Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

যে খালেদাকে চিনতাম এই খালেদা সেই খালেদা না। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে আমাদের সাংবাদিকতার শুরু। জিয়ার বিধবা পত্মী খালেদা জিয়াও এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে রাজনৈতিক নেত্রী হয়েছেন। তখন দুটি ঘটনার ছবি তাকে লাইম লাইটে নিয়ে আসে। এক।। তার নেতৃ্ত্বের অবস্থান ধর্মঘট থেকে সচিবালয়ের দেয়াল ভাঙ্গার ঘটনার ছবি, দুই।। হোটেল পুর্বানী থেকে তাকে আটকের ঘটনার ছবি। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ এরশাদের অধীনে নির্বাচনে গেলো, বিএনপি গেলোনা।
খালেদার নাম হয়ে গেলো আপোসহীন নেত্রী। সেই নির্বাচনে না যাবার অনেক কারনে মধ্যে অন্যতম ছিলো বিএনপি তখন হতচ্ছাড়া একটি দল। মওদুদ আহমদ থেকে শুরু করে এর বেশিরভাগ নেতা তখন এরশাদের সঙ্গে ভেগে গেছেন। ছাত্রদল ছাড়া এর সংগঠিত সংগঠন বা তিনশ আসনে প্রার্থী দেবার মতো অবস্থা ছিলোনা। ‘জিয়ার সঙ্গে জিয়ার অধীনে রাজনীতি করেছি বলে জিয়ার স্ত্রীর অধীনে রাজনীতি করবো নাকি’! আজকের কোন কোন বিএনপি নেতা তখন এরশাদের সঙ্গে গিয়ে এমন মন্তব্যও করেছেন।
খালেদা জিয়া তখন একরঙা সুতি শাড়ি পরতেন বেশি। মোটা পাড়ের শাড়ি। তখনও তার বৈধব্যের সাজ। হাঁটতে পারতেন খুব। মিছিলের সঙ্গে হেঁটে প্রেসক্লাব পর্যন্ত চলে আসতেন। শেখ হাসিনা তখন আটদল, খালেদা জিয়া সাতদলের নেত্রী। আজকের ১৪ দল, ২০ দলের মতো তখনও জোটের প্রায় সব দল একরকম নামকাওয়াস্তের দল। রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনুদের পাঁচদল। আজকের মতো তখনও শেখ হাসিনার সঙ্গে খালেদা জিয়ার প্রায় খিটিমিটি লেগে যেতো। তখন তাদের থামাতে রেফারির ভূমিকা নিয়ে তাদের থামাতেন ইনু-মেননরা।
কারন তারা সবাই জানতেন দুই নেত্রীর ঐক্য ছাড়া এরশাদের পতন সম্ভব নয়। শেখ হাসিনার বিজ্ঞানী স্বামী ড ওয়াজেদ আলী মিয়ার মহাখালীর সরকারি বাসভবনে প্রথম দুই নেত্রীর বৈঠক হয়। এমন একেকটি বৈঠকের পর বেড়ে যেতো আন্দোলনের গতি। এরপর এরশাদের পতন ঘটলো। নির্বাচনে অবিশ্বাস্যভাবে ক্ষমতায় আসলেন খালেদা জিয়া। তার সেই আপোসহীন নেত্রীর ইমেজ, আওয়ামী লীগ বিরোধী ভোটের সংখ্যাধিক্য সেই নির্বাচনে খালেদার বিজয়ের অন্যতম অনুঘটক ছিলো।
কিন্তু ভোটের পর বদলে যেতে শুরু করেন চেনা খালেদা জিয়া! তিন জোটের রূপরেখায় ছিল রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকারের বদলে সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। কিন্তু খালেদার রানী রানী অথবা ম্যাডাম ম্যাডাম ভাবখানা ছিল রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির ঘরানার। অথবা সংসদ নেত্রী হিসাবে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পরিচালনা, সংসদে বিরোধীদলকে মোকাবেলায় তার অথবা তাকে নিয়ে তার দলের আস্থার অভাব ছিলো। ওই সময় মূলত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ এক রকম চাপ দিয়েই খালেদাকে-
বিএনপিকে তিন জোটের রূপরেখা মাফিক সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনে রাজি করান। অতঃপর খালেদা জিয়াকে সংসদীয় দীক্ষা দিতে যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মন্ত্রীর মর্যাদায় সংসদ নেত্রী খালেদা জিয়ার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়। ক্ষমতায় গিয়ে সুতি শাড়ির বদলে জর্জেট শাড়ি পরতে শুরু করার পাশাপাশি বেরিয়ে আসতে শুরু করে খালেদা জিয়ার আসল চেহারা! যে সুতি শাড়ি পরা যে খালেদাকে রাজপথে দেখতাম নতুন এই খালেদাকে আমার কাছে অচেনা মনে হয়।
জামায়াতের সঙ্গে তখনও বিএনপির অফিসিয়েল জোট হয়নি। কিন্তু যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের নাগরিকত্বের পক্ষে অবস্থান নেন খালেদা জিয়া! গণ আদালতে গোলাম আযমের বিচার করায় শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সহ ২৪ জন বিশিষ্ট নাগরিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেন সেক্টর কমান্ডার জিয়ার স্ত্রী! তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে জিতে এসে খালেদা জিয়া বলতে শুরু করেন পাগল-শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ হতে পারেনা!
মুক্তিযুদ্ধের পর খালেদার সংসার বাঁচিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন খালেদা জিয়া! প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বর্জনের মুখে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাজনৈতিক দল ফ্রিডম পার্টির নেতাদের জিতিয়ে আনেন সংসদে! বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রশীদকে করা হয় জাতীয় সংসদের বিরোধীদের নেতা! এভাবে আধুনিক সাজ পোশাকের খালেদা জিয়া দিনে দিনে ঝুঁকে পড়েন চরম দক্ষিনপন্থার দিকে! খালেদা জিয়ার সেই ভোটারবিহীন ১৫ ফেব্রুয়ারির সংসদ অবশ্য টিকেছিল মাত্র ১৯ দিন।
১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে ২১ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে আসে আওয়ামী লীগ। এবার যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতকে নিয়ে খালেদার নেতৃত্বে অফিসিয়েল রাজনৈতিক জোট হয়। তার এই জোটে এরশাদও ছিলেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ট্র্যজেডি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগের নিজস্ব ভোট ৩৫ শতাংশের বেশি নয়। আওয়ামী বিরোধী ভোট ৬৫ শতাংশ। এর বেশিরভাগ আবার ভাসমান ভোট। এই ভাসমান ভোটাররা ভোটের দিন যে পক্ষে অবস্থান নেন তারা বিজয়ী হয়। প্রতিপক্ষ তখন এক রকম হারিয়ে যায়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এই আওয়ামী বিরোধী ভোটব্যাংকের ভোটে নির্বাচনে জিতে আসেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জিতে আসতে আওয়ামী বিরোধী ভোটব্যাংককে বিভক্ত রেখে আওয়ামী লীগকে জিততে হয়েছে।
বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত আলাদা আলাদা নির্বাচন করেছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে আবার আওয়ামী বিরোধী ভোটব্যাংকের ঐক্যের কাছে হেরে যান শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার আর শহীদ জননীর আন্দোলনের পক্ষ নেয়ায় ক্ষুদ্ধ আওয়ামী বিরোধী সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের লোকজনও তখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছিল। বিচারপতি লতিফুর রহমান এই পক্ষকে নেতৃত্ব দেন।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী খালেদা জিয়া মরিয়া আচরন শুরু করেন। সরকারি ব্যবসা-বানিজ্য বাগিয়ে নিতে আগে সক্রিয় ছিলেন তার ভাই, দুই ছেলে। এবার হাওয়া ভবন নাম দিয়ে শুরু হয় ওপেন সিক্রেট দুর্নীতি বানিজ্য। ফালু-মামুন সহ নানা সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। হাওয়া ভবনের নামে চালু হয় প্যারালাল শাসন!
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী আত্মস্বীকৃত দুই যুদ্ধাপরাধী নিজামি-মুজাহিদের গাড়িতে দেয়া হয় মন্ত্রিত্বের পতাকা! ক্ষমতার দাপটে ধরাকে সরাজ্ঞান করার মানসিকতাটি এমন বেপরোয়া রূপ নেয় যে বিরোধীদলের নেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় আর্জেস গ্রেনেড ছুঁড়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়! ঘটনা ধামাচাপা দিতে জজ মিয়া নাটক সাজানো হলেও পরে ধরা পড়ে শেখ হাসিনাকে হত্যা চক্রান্তের বৈঠকগুলো হয়েছে হাওয়া ভবনে এবং উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর মন্ত্রিপাড়ার বাসায়! মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মিডিয়া ধংসে সক্রিয় ভূমিকা নেয় খালেদা-জামায়াতের সরকার। একুশে টিভি বন্ধ করে চালু করা হয় ফালুর এনটিভি। জনকন্ঠ পত্রিকাটিকেই শুকিয়ে মারার সরকারি উদ্যোগের কারনে জনপ্রিয় পত্রিকাটির সাংবাদিক-কর্মচারীদের বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। সেই পত্রিকাটি আর কোনদিন ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
১৯৯১ সালে নির্বাচনে জিতে এসে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা এড়াতে খালেদা জিয়া বলেছিলেন পাগল-শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ হতে পারেনা! ২০০৬ সালের নির্বাচনে নিজেদের বৈতরনী নিরাপদ করতে দলীয় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠন করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার! এই সরকারকে উচ্ছেদ করে প্রতিষ্ঠিত জেনারেল মইন-ফখরুদ্দিনদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ড কামালদের পরামর্শে নজিরবিহীনভাবে প্রায় দুই বছর ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখে! ওই সরকারের আমলেই অবশ্য তছনছ হয় বিএনপির অর্থনৈতিক বুনিয়াদ। পলায়নপর বিএনপির এমপি-নেতা-কর্মীদের বাড়িতে-পুকুরে পাওয়া যেতে থাকে ত্রানের ঢেউটিন! জীবনে আর রাজনীতি না করার লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে চিকিৎসার জন্যে বিদেশ চলে যেতে হয় খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক-কোকোকে।
সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার আনুকূল্য থাকায় মইন-ফখরুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এমন কিছু অনিয়ম মামলার সন্ধান পায় যেটি রাজনৈতিক সরকারগুলো পায়নি। যেমন খালেদা জিয়ার এতিমখানা দুর্নীতি মামলা। জিয়ার নামে এতিমখানা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে এই টাকাগুলো আনা হয়েছিল ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর। কিন্তু সেই এতিমখানা আর হয়নি। মাঝে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেও এতিমখানা দুর্নীতির বিষয়টি টের পায়নি।
সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সংগ্রহ করা তথ্য-উপাত্ত ডকুমেন্টস নিয়ে মামলাটি করে দুদক। বাংলাদেশে এরশাদের দুর্নীতি এক সময় বিশেষ আলোচিত ছিলো। যদিও এরশাদের দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থবিত্তের খুব কমই উদ্ধার হয়েছে। খালেদা জিয়ার এই দুর্নীতি মামলাটিতেও আড়াই কোটি টাকার কম আত্মস্মাতের অভিযোগ। কিন্তু এর কাগজপত্রগুলো এত শক্ত যে বিএনপির আইনজীবীরা দিনের পর দিন নানা উসিলায় এটিকে বিলম্বিত করা চেষ্টা করেছেন। আদালতে মামলাটি চলার সময় একটি প্রশ্নের উত্তর খালেদার আইনজীবীরা এড়িয়ে গেছেন! তাহলো টাকাগুলো কার ব্যাংক একাউন্টে ক্যাশ করা হয়েছে? আরেকটি প্রশ্নের উত্তর কারো কাছে নেই। তাহলো এতিমখানাটি কোথায়? ১৯৯১ সালের পর ২০০১ সালে আবার ক্ষমতায় এসেছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু এতিমখানা আর করেননি। ক্ষমতার বাইরে থেকেও করা যেতো। করেননি।
দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে চলা এতিমখানা মামলাটির দন্ড নিয়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া আজ জেলখানায়। তার দল বলে যাচ্ছে এটি একটি সাজানো মিথ্যা মামলা। এই কথাগুলো বলতে মামলাটি খারিজ করাতে তারা হাইকোর্ট সুপ্রিমকার্ট পর্যন্ত গিয়েছিল। কিন্তু শক্ত তথ্য প্রমানাদির কারনে হাইকোর্ট সুপ্রিমকার্ট তাদের কথা শোনেনি। এখন বলা হচ্ছে এত হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি-লুটপাট হচ্ছে। মাত্র ২ কোটি টাকার অভিযোগে খালেদা কেনো জেল খাটবেন।
বাংলাদেশের দুর্নীতি উচ্ছেদে এটি একটি বড় বাধা। সবাই দুর্নীতি উচ্ছেদের কথা বলে। কিন্তু নিজেদের দুর্নীতি স্বীকার করেনা। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে খালেদা ক্ষমতার বাইরে। কোন স্বীকৃত ব্যবসা-আয়ের উৎস ছাড়া দেশে-বিদেশে তার সংসার কীভাবে চলে, এসব অর্থ ভূতে জোগায় কিনা তা জিজ্ঞেস করতে মানা! যে জিজ্ঞেস করবে সে নিরপেক্ষতা হারাবে!
ক্র্যাচের কর্নেল’ বইতে আছে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে বদলি হয়ে ঢাকায় আসার আগে কর্নেল তাহেরে স্ত্রী লুৎফা তাহেরকে খালেদা জিজ্ঞেস করেছিলেন, ঢাকায় কোথায় বাজার করলে সস্তায় বাজার করা যাবে। সোয়ারিঘাট থেকে মাছ কিনলে সস্তায় মাছ কেনা যাবে কিনা। এক সিনিয়র সাংবাদিক খালেদার শাড়িপ্রীতি অথবা লোভের এক গল্প বলেছিলেন। জিয়া প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকতে খালেদা তার বড় বোন খুরশিদ জাহান হককে নিয়ে স্টেডিয়াম মার্কেটের পাবনা শাড়ি স্টোরে এসে অনেকগুলো শাড়ি দেখেন। কিন্তু শাড়ির দাম শুনে কিছু না কিনেই চলে যেতে উদ্যত হন। দোকানি এরমাঝে জেনে যায় ইনি জিয়ার স্ত্রী।
দোকানি তখন সবগুলো শাড়ি প্যাকেট করে তাদের হাতে তুলে দিয়ে বলে দাম দিতে হবেনা। খুশিতে গদগদ দুই বোন শাড়িগুলো নিয়ে এসে সেনানিবাসের বাড়ির নানা জায়গায় লুকোন। কিন্তু জিয়া টের পেয়ে সবগুলো শাড়ি দোকানটায় ফেরত পাঠান। জিয়ার ঘনিষ্ঠ ওই সাংবাদিক জিয়ার সততা আর খালেদা জিয়ার লোভ উল্লেখ করতেই ঘটনাটি বলেছিলেন। জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির রাজনীতিতে আসা সেই খালেদা জিয়াই একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের পক্ষে হেঁটে দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছেন।
ততক্ষন তাকে আমরা চিনতাম। কিন্তু সেই ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে স্বামীর নামে এতিমখানা প্রতিষ্ঠার জন্যে টাকা এনে দীর্ঘদিনেও এতিমখানাটি কেন তিনি করলেননা সে প্রশ্নের উত্তর নেই। এই খালেদাকে আমরা চিনিনা। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ কেন এই মামলাটির সন্ধান পায়নি বা করেনি এর উত্তর দলটিকে দিতে হবে। এখন দুর্নীতির দন্ডপ্রাপ্ত এই খালেদাকে রাষ্ট্র যে ব্যক্তিগত গৃহপরিচারিকা ফাতেমা সহ আরামদায়ক জেলজীবন দিয়েছে এর উত্তরও একদিন দিতে হবে আওয়ামী লীগ তথা এর নেত্রী শেখ হাসিনাকে।

ফজলুল বারী : পরিব্রাজক সাংবাদিক, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী।
fazlulbari2014@gmail.com