নড়াইলে লাখো মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ

110

নড়াইল কণ্ঠ : ‘অন্ধকার থেকে ম্ক্তু করুক একুশের আলো’ এই শ্লোগান নিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো নড়াইলের সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের কুড়িরডোব মাঠে লাখো মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটিতে ওড়ানো হয় ৬৮টি ফানুস।
‘নড়াইল ২১ এর আলো’ এর আয়োজনে একুশের ভাষা শহীদদের স্মরণে বৃহস্পতিবার ২১ শে’র সন্ধ্যায় এ মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদীপ জ্বালিয়ে এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রবিউল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফুদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস ও সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, পৌরসভার মেয়র মো. জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মলয় কুমার কুন্ডু ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কচি খন্দকার প্রমুখ। মোমবাতি প্রজ্জ্বলনে চার হাজার শিশু-কিশোর অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে ঢাকার ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহত এবং বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।
মোমবাতি প্রজ্জ্বলনে শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বাংলা বর্ণমালা, আল্পনাসহ গ্রাম বাংলার নানা ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় ‘আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের মধ্য দিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের গণসংগীত শুরু হয়। ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন হাজার হাজার দর্শক।
এ আয়োজন সফল করতে এক মাস আগ থেকে সাংস্কৃতিককর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও শ্রমিকেরা কাজ শুরু করেন। চার শতাধিক পুলিশ, র‌্যাব ও স্বেচ্ছাসেবক মাঠের চারপাশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন।
একুশের আলো উদযাপন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক নাট্যকার কচি খন্দকার বলেন, ১৯৯৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এ ব্যতিক্রমী আয়োজন শুরু হয়। ভাষা আন্দোলনে যে বীর শহীদেরা আত্মত্যাগ করেছে, সেই ৫২ সালকে স্মরণ করে নড়াইলে প্রতিবছর এটি পালন হয়।
প্রতি বছরের মতো এবারো নড়াইলবাসী, ঢাকাসহ নড়াইলের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক হাজার দর্শনার্থী উপভোগ করেন এ মনোরম দৃশ্য। একটি বেসরকারী চানেল গত কয়েকবছর ধরে একুশ উদযাপন কর্মসূচি সরাসরি সম্প্রচার করে আসছে।