ক্রিকেটারদের জন্য সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারের গাইডলাইন করা হচ্ছে -বিসিবি

50

ক্রিকেটাররা কী কী করতে পারবে, পারবে না সেই তালিকা করে প্রত্যেক প্লেয়ারকে দিয়ে সই করাবো। তা’হলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে। ক্রিকেটারদের একের পর এক নেতিবাচক কারণে শিরোনামে আসার জন্য বিব্রত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী ক’দিন আগেই বলেছিলেন, বোর্ড এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানও বললেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জাতীয় দল থেকে নিষিদ্ধও হতে পারেন ক্রিকেটারদের কেউ কেউ। কিন্তু মাঠের বাইরের শৃঙ্খলা ঠিক করার জন্য বিসিবি কী ভাবছে?
নাজমুল হাসান যেমন বললেন, বোর্ড বাইরে থেকে মনোবিদের সাহায্য নিতে পারে। এমনকি সিরিজের সময় খেলোয়াড়দের ফেসবুক-ইন্সটাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারির কথাও ভাবছে।
সফরের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়াকড়ি আরোপ বাইরের দেশেও নতুন কিছু নয়। তবে বিসিবি এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে অনেকটা বাধ্য হয়েই। বিশেষ করে সাব্বির রহমানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযোগটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভক্তকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হুমকি প্রদান করার জন্যই। তবে আগে নাজমুল হাসান মনোবিদের সাহায্য নেওয়ার কথা ভাবছেন, ‘আমরা সাইকোলজিস্ট নিয়ে আসার কথা ভাবছি, প্লেয়ারদের এই ব্যাপারে একটু ট্রেনিং দেওয়া যায় কি না সেটা দেখা হচ্ছে। আমরা তো খালি খেলায় জেতার জন্য ট্রেনিং দেই। এখন ওই অ্যাসপেক্টেও কিছু করা যায় কি না সেটি নিয়ে আমি কথা বলেছি অলরেডি। তারা যোগাযোগ শুরু করে দেবে। প্লেয়ারদের সাথেও কথা বলা হবে… কি কি করতে পারবে পারবে না।’
আজ কথাবার্তার সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়াকড়ির একটা প্রস্তাবও এসেছে, সেটিও জানালেন বিসিবি সভাপতি, ‘যেমন আজকেও একটা প্রস্তাব এসেছে, উদাহরণস্বরূপ- যখন তারা ট্যুরে যায় তখন সোশ্যাল মিডিয়াতে যোগাযোগ বন্ধ। ট্যুরের সময় যখন আছে তখন বন্ধ। এটা করব কি না সেটার সিদ্ধান্ত এখনও নেইনি। কিন্তু এটা নিয়ে গাইডলাইন তৈরি করছি। তারা কী কী করতে পারবে, পারবে না সেই তালিকা করে প্রত্যেক প্লেয়ারকে দিয়ে সই করাবো। তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সহজ হবে। সব কিছুর পরে কিন্তু ওদের নিজেদেরই ভালো হতে হবে। জোর করে কাউকে ভালো করানো যায় না। ওরা নিজেরা ভালো না হলে আমাদের কিছু করার নাই, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।’
এশিয়া কাপেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, সেটা নিয়ে কিছু বলেননি বিসিবি সভাপতি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কমবেশি সব ক্রিকেটারই বেশ সক্রিয়, সেটাও এক্ষেত্রে মনে করিয়ে দেওয়া উচিত।