Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা হৃদয়ে থাকা পেয়ারে পাকিস্তানওয়ালাদের থেকে দেশকে রক্ষা করতে দেশবাসীকে সজাগ ও সচেতন থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের যারা (বিএনপি) মন্ত্রী বানিয়ে লাখো শহীদের রক্তস্থাত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল, তাদের ব্যাপারে জাতিকে সচেতন থাকতে হবে। তাদেরকে কোন দিন আপনারা ক্ষমা করবেন না। জাতি যেন কোন দিন তাদের ক্ষমা না করে। আর আমরা এমন অন্ধকারে যেন আবার না পড়ি, ভবিষ্যতে আবারও যেন সেই ধরনের বিপদে পড়ে না যাই, সেই ধরনের অন্ধকার যুগের পরিবেশ যেন ভবিষ্যতে আর কোন দিন বাংলার মাটিতে ফিরে না আসে সেজন্য দেশবাসীকে সজাগ ও সচেতন থাকার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।
২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শনিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, যাদের হৃদয়ে থাকে পাকিস্তান। যারা বাংলাদেশে থেকে সব রকমের আরাম আয়েশ ও ফল ভোগ করলেও তাদের অন্তরাত্মাটা পড়ে থাকে পেয়ারে পাকিস্তানে। তাদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সচেতন থাকতে হবে। উচ্চ আদালতকে বাংলায় রায় লেখার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রায়ের বিষয়টি জানা ও বোঝার সুযোগ সাধারণ মানুষকে দিতে হবে। এ বিষয়টিও তো বিবেচনা করতে হবে। তবে এখন নিম্ন আদালতে ইতোমধ্যে বাংলায় রায় লেখা শুরু হয়ে গেছে। উচ্চ আদালতও আশা করি ভবিষ্যতে বাংলায় রায় দেবেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের চর্চা হঠাৎ করেই পরিবর্তন করা যায় না। তবুও আশা করি উচ্চ আদালত বিষয়টি দেখবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আবদুর রাজ্জাক, এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, প্রবীণ শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও আওয়ামী লীগের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আমরা দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলি। ’৭৫-এর পর মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের পরিচয় দিতে ভয় পেতেন, কারণ তখন রাজাকারদের দাপট ছিল। কী দুর্ভাগ্য আমাদের, জাতির পিতাকে হারানোর পর এই ছিল বাংলাদেশের অবস্থা। আওয়ামী লীগ সরকার টানা ৯ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে আজকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে আজ মানুষ গর্ববোধ করে, এখন আর ভীত-সন্ত্রস্ত হয় না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসগুলোও এখন সামনে এসেছে। মানুষ সত্য কথা বলা ও লেখার সুযোগ পাচ্ছে। মানুষের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে। এই আত্মবিশ্বাসটা যেন হারিয়ে না যায়। এমন কোন অন্ধকারে যেন আমরা না পড়ি যাতে আমাদেরকে আবারও অন্ধকারে ফিরে যেতে হবে, আবারও মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে মানুষ দ্বিধাগ্রস্ত হবে। সেই পরিবেশ যেন ভবিষ্যতে আর কোন দিন বাংলার মাটিতে ফিরে না আসে সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে যেন ভবিষ্যতে আবার যেন সেই ধরনের বিপদে আমরা পড়ে না যাই।
দেশবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের হৃদয়ে পেয়ারে পাকিস্তান, থাকেন বাংলাদেশে। সব ধরনের আরাম-আয়েশ করবে এ দেশে আর অন্তরাত্মাটা পড়ে থাকে পাকিস্তানে। তাদের জন্য এখনও কাঁদে পাকিস্তান। এসব পেয়ারে পাকিস্তানওয়ালাদের কাছ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করে চলতে হবে। দেশবাসীর কাছে এটাই আমার আবেদন। কারণ ভাষা শহীদের রক্তের পথ বেঁয়েই আমরা কিন্তু লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি স্বাধীনতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্টের খুনী, স্বাধীনতাবিরোধী-স্বাধীনতাবিরোধী যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার হয়ে সাজার রায় কার্যকর করা হয়েছে, তাদের যারা মন্ত্রী বানিয়ে লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত স্বাধীন পতাকা হাতে তুলে দিয়েছিল, জাতি যেন কোন দিন তাদের ক্ষমা না করে। সেটাই আমার জাতির কাছে আবেদন। যারা আমার মা-বোনদের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে, যারা এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে, অগ্নিসংযোগ করেছে, লুটপাট করেছে সেই সব যুদ্ধাপরাধীদের যারা মর্যাদা দিয়েছে, যারা এদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছিল, তাদের ব্যাপারে জাতিকে সচেতন থাকতে হবে। তাদের জাতি কোন দিন ক্ষমা করতে পারে না, ক্ষমা করবেন না। জাতির কাছে আজকের দিনে আমার এটাই আবেদন থাকল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ নি¤œ আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলাম। আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছি। বাংলাদেশ আরও একধাপ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়েছে। বাঙালী জাতি মর্যাদা পেয়েছে। এই অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। দেশবাসীর কাছে আমাদের অঙ্গীকার এই অগ্রযাত্রা আমরা অব্যাহত রাখব।
উচ্চ আদালত অচিরেই মাতৃভাষা বাংলায় রায় লিখবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চ আদালতে ইংরেজীতে রায় লেখা হয়। আমাদের দেশে অনেক সাধারণ মানুষ আছে তারা হয়তো ইংরেজী ভাষা ভাল করে জানে না। তার যে উকিল সাহেব আছে ওই রায় পড়ে তিনি যা বোঝান সেটাই তাদের বুঝতে হয়, জানতে হয়। উকিল সাহেব ভাল করে বললেন নাকি বুঝলেন, হয়তো বা এমন কথা বলে দিলেন যাতে বিচারপ্রার্থীর পকেট থেকে টাকা খসল। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, দয়া করে উকিল সাহেবরা কিছু মনে করবেন না। কিন্তু এটা তো বাস্তবতা।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, উচ্চ আদালতের রায়টা পাওয়ার পর সাধারণ মানুষটা কিন্তু তা পড়ে বুঝতে পারছেন না। তিনি যার ওপর নির্ভর করছেন উনি (আইনজীবী) যেভাবে বলছেন সেটাই তাকে বুঝতে হচ্ছে। তাতে যদি তার কিছু পকেটও খালি হয় সেটাও হচ্ছে। কাজেই তাকে তো রায়ের বিষয়টি জানা ও বোঝার সুযোগ দিতে হবে। এ বিষয়টিও তো বিবেচনা করতে হবে। তবে এখন নি¤œ আদালতে ইতোমধ্যে বাংলায় রায় লেখা শুরু হয়ে গেছে। উচ্চ আদালতও আশা করি ভবিষ্যতে বাংলায় রায় দেবেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের চর্চা হঠাৎ করেই পরিবর্তন করা যায় না। তবুও আশা করি উচ্চ আদালত বিষয়টি দেখবেন। পুরো ইংরেজী রায়টা ভাষান্তর করা হোক, অনুবাদ করা হোক। অনুবাদের বিপক্ষে আমরা নই। অন্ততপক্ষে বাংলা ভাষায় রায় লিখলে বিচারপ্রার্থী যে ন্যায় বিচারটা চাচ্ছিল, তিনি কী বিচার পেল অন্তত সেটুকু তারা জানতে পারবেন। এই সুযোগটা তাদের থাকা উচিত। এই চর্চাটা থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি। দেশের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে দেশে আমরা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। সেখানে বাংলা শেখার ব্যবস্থা থাকবে না কেন? বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, অনেকের বিয়ের দাওয়াত কার্ডও এখন ইংরেজীতে লেখা হয়। এটা কেন লিখতে হবে? ইংরেজী ভাষাভাষীর জন্য সেটা হতে পারে। তবে আমাদের দেশে বিয়ের কার্ড কেন ইংরেজী ভাষায় লিখতে হবে? এর মধ্যে তো কোন আলাদা মর্যাদা নেই। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে অন্য ভাষাও শিখতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বে যোগাযোগ বাড়াতে এটা জরুরী। এই সময়ে যে যত বেশি ভাষা শিখতে পারে তার জন্য তত ভাল। তবে সবার আগে ভালভাবে বাংলা ভাষা শেখাটা জরুরী। আগে যারা ইংরেজী শিখত না তারা এখন এ ভাষা শিখতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে বাংলাকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা অন্য ভাষার চর্চা করব। ইংরেজী ভাষার অনেক শব্দও তো আমরা বাংলা ভাষায় গ্রহণ করেছি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় ইংরেজী ও বাংলা ভাষার সংমিশ্রণে ভাষার বিকৃতকারীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইংরেজী টোনে বাংলাকে বিকৃত করে বলার একটা যেন চর্চা শুরু হয়ে গেছে। এটা কেন আমরা জানি না। ’৭৫-এর পর দীর্ঘ ৬ বছর আমরা দেশে থাকতে পারিনি, বিদেশে থাকতে হয়েছে। ছেলেমেয়েরা বিদেশে পড়াশুনা করতে বাধ্য হয়েছে, যেখানে এতটুকু বাংলা শেখার সুযোগ ছিল না। কিন্তু আমি ও ছোট বোন শেখ রেহানা সব সময় চেষ্টা করেছি ছেলেমেয়েদের বাংলা শেখাতে। প্রতি সপ্তাহে তাদের বাংলায় চিঠি লিখতাম। ছুটিতে আসলে বাংলা শেখাতে চেষ্টা করতাম। যাতে করে তারা কিছুটা হলেও মাতৃভাষা জানুক। জানার সুযোগ পাক। তারা বিদেশে থেকেও যতটুকু বাংলা শুদ্ধভাবে বলতে পারে, অথচ দেখি বাংলাদেশে থেকেও ভাল একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে তারা যেন বাংলা বলতেই পারে না। বলতে গেলেও একটু বিকৃত করে বলে। সেখানেই বড় দুঃখ লাগে।
তিনি বলেন, যারা এ দেশের মাটিতেই মানুষ হচ্ছে তাদের মধ্যে এ ধরনের বিকৃতি থাকবে কেন? আমি আবারও বলছি, আমি কিন্তু অন্য ভাষা শেখার পক্ষে। যত রকম ভাষা শেখা যায় সেটাকে আমরা অবশ্যই সমর্থন করি। আমরা এটাও চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার পাশাপাশি দ্বিতীয় ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ দ্বিতীয় ভাষা শিখলে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি। এখন গ্রামে বসে আমাদের ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন ভাষা শিখে অনলাইনে অনেক অর্থ উপার্জন করছে। যে ভাষা আমাদের মায়ের ভাষা, যে ভাষায় আমরা কথা বলি, যে ভাষার জন্য দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে- সেই ভাষার চর্চা তো আমাদের করতে হবে। সেই শিক্ষাটা পেতে হবে। এ ব্যাপারে পরিবার থেকেও উৎসাহিত করতে হবে। পরিবার থেকে না করলে কিন্তু তা শেখা যায় না। সেটাই আমরা চাই।
প্রধানমন্ত্রী ’৭৫ পরবর্তী সেনা শাসনের কথা তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগই ৫৬ সালে সরকার গঠন করে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রই রচনা শুধু বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার স্বীকৃতি দেয়নি, বরং ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং দিনটিকে সরকারী ছুটির দিন ঘোষণা করে। সেই সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে ও অর্থ বরাদ্দও দেয়। কিন্তু আইয়ুব খান মার্শাল ল জারির পর সেটা আর বাস্তবায়িত হয়নি। স্বাধীনতার পর ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছি।
তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশ আবার পিছিয়ে যায়। ঠিক যেভাবে আইয়ুব খান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে সামরিক শাসক ও রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিল, ঠিক তেমনিভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সে রকম সেনা শাসন জারি করা হয়। সেনা প্রধান নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। একের পর এক সামরিক শাসক কখনো প্রকাশ্যে, কখনো আবরণ দিয়ে ক্ষমতা ক্যান্টনমেন্টেই থাকে। কাজেই বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে যতটুকু এগিয়ে যাওয়ার কথা, ততটা এগিয়ে যেতে পারেনি। ২১ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গ্রহণের পর শুধু ভাষার স্বীকৃতি নয়, বাংলা ভাষার চর্চা, উৎকর্ষ সাধনে যা যা করার তার সবই করেছে। আওয়ামী লীগের উদ্যোগেই ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি পায়। সারাবিশ্বের মাতৃভাষা সংরক্ষণ, গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপন করি।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশকে যেন পাকিস্তানের প্রদেশ বানানোরই চেষ্টা হয়েছিল। তখন পরাজিত শত্রুর প্রতি (ক্ষমতাসীনদের) তোষামোদি আমরা দেখেছি। অনেকে জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা বলার চেষ্টা করেন। জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়া, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃতি খুনীদের বিচার না করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা। যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী-উপদেষ্টা বানিয়ে তাদের হাতে রক্ত¯œাত জাতীয় পতাকা তুলে দেয়া। দেশের মানুষ এটা কোনদিনই ভুলে যাবে না।
ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সাবেক একজন প্রধান বিচারপতিকে প্রধান করে দ্রুত একটি ভাষা কমিশন গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে আমাদের স্বাধীনতাই অর্থহীন হয়ে পড়বে। সংবিধানের রক্ষক দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে বাংলায় রায় পেতে আমাদের আরও কত শত বছর যে অপেক্ষা করতে হবে তা জানি না। এখন দাওয়াত কার্ডও ইংরেজীতে লেখা হয়, এটা কী ধরনের হীনমন্নতা? বাস্তবে শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় কার্যত আমরা ব্যর্থ হয়েছি।
অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্বরিত ও সাহসী পদক্ষেপ না নিলে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি অর্জনের সুযোগ আমরা হারাতাম। পাকিস্তানীরা ভাষাকে সাম্প্রদায়িকীকরণের উদ্দেশেই উর্দুকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তারা জানত ভাষা হারিয়ে ফেললে বাঙালীরা তাদের সংস্কৃতি ও নিজস্ব স্বকীয়তাও হারিয়ে ফেলবে। কিন্তু বীর বাঙালীরা পাকিস্তানীদের সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হতে দেয়নি।