নড়াইলে ২৪ এসএসসি শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত! দায় কার?

134

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪ পরিক্ষার্থীর এসএসসি নিবন্ধন ও প্রবেশপত্রে “অর্থনীতি” বিষয়ের পরিবর্তে পৌরবিজ্ঞান (সিভিকস এন্ড সিটিজেনশীপ) অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নির্ধারিত বিষয়ে পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে বিষয় পরিবর্তন করে অর্থনীতি অন্তর্ভূক্ত করতে ছাত্রদের কাছে ১হাজার টাকা দাবী করেছে এ স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকেরা জানায়, চলতি এসএসসি পরীক্ষার আগে নিবন্ধন ও প্রবেশপত্র হাতে পায় ছাত্ররা। ইতিমধ্যে বাংলা ২টি পত্রের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারী) বাংলা ২য় পত্রের পরীক্ষা চলাকালীন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষারত বালক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রবেশ পত্রে নির্ধারিত বিষয় না আসার ঘটনাটি ছাত্রদের নজরে পড়ে। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে অভিভাবকেরা প্রধান শিক্ষকের সাথে রাতে যোগাযোগ করলে তিনি এক হাজার টাকায় বিষয় পরিবর্তনের জন্য বলেন। ছাত্রদের স্কুলে সমাধানের জন্য আসার কথা বললেও সোমবার ০৪ জানুয়ারি সারাদির প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। ছাত্রদের অভিযোগ শিক্ষকদের ভুলে আমাদের নির্ধারিত বিষয় “অর্থনীতি”পরীক্ষা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা সোমবার ০৪ জানুয়ারী স্কুলে প্রধান শিক্ষককে না পেয়ে সকালে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ জানালে তিনি বিষয়টির সমাধানের জন্য স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে না পেয়ে যশোর বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে দাবী করে বলেন, আমাদের ছেলেদের যাতে কোন ক্ষতি না হয়, সে ব্যাপারে আগামিকাল মঙ্গলবার ৫ জানুয়ারি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ পত্র সংশোধন করে তাদের নির্ধারিত সাবজেষ্ট অর্থনীতির পরীক্ষা দিতে পারে সে ব্যবস্থা করছি।
এ দিকে পরীক্ষার্থীরা বলেন, কাল ইংরেজী পরীক্ষা, কঠিন এই পরীক্ষার প্রস্তুতির চেয়ে ছাত্ররা বিষয় পরিবর্তনের ঘটনায় সময় ব্যয় করায় প্রস্তুতিতে ঘাটতি পড়তে পারে বলে ছাত্রদের অভিযোগ।
চলতি বছরের এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় নড়াইল জেলায় মোট ১০ হাজার ৯’শ ৫৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ৮হাজার ৯’শ ৪৬, দাখিল ১হাজার ২’শ ২৭ এবং ভোকেশনাল ৭’শ ৮৩ জন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ৩টি উপজেলায় ১৮টি স্কুল,৩টি মাদ্রাসা এবং একটি টেকনিক্যাল স্কুল সহ মোট ২১টি কেন্দ্রে এসকল পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।