Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

৫০ কেজির বস্তায় আলু রাখার নতুন নির্দেশনায় বিপাকে পড়েছেন যশোরাঞ্চলের আলু চাষী ও কোল্ডস্টোরেজ মালিকরা। সম্প্রতি ৮০কেজির বস্তার পরিবর্তে ৫০কেজির পাটের বস্তায় আলু রাখার নির্দেশনা পাওয়ায় মাথায় হাত উঠেছে তাদের। কারণ এ নির্দেশনা মানতে হলে তাদের প্রায় ১৬ লাখ পিচ নতুন বস্তা দরকার। কিন্তু মাত্র দশ দিনের মধ্যে তা পাওয়া সম্ভব নয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এ জন্য এ নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য একটি মৌসুমকে ছাড় দেয়ার দাবি তাদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোরাঞ্চলে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৪টি কোল্ডস্টোরেজ রয়েছে। এর মধ্যে যশোরে ৯টি, খুলনায় ৩টি ও সাতক্ষীরায় ২টি কোল্ডস্টোরেজ রয়েছে। এই কোল্ডস্টোরেজগুলোতে আলুর ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৮০ হাজার টন। এই আলু রাখতে ৮০ কেজি ধারণ ক্ষমতার প্রায় ১০ লাখ পাটের বস্তা দরকার হয়। যার সিংহভাগই কৃষকরা জোগাড় করেছেন। এখন হঠাৎ করেই প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, কোল্ডস্টোরেজে ৫০ কেজি ওজনের পাটের বস্তায় আলু রাখতে হবে। এই নির্দেশনার জন্য এখন ৫০ কেজি ধারণ ক্ষমতার প্রায় ১৬ লাখ পাটের বস্তার দরকার।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বর্ণি গ্রামের আলু চাষী আবুল হাশেম, মিজানুর রহমান ও গদখালি এলাকার মতিন ভূইয়া জানান, এক সপ্তাহ পরেই তারা কোল্ডস্টোরে আলু রাখতে শুরু করবেন। আলু রাখার প্রস্তুতিও তারা প্রায় করে ফেলেছেন। গতবছরের রেখে দেয়া বস্তা এবং নতুন বস্তা মিলিয়ে আলু প্রায় গুছিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন কোল্ডস্টোর থেকে বলা হচ্ছে, ৫০ কেজির বস্তায় আলু রাখতে হবে। হঠাৎ করে এই নির্দেশ মানতে বিপুল পরিমাণ নতুন বস্তা দরকার। এই মুহূর্তে তা জোগাড় করা সম্ভব নয় বলে তাদের দাবি।
যশোরের রূপদিয়া এলাকার টাওয়ার কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ রওশন আলী জানান, আগামী ২ মার্চ থেকে কোল্ডস্টোরেজগুলোতে আলু রাখা শুরু হবে। প্রতিবারের মত এবারও ৮০ কেজির বস্তায় আলু রাখার জন্য কৃষকরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। এখন প্রশাসন থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, ৫০ কেজির বস্তায় আলু রাখার জন্য। এ নিয়ে কৃষকদের মত তারাও বিপাকে পড়েছেন।
শেখ রওশন আলী আরও জানান, প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫০ কেজির বস্তায় আলু রাখার জন্য। তারাও এই নির্দেশনা মানতে প্রস্তুত। কিন্তু এই মৌসুমেই এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হলে এখনই প্রায় ১৬ লাখ পাটের বস্তা দরকার। যা এই মুহূর্তে জোগাড় করা অসম্ভব। এজন্য চলতি মৌসুমে ছাড় দিয়ে আগামী মৌসুম থেকে এ নির্দেশ বাস্তবায়নের দাবি তাদের।