Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

যশোর বিমানবন্দরে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ দিন দিন বাড়ছে। গত ৯ বছরের ব্যবধানে বন্দরটিতে বিমান ওাানামার হার বেড়েছে ২-৩ গুন। এতে একদিকে মানুষের কাছে বিমান বন্দরটির গুরুত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্বও বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানের টিকেট সাশ্রয়ী মূল্য পাওয়া যাচ্ছে, একই সাথে যাত্রীসেবার মান বেড়েছে, যেকারণে যশোর-ঢাকা রুটে বিমান চলাচলের হার বেড়েছে।
১৯৪৬ সালে যশোর বিমান বন্দর গড়ে তোলা হয়। প্রথমে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট দিয়ে চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে বেসরকারি ৩টি বিমানের ফ্লাইট রয়েছে এই বন্দরে। আজ ২০ ফেরুয়ারি থেকে যশোর-ঢাকা রুটে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ চালু হচ্ছে। প্রতিদিন বাংলাদেশ বিমান ১টি, নভোএয়ারের ৩টি এবং ইউএস বাংলার ৪টি বিমান যশোর-ঢাকা রুটে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করছেন। আর আজ থেকে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করবেন।
যশোর বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে যশোর-ঢাকা রুটে বিমান ওাানামা করে ২ হাজার ৮৩৪টি, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩ হাজার ৮০৮টি, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩ হাজার ৪৯৮টি, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৪ হাজার ২১২টি, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৩২টি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪ হাজার ১৫০টি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪ হাজার ৪৭৬টি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫ হাজার ১৪টি এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিমান চলাচল করেছে ৬ হাজার ৪৯০টি ফ্লাইট। আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ওই রুটে বিমান চলাচলের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২১০টি, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭ হাজার ৫শ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৮শ।
এদিকে প্রতিষ্ঠার ৬৯ বছর পেরিয়ে গেলেও তেমন কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি যশোর বিমান বন্দরে। সেই পুরোনো ভবনে চলছে এর কার্যক্রম। বর্ধিত করা হয়নি রানওয়ের সীমানা। যেকারণে এখানে বড় উড়োজাহাজ চলাচল করার কোনো সুযোগ নেই। সেই সাথে নেই যাত্রীদের বসার মনরোম পরিবেশ। পার্কিং সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
যশোর বিমান বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৬ সালে ২২৫ একর জমির উপর গড়ে তোলা হয় যশেঅর বিমান বন্দর। জমির রিজাভ আছে আরও ৬২ একর। চালু হবার পর বাংলাদেশ বিমানের প্রতি সপ্তাহে ২টি করে ফ্লাইট উঠানামা করত।
এখানে রয়েছে ২টি ভিআইপি রুম। যাতে মাত্র ১২ জনের বসার ব্যবস্থা আছে। হোল্ডিং লাইঞ্জে বসার ব্যবস্থা রয়েছে প্রায় ৪০ জনের। অথচ যশোর বিমানবন্দর প্রতিদিন ব্যবহার করেন প্রায় ২ হাজার যাত্রী। তাদের আনা নেবার জন্য আসেন আরও শতাধিক মানুষ। বন্দরটি খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মানুষ ব্যবহার করায় প্রতিদিন থাকে আিইপিদের চাপ। এতে বিপাকে পড়তে হয় তাদের।
ইউএস বাংলা এয়ার যশোরের ব্যবস্থাপক সাব্বির হোসেন জানান, যশোর-ঢাকা রুটে এখন সাশ্রয়ী মূল্যে বিমানের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যারাত পর্যন্ত বিমান চলাচল করছে। এছাড়া সড়ক পথে অনেক ভোগান্তি থাকায় মানুষ বিমানের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। তিনি বলেণ, যশোর বিমানবন্দরটিতে যাত্রীদের বসার সংকট তীব্র। তাছাড়া পুরোনো রাডারে চলছে যশোর বিমান বন্দরের কার্যক্রম। এতে বৈমানিকদের বিমান চালাতে সমস্যা হচ্ছে।
রিজেন্ট এয়ার যশোরের ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর গুপ্ত জানান, আজ মঙ্গলবার থেকে আমাদের একটি করে ফ্লাইট চালু করা হচ্ছে। এটি চালু হলে যাত্রীদের সেবার মান আরও বাড়বে।
এসব ব্যাপারে যশোর বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক আলমগীর পাঠান জানান, যশোর বিমান বন্দরটির গুরুত্ব খুলনা বিভাগের সব জেলায় রয়েছে। সড়ক পথে অযথা ভোগান্তিএবং আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনকে দিন মানুষ বিমানের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। যাত্রীদের সেবার দিক বিবেচনা করে ইতিমধ্যে আমরা ২০১৫ সালের দিকে কিছু সংস্কার কাজ করেছি। আরও করা হবে।
বন্দরের পরিধি বাড়ানোসহ বিভিন্ন সমস্যা উল্লেখ করে সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছি। সেখানে ২ হাজার ফিট রানওয়ে বর্ধিত করা, পাকিং ব্যবস্থা বাড়ানো এবং টার্মিনাল ভবন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। যা বাস্তবায়ন হলে এসব সমস্যা আর থাকবেনা। তখন যাত্রীদের চাপ আরও বাড়বে।
এব্যাপারে যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, সড়ক পথে যেতে কমপক্ষে ৮ ঘন্টা সময় লাগে। তাছাড়া প্রতিযোগিতার বাজারে টিকেটের মূল্য কমায় যশোর-ঢাকা রুটে বিমানের হার বেড়েছে। তিনি আরও উন্নত সেবার দেবার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আহবান জানান। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর যশোর বিমান বন্দরের মান উন্নয়ন সা হওয়া দুখ:জনক। ক্রমশ যশোরসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলার অর্থনীতির উন্নয়ন হওয়ায় বিমানের যাত্রী বেড়েছে। অথচ প্রত্যাশা অনুযায়ী যাত্রীসেবার মান বাড়ানো হয়নি। তাই দ্রæত এই বন্দরের উন্নয়ন করাসহ বন্দরটিকে আন্তজার্তিক মানে উন্নিত করা প্রয়োজন।