গোপালগঞ্জে উপ-বৃত্তির প্রলোভন দিয়ে ছাত্রীকে যৌন হয়রানী; বিচারের দাবীতে মানব-বন্ধন

84

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে অষ্টম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর প্রতিবাদে ও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানব-বন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
অাজ রোববার দুপুরে মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা টি.সি.এ.এল. উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মানব-বন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
ঘন্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অংশ গ্রহন করে।
এ সময় তারা অভিযুক্ত স্কুলের অফিস সহকারী নুর মোহাম্মদ শেখকে (৪৫) গ্রেফতার করে বিচারের দাবীতে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।
গত বৃহস্পতিবার(৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে টেকেরহাট বাজারের মিল্কভিটা অফিসের পিছনে একটি নির্জন স্থানে এই ঘটনা ঘটানো হয়। মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা টি.সি.এ.এল. উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীতে লেখাপড়া করে মেয়েটি। ঘটনার দিন প্রথম ক্লাস করার পর স্কুলের অফিস সহকারী নুর মোহাম্মদ শেখ (৪৫) মুকসুদপুর উপজেলা সদর নিয়ে উপবৃত্তির টাকা পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখায়। এতে মেয়েটি রাজি হয়। দ্রুত তার সঙ্গে রওনা হতে বলায় সে বাড়িতে কাউকে কিছু না বলে তার সঙ্গে মুকসুদপুর উপজেলা সদরে রওনা হয়।
কিন্তু মুকসুদপুর না গিয়ে কৌশলে ইজিবাইকে করে টেকেরহাট বাজার এলাকায় মিল্কভিটা অফিসের পিছনে নিয়ে যায় স্কুল ছাত্রীটিকে। সেখানে নিয়ে পানির সাথে কিছু একটা মিশিয়ে খাওয়ানোর কিছু সময় পর মেয়েটি অচেতন হয়ে যায়। মেয়েটির পরিবারের লোকজন ধারনা করছে পানির সাথে নেশা জাতীয় কিছু খাইয়ে অচেতন করে তার সর্বনাশ করা হয়েছে। পরে সন্ধ্যার একটু আগে একটি রিক্সা ভ্যানে করে বাড়ি এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। এরপর পরিবারের লোকজন জানতে পারে নূর মোহাম্মদ মেয়েটির সাথে খারাপ কাজ করেছে।
এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও পলাতক রয়েছে।
ওই স্কুল ছাত্রী পিতা মাহাবুব খালাসী অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবী জানিয়েছেন।
ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন গাজী বলেছেন, অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগ ওঠায় গতকাল শনিবার তাকে সাময়িকভাবে বরাখাস্ত করা হয়েছে।পুলিশ তদন্তে তিনি দোষী হলে পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।