অর্থবছরের প্রথম ৭ মাস; বেনাপোল দিয়ে পন্য আমদানি বাড়লেও রাজস্ব আদায়ে ধ্বস

0
31
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

বেনাপোল বন্দর দিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসের তুলনায় চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ৭মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ৫ লাখ ৬২ হাজার ৪৩৮ দশমিক ০৫ মেট্রিক টন বেশি পন্য আমদানি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে আমদানি হয়েছে ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬২০ দশমিক ৪৬ মেট্রিক টন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ৭ মাসে আমদানি হয়েছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার ১৮২ দশমিক ৪১ মেট্রিক টন। তবে বেনাপোলে রাজস্ব আদায় কমেছে। প্রথম ৭ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ২ হাজার ৩২৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা কম আদায় হয়েছে। কাস্টম কর্তৃপক্ষ বলছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে উচ্চ শুল্কযুক্ত পন্য আমদানি কমে গেছে। শুল্কমুক্ত পন্য ও কম শুল্কযুক্ত পন্য বেশি আমদানি হবার কারণে আমদানির পরিমাণ বাড়লেও রাজস্ব আদায় হচ্ছেনা।
বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে আমদানি হয়েছে এক লাখ ৪ হাজার ৪৯৩ দশমিক ৬৪ মেট্রিক টন, আগষ্টে আমদানি হয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ১৩৫ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন, সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি হয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন, অক্টোবর মাসে আমদানি হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৮০৪ দশমিক ৪৩ মেট্রিক টন, নভেম্বর মাসে এক লাখ ৩৬ হাজার ২৯৮ দশমিক ৮ মেট্রিক টন, ডিসেম্বর মাসে এক লাখ ৩৭ হাজার ৩০৪ দশমিক ৮৪ মেট্রিক টন এবং জানুয়ারি মাসে আমদানি হয়েছে এক লাখ ৬২ হাজার ১১৪ দশমিক ৬১ মেট্রিক টন পন্য।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টম বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, কম শুল্কযুক্ত পন্য আমদানি হলে রাজস্ব কমবে এটা স্বাভাবিক। তবে কাস্টম জোর করে আমদানিকৃত পন্যের শুল্ক দ্বিগুন করে দিচ্ছে। এতে করে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তাদের অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। যেকারণে পরবর্তীতে এলসি দিতে পারছেন না। যার প্রভাব আমদানিতে পড়ছে।
যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আল আমিন গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান খান হিরু জানান, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল। অথচ এই বন্দরের কোন উন্নয়ন নেই। তার উপর কাস্টম চলতি বছর থেকে অতিরিক্ত শুল্কহার নির্ধারণ করেছে। যাতে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। আবার পন্য এনে বন্দরে সময় ক্ষেপনেও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। যশোর-বেনাপোল সড়ক ৩৮ কিলোমিটারের পুরোটাই ভাঙ্গা, এতে পন্য পরিবহনে বেশি টাকা লাগছে ট্রাক ভাড়ায়। সব মিলিয়ে বেনাপোল ব্যবসায়ীদের জন্য অনুকুল পরিবেশ না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছে। যেকারণে এখানে রাজস্ব আদায় কমে গেছে।
এব্যাপারে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার বেলার হোসেন চৌধুরী জানান, আমাদের উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্যে আমদানি কমে গেছে। কম শুল্কযুক্ত পন্য বেশি আসছে। গত ৭ মাসে চাল আমদানি বেড়েছে। চালে মাত্র ২ শতাংশ শুল্ক। যেকারণে আমদানি বাড়লেও রাজস্ব আদায় কমেছে। এটা আগামীতে মাসগুলোতে ঠিক হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here