Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

মুক্তিযুদ্ধের ৪৭ বছর পর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাষ্কর্যের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে জহরের কান্দি গ্রামে পূর্ব কোটালীপাড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি মুক্তিযোদ্ধা কবি কাজী রোজী ফিতা কেটে ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে হেমায়েত উদ্দিন বীর বিক্রম হেমায়েত বাহিনী গঠন করে জহরের কান্দি গ্রামের পূর্ব কোটালীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে তোলেন।গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল জেলার নারী মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিযোদ্ধারা এ ক্যাম্প থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। হেমায়েত উদ্দিনের নেতৃত্বে কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল ইউনিয়নের রাজাপুর, রামশীল, জহরের কান্দিসহ গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও বরিশাল এলাকায় পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তোলে। এসব যুদ্ধে হেমায়েত বাহিনীর ২৮ মুক্তিযোদ্ধা শাহাদৎ বরণ করেন। হেমায়েত উদ্দিনসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা আঘাতপ্রাপ্ত হন।

স্বাধীনতার পর পূর্ব কোটালীপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাঁথার স্মৃতি তুলে ধরতে কোন স্মৃতি ভাষ্কর্য নির্মান করা হয়নি। গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের ১৫নং ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেবদুলাল বসু পল্টু গত বছর জহরেরকান্দি স্কুলে একটি স্মৃতি ভাষ্কর্য নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করনে। তিনি অর্থ, পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে এই ভাষ্কর্যটি নির্মান করেন।
পূর্ব কোটালীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বনোজ কান্তি মজুমদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ,গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা চৌধূরী এমদাদুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস, এম হুমায়ুন কবির, মুক্তিযোদ্ধা আশালতা বৈদ্য, জেলা পরিষদ সদস্য মাজাহারুল হক পান্না, ভাষ্কর্য নির্মানের উদ্যোক্তা দেবদুলাল বসু পল্টুসহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক মুক্তিযোদ্ধা কবি কাজী রোজী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিজ নির্বাচনী এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের ৪৭ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের ভাষ্কর্য উদ্বোধন করতে পেরে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি গর্বিত। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্নগুলি সংরক্ষণের জন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব।