গোপালগঞ্জে বিষ মুক্ত বিটি বেগুন চাষে আগ্রহী কৃষকেরা

0
56
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

অল্প জমিতে অধিক ফলন ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন না হওয়ায় বিটি বেগুন চাষ বাড়ছে।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ‘বারি বিটি’ জাতের এই বেগুন চাষ করে অনেক কৃষকই লাভবান হয়েছেন। আর এ কারণে দিন দিন এ জাতের বেগুন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এ জেলার কৃষকেরা।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গহরডাঙ্গা গ্রামের আদর্শ কৃষক নাসির হোসেন। আগে তার জমিতে আলুসহ অন্যান্য সবজির চাষাবাদ করতেন। কিন্তু কাঙ্খিত ফলন না পেয়ে অনেকটা হতাশ ছিলেন এই কৃষক।হতাশাগ্রস্থ এই কৃষক অবশেষে গত বছর শরনাপন্ন হন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে। তিনি কৃষি বিভাগের সহায়তা নিয়ে এখন একজন আদর্শ বেগুর চাষীতে পরিনত হয়েছেন বলে জানান।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট তখন তাকে তাদের উদ্ভাবিত “বারি বিটি-৩ ও ৪” জাতের বেগুন চাষাবাদের পরামর্শ দেন। এছাড়া এ জাতের বেগুন চাষের জন্য তার ৪০ শতাংশ জমির উপর একটি পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী প্লট করতে সহায়তা করেন।তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী গেল বছরের অক্টোবরে প্রায় ১ হাজার ৩শ’ চারা রোপন করেন এবং এ বছরের জানুয়ারী থেকে প্রতিদিন গড়ে এক মন বেগুন বাজারে বিক্রি করতে পারছেন। দামও পাচ্ছেন ভালো।
কৃষক ও কৃষি বিভাগ বলছে, বেগুন চাষের সময় ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে ৭০-৮০ ভাগ বেগুন মাঠেই নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য প্রতিবছর কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। ফলে বেগুন চাষের খরচ বেড়ে যায় এবং কৃষকরা এ থেকে লাভবান হতে পারেন না। তাছাড়া প্রচুর পরিমাণে কীটনাশকের ব্যবহার মানবদেহের জন্যও ক্ষতিকর। পোকার আক্রমণে সহনীয় হিসেবেই বারি বিটি-১,২,৩ ও ৪ নামে চারটি নতুন জাত উদ্ভাবন করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।এসব জাতের বেগুনে ডগা ও পোকা আক্রমণ করতে পারে না। ফলে বিষমুক্ত বেগুন উৎপাদন সম্ভব হয়।
এবছর জেলায় কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের আওতায় ১শ’ ২০ বিঘা জমিতে ১২০ টি প্রদর্শনী প্লট ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওয়াতায় ২৫ বিঘা জমিতে ৪৪ প্লটে বারি বিটি ৩ ও ৪ জাতের বেগুনের পরীক্ষামূলক চাষাবাদ হচ্ছে।এসব প্রদর্শনী খামারে অধিক ফলন ও কম খরচে বেশি লাভ দেখে নাসির হোসেনের মত সাধারণ কৃষকরাও বিটি বেগুন চাষে ঝুঁকছেন।তারা আগামীতে তাদের জমিতে এই জাতের বেগুন চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।
বারি-র টুঙ্গিপাড়া অফিসের বৈজ্ঞানিক সহকারী মোঃ লুৎফর রহমান তামিম জানান, অন্যান্য জাতের বেগুনে পোকার আক্রমনের কারনে বিষ স্প্রে করা লাগলেও বারি উৎভাবিত বারি বেগুন গাছে বিষ স্প্রে করা লাগেনা। তা’চাড়া এর উৎপাদনও সন্তোষ জনক।কৃষকেরা এ জাতের বেগুন চাষ করলে লাভবান হকত পারবে বলে তিনি জানান।

গোপালগঞ্জ বারি’র উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এইচ এম খায়রুল বাসার ও গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রাসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী বললেন, এই সবজি বিষমুক্ত এবং খেতে সুস্বাদু। অনুকুল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। তাই কৃষকরা লাভবান হবেন। আগামীতেও আগ্রহী কৃষকদের জন্য সব ধরণের সহযোগীতা করা হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
জেলায় ১৬৪ টি পরীক্ষামূলক প্রদর্শণী প্লটে ১৪৫ বিঘা জমিতে এই জাতের বেগুনের চাষাবাদ হয়েছে এবছর।আগামী বছর এ বেগুনের চাষাবাদ আরো বাড়বে বলে ‍কৃষি সংশ্লিষ্টরা আশা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here