শামুক চাষে অপর সম্ভাবনার জেলা নড়াইল

43

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : বাংলাদেশের বিভিন্ন জলরাশি যেমন পুকুর, খাল, বিল ও বাওরে প্রায় ৪৫০ প্রজাতির শামুক পাওয়া যায়। এর মধ্যে চরষধ মষড়নড়ংধ (আপেল শামুক) ও ঠরারঢ়ধৎঁং নবহমধষবহংরং (পন্ড স্নেইল) ব্যাপক মাত্রায় পাওয়া যায়। শামুকের ব্যাপক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ শামুকের মাংস খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করে থাকে। সাধারণত কিছু আদিবাসী ভিন্ন বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ শামুকের মাংস খাদ্য হিসেবে গ্রহণে অভ্যস্থ নয়।
উল্লেখ্য, শামুক চাষ ও সংরক্ষণের অপর সম্ভাবনাময় জেলা নড়াইল। ভৌগলিকভাবে এ জেলা বিল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রচুর পরিমান গলদা চিংড়ি চাষ হয়। গ্রামিণ পর্যায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতে পুকুর রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, জেলা পরিষদের রাস্তার দুইপার্শে¦ ছোট ছোট ক্যানেল রয়েছে। এছাড়া ৫টি নদী, ১২৪টি খাল এবং ৪০ হাজার উর্দ্ধে পুকুর রয়েছে। এ অঞ্চলে গলদা চিংড়ির খাদ্য হিসাবে দিনে প্রায় গড়ে ৬৬.৫ কেজি/হেক্টর শামুকের মাংস ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলোয় বসবাসরত উপজাতী জনগোষ্ঠিরা ক্ষুদ্র পরিসরে শামুকের চাষ করছে। এ জেলায় শামুকের চাষ করার সবচেয়ে উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। শামুক চাষের ক্ষেত্রে আলাদা খাবার দেয়ার প্রয়োজন হয় না। মাছ চাষের পুকুরে মাছের জন্য ব্যবহৃত খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ শামুক ভক্ষণ করে থাকে। শামুক পুকুরে বায়ো-ফিল্টার হিসেবে কাজ করে বিধায় পানির গুণাগুণ ভাল থাকে। মানুষ ও মাছের খাদ্য হিসেবে শামুকের চাহিদা থাকায় বাংলাদেশে শামুক চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্য চাষের ক্ষেত্রে ফিশ মিলের বিকল্প হিসেবে শামুক ব্যবহার করা হয়।
পরিকল্পিতভাবে পুকুরে মাছের সাথে শামুকের সমন্বিত চাষ বা এককভাবে শামুকের চাষ করার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠির জীবন জীবিকার উন্নয়ন করা যেতে পারে। বিশ্বব্যাপী মানুষের উচ্চ প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলের জন্য স্বাদুপানির আপেল শামুকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শামুক অতিমাত্রায় আহরণের ফলে ইকোলজিক্যাল অসামঞ্জস্যতা তৈরী হতে পারে বিধায় শামুকের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র সংরক্ষণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং চাষ ও প্রজনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শামুকের প্রজনন ও পোনা উৎপাদন এবং চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন, দেশীয় জ্ঞান সম্প্রসারণ, শামুকের চাষ ও ব্যবস্থাপনার উপর দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, দরিদ্র সুফলভোগী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভাবনা রয়েছে।