বঙ্গবন্ধুর অটোগ্রাফ আজও অমলিন, ভাষা দিবসের আগে আবেগে ভাসলেন চার বন্ধু

85

দুই বাংলার মধ্যে মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে উদ্দেশ্যে ছেচল্লিশ বছর আগে সাইকেল চালিয়ে ওপারে গিয়েছিলেন চার চিকিৎসক। আজ তাঁরা প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক। বঙ্গবন্ধুর অটোগ্রাফ নিয়েছিলেন সেই দামাল দিনে। আজ সেই সব দিনের স্মৃতিই হাতড়ে বেড়ান-শিবপ্রসাদ নন্দী, শুভেন্দু বিকাশ মাইতি, অঞ্জিত রায়, ও গৌতম দাস। আজ প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক।
এঁদের মধ্যে একজন নবচেতনার সম্পাদক এস. পি নন্দী ২১ ফেব্রুয়ারি ও ১৯ মে দিন দুটিকে স্মরণ করতে কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতাল মোড়ে একটি ভাষা শহিদ বেদী তৈরি করেন। ওই অনুষ্ঠানে বিখ্যাত সাহিত্যিক নারায়ণ সান্যাল ও সুধীর চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন। আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসের ঘোষণা বা ২০০২ সালে হওয়া ভাষা শহিদ বেদীর অনেক আগে থেকে চিকিৎসক শিবপ্রসাদ নন্দী ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি উদযাপন করেন। জন্ম, পড়াশুনা, কর্ম এপারে হলেও বাংলাদেশের কুমিল্লায় পিতৃপুরুষ ও ব্রাহ্মণবেড়িয়ায় মামার বাড়ি হওয়ায় একটা টান ওপার বাংলার প্রতি রয়ে গিয়েছে, চিকিৎসক শিবপ্রসাদের সে কথা স্বীকার করছেন।
তিনি বলেন, “দুদেশের মধ্যে মৈত্রীবন্ধনের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালে এই ফেব্রুয়ারি মাসেই কলকাতার আর. আহমেদ ডেন্টাল কলেজের চার বন্ধু সাইকেল করে বাংলাদেশে রওনা দিই। ভারত বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ঢোকার সময় দেখি বিদায়ী কুচকাওয়াজ নিয়ে ভারতীয় সেনারা ফিরছে। ২৫২ মাইল পেরিয়ে আমরা ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বঙ্গভবনে যাই বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সাদা হাফ প্যান্ট, গেঞ্জি, মাথায় টুপি, সাইকেল হাতে দুদেশের পতাকা দেখে রক্ষীরা ছুটে এলেন। সব শুনে বঙ্গভবনে তাঁরা বসাল। বঙ্গবন্ধুর ছেলে এসে কথা বললেন। তিনি ঘুরে সমস্ত কিছু দেখালেন। প্রধানমন্ত্রী মুজিবর রহমান আমাদের চা, বিস্কুট খাইয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। প্রত্যেকের ডাইরিতে উনি অটোগ্রাফ দেন। এসব কোনওদিন ভুলতে পারব না।”
চিকিৎসক শুভেন্দু বিকাশ মাইতি কল্যাণীতে থাকেন। তিনি বলেন, “সে সময় ফ্রি স্কুল স্ট্রিট থেকে পারমিট করান হয়। মেদিনীপুরে আমাদের বাড়িতে দুই বন্ধু আসে। তাদের সাইকেল ছিল না। আমার সাইকেল ছাড়াও ওদেরটা জোগাড় করি। তারপর কলকাতা থেকে চার বন্ধু রওনা দিই। বঙ্গবন্ধু প্রথমেই বলেন, কি ভাই আপনারা কোত থেকে? আমরা ভারত বলতে খুব প্রশংসা করল। আমাদের ডেন্টাল কলেজের ছাত্র জানতে পেরে বললেন, পশিমারা আমার দাঁত ভাঙ্গিয়া দিসে (মানে পাকিস্তান আমার দাঁত ভেঙে দিয়েছে)। ২১ ফেব্রুয়ারি আসলে মনটা অন্যরকম হয়ে যায়।”
বর্ধমান ডেন্টাল কলেজ থেকে প্রিন্সিপাল হয়ে অবসর নেওয়া, বারাসাতে বাড়ি চিকিৎসক গৌতম দাস বলেন, “আমার জন্ম যশোরের কচুবেড়িয়ায়। তারপরই আমরা এদেশে চলে আসি। আজও ওদেশের প্রতি একটা টান অনুভব করি। ২১ ফেব্রুয়ারি আসলে সমস্ত কিছু চোখের সামনে আসে। এখন আর সময় দিতে পারিনা। তবে বঙ্গবন্ধুর আপ্যায়ন ভোলার নয়। তাঁর অটোগ্রাফও যত্ন করে রেখে দিয়েছি।” মেদিনীপুরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করা চিকিৎসক অঞ্জিত রায়ও সেদিনের কথা ভেবে আজ কলেজ জীবনে ফিরে গেলেন। প্রতি বছরের মতো বুধবার নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতাল মোড়ে ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে বলে চিকিৎসক শিবু নন্দী জানিয়েছেন।