বিদায় ২০১৫ স্বাগত ২০১৬

128

নড়াইল কণ্ঠ : অস্তগামী সূর্যের সঙ্গেই বিদায় ২০১৫ সাল। এই মুহূর্তে পৃথিবী জুড়ে নতুন বছরের রাজকীয় আবাহন।

১ জানুয়ারির নতুন সূর্য আলোকিত করুক সব মানবের জীবন, স্বাগতম ২০১৬, স্বাগতম নতুন বছর।

২০১৬ কে ঘিরে অনেক প্রত্যাশা, অনেক স্বপ্ন, অনেক কল্পনা। যদিও সময়ের বিচারে খুব দীর্ঘ নয় একটি বছর, মাত্র তিনশো পঁয়ষট্টিটি দিন মাত্র। প্রতিটি দিনই ইঙ্গিতে-ইশারায় ডাকে। অজানা আগামীকালের পথে ডেকে নিয়ে যায়। দিন থেমে থাকে না, রাতও নয়। আলো ও আঁধারের অবিচ্ছিন্ন আবর্তনের ভেতর দিয়ে এবার এগিয়ে যাবে নতুন বছর। পুরনো বছরের ধূসর দিনগুলোর কথাও পাশাপাশি আমাদের মনে পড়বে কী পেয়েছি, কী হারিয়েছি।

সেই একই সূর্য, একইভাবে আজ কুয়াশার চাদর মুড়িয়ে উঠেছে পূর্বাকাশে। তবু তার উদয় ভিন্নতর। আজকের দিনটি আলাদা, কারণ একটি নতুন বর্ষপরিক্রমা শুরু হলো আজ থেকে। খ্রিস্টীয় ২০১৬ সালের আজ প্রথম দিন। আজ শুভ নববর্ষ। নতুনের প্রতি সবসময়ই মানুষের থাকে বিশেষ আগ্রহ ও উদ্দীপনা। নতুনের মধ্যে নিহিত থাকে অমিত সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়ণ করার সুযোগ করে দিতে এলো নতুন বছর।

১ জানুয়ারি ‘ইংরেজি নববর্ষ’ যদিও এটি ইংরেজি ভাষাভাষীর নিজস্ব উৎসব, তবুও সারাবিশ্বেই দিনটি মহা ধুমধামে উদযাপিত হয়। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের প্রথম দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববাসী মেতে ওঠে নানা আয়োজনে।

প্রিয়জনকে নিয়ে আনন্দ করতে একটুও কার্পণ্য করে না বিশ্ববাসী এই দিনে। বছরের এই উৎসবটি লুফে নিতে বাংলাদেশের মানুষও পিছিয়ে নেই। শহর-নগর-গ্রাম-বন্দরসহ সারাদেশে যেন বয়ে চলে এক খুশির বন্যা। আকাশ সংস্কৃতির এই জোয়ারে অনেক কিছুই ভেসে গেছে। বাঙালির রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি, রয়েছে বর্ষবরণ উৎসব পহেলা বৈশাখ। তবুও ১ জানুয়ারির উৎসব উদযাপনে এতটুকু কার্পণ্য করে না বাঙালি। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মাঝে দেখা যায় খুব বেশি উচ্ছ্বাস।
প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই বর্ষ বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানো মানুষের আবেগ ও হৃদয়বোধেরই একটি অন্তর্নিহিত প্রতিফলন। ইতিহাস সচেতন পাঠকমাত্রের জানা, প্রাচীন রোমের পৌরাণিক দেবতা জেনাসের নামানুসারে নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির নামকরণ। দেবতা জেনাসের দুটি মুখ।

ইতিহাসবিদেরা জানিয়েছেন, চার হাজার বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার বেবিলিয়নরা ‘আকিতু’ নামে নববর্ষ অনুষ্ঠান পালন করে সুখী, শান্তিপূর্ণ, শুভময় ভবিষ্যতের জন্য প্রার্থনা জানাতেন দেবতার দুয়ারে।

নতুন বছরে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সকল বাঙ্গালির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রত্যাশা । আরও প্রত্যাশা হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও হানাহানি পরিহার করে বাংলাদেশটা পরিণত হবে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সুখী ও সুন্দর মানুষের দেশে।

নতুন বছরের কাছে প্রত্যাশা ভালো থাকার, সুন্দর থাকার। দেশটা হোক— অস্থিতিশীলতা-সহিংসতা-নৃশংসতামুক্ত। চাই অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

নতুন বছরের কাছে চাওয়া একটি সুন্দর জীবন। সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ, শিক্ষাঙ্গণে সুস্থ পরিবেশ। মানুষে মানুষে শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা। সব মিলে হবে একটি শান্তিময় দেশ।

বছরের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জীবন নামক প্রাসাদ থেকে ৩৬৫ দিনে একটি করে পাথর খসে পড়ে। ছোট হয়ে আসে আমাদের নাতিদীর্ঘ জীবন। আমরা বিগত বছরটি কীভাবে কাটিয়েছি, আগামী বছর কীভাবে কাটাব এবং এ বছরে আমাদের অর্জন কী কী? এর সাথে আরও নানা প্রশ্ন ঘিরে ধরা উচিত আমাদের চেতনা জগৎকে। এখন আমাদের আনন্দ-উল্লাসের এতটুকু ফুরসত থাকার কথা নয়। এখন শুধু হিসাব-নিকাশ মেলানোর সময়।