টোকাটুকি রুখতে পরীক্ষার্থীদের জুতো-মোজায় ‘না’

75

স্কুলবাড়ির জানালায় ঝুলে আছে বহিরাগতরা। পরীক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে প্রশ্নের উত্তর। বিহারে পরীক্ষাহলের এ দৃশ্য চমকে দিয়েছিল দেশবাসীকে। তবে এ যদি হিমশৈলের চূড়া হয়, তবে আস্ত হিমশৈলটি বোধহয় টপার কেলেঙ্কারি। রুবি রাই যেভাবে বিহারের মুখ পুড়িয়েছিল, তাতে বিশ্বাস হয় না যে এই ভূমিতেই এককালে ছিল নালন্দা। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার টোকাটুকি রুখতে অভিনব সিদ্ধান্ত নিল বিহার বোর্ড। পরীক্ষার্থীদের জুতো-মোজার বদলে স্লিপার বা চটি পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিহারে শুরু হচ্ছে দশম শ্রেণির পরীক্ষা। প্রায় সাড়ে সতেরো লক্ষ পরীক্ষার্থী, চোদ্দশোর বেশি পরীক্ষাকেন্দ্র। এদিকে অতীতের রেকর্ড ভাল নয়। টোকাটুকির কারণে একাধিকবার বিহারের মুখ পুড়েছে। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার সময়ই প্রায় হাজার খানেক পরীক্ষার্থীকে অসাধু উপায় অবলম্বন করার জন্য বরখাস্ত করা হয়েছিল। বাইরে থেকে সাহায্য করার জন্যও অনেককে পাকড়াও করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে টোকাটুকি রুখতে পরীক্ষার্থীদের চপ্পল পরার নির্দেশ দিয়েছে বিহার স্কুল এগজামিনেশন বোর্ড। বোর্ড নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, টোকাটুকির ঘটনা রুখতে আগাম সতর্কতা হিসেবেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেননা প্রত্যেকের জুতো-মোজা খুলে চেক করা সম্ভব নয়। তবে কোনও পরীক্ষার্থী যদি জুতো-মোজা পরে চলে আসে, তবে হলে ঢোকার আগে তা খুলে রাখতে হবে। এছাড়াও প্রতি ২৫ পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে ইনভিজিলেটর নিয়োগ করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। পুরো পরীক্ষা প্রক্রিয়াটির ভিডিও রেকর্ডিং করা হবে। যাতে নজর এড়িয়ে কেউ অসাধু উপায় অবলম্বন করলেও পরে ধরা পড়ে যায়। এছাড়া বাইরে থেকে কেউ যাতে পড়ুয়াদের প্রভাবিত না করতে পারে, সে কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।
আয়োজনের ত্রুটি নেই। বোর্ড যে ভাবমূর্তি ফেরাতে সতর্ক তা স্পষ্ট। তবে তার পরও রুবি রাইয়ের মতো ঘটনা আটকানো যাবে তো? সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।