনে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শিশুদের নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিত হয়।
১৮টি ভাষাভাষীর (বাংলা, জার্মান, হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবী, গুজরাটি, ইংরেজি, কাশ্মিরী, তেলেগু, তামিল, নেপালী, সিংহালা, বায়ানসচ, উওলোফ, মালয়, আরবি, ফরাসি, গ্রিক) মানুষ স্বস্ফূর্তভাবে এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
এসময় আয়োজকদের মধ্যে ড. শাহিনুর রহমান ও ড. মাহমুদ হোসেইন জানান, ৫২’এর ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস ও বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে ড্রেসডেনের গণমানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই আমাদের এই আয়োজন।
এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. জিনাহসহ আরও অনেকে। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইঞ্জি. সাজ্জাদ, আমান, নিরব, শান্ত, আনিস ও মিসেস রহমানসহ আরও অনেকে।

এরপর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সৌরভ সরকার বাঁশের বাঁশির সুর দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু করেন। আমৃতা কলকাতা বাংলা নৃত্যের প্রতিনিধিত্বকারিনী । শিশু শিল্পী জাফরিন বাংলাদেশী নৃত্য করে। তালহা ইকবাল উর্দুতে পাকিস্তানের বিখ্যাত কৰি আল্লামা ইকবালের কবিতার একটি কবিতা (মা) আবৃত্তি করে শোনায়। ড: ভেঙ্কটেশ নাঈদু (টেলিগ্রু), মির্জা বাসিত (কাশ্মির) এবং শাহানা পারভীন (বাংলা) ও কবিতা আবৃত্তি করেন । বলিউড নৃত্য বিজ্ঞানী রামায়া রাভি। নেপালের সঙ্গীতশিল্পী গ্রুপ নেতৃত্ব দেন্ সিলওয়াল, গ্রিক সঙ্গীত পরিবেশন করেন জুলিয়েট ডেমেট্রিডিস ।
এরপর আন্তর্জাতিক শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা হয়। এতে প্রথম হয় জুবায়ের রহমান, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে ইব্রাহিম রফী এবং মাগারেটা। পরিশেষে ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ এশিয় খাবার পরিবেশন করা হয়।
ড্রেসডেন বাংলাদেশির পক্ষ থেকে সকলকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা। আশা রাখি ভবিষ্যতে ড্রেসডেন একটা পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার স্থাপিত হবে ও আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে সুলতানা রহমান, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেইন, সুদীপ শিকদার, আনিসুল খান, সানিউজ্জামান, কলি আফরোজ, আবান, নিবিড়, শান্ত, মোশারফ, ইসলাম, ও আরো অনেকে। ড্: শাহিনুর রহমানের উদ্যোগে এবং সকল বাংলাদেশীদের সহযোগিতায় অনুষ্টানটা সুন্দর ও সাবলীল ছিল। বহুজাতিক মানুষের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি পেয়েছিল বিশেষ মাত্রা।