‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে প্রেমিকা চাই, ডেটিং সাইটে নাম লেখাল এই রোমিও

84

প্রায় এক দশক ধরে অপেক্ষা করছে সে। ফি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি আসে আবার চলেও যায়। কিন্তু তার দেখা মেলে না। কে জানে কোথায় আছে সে? কোনও ঘোলা জলের নিচে কাদায় ছোট মাছের আশায় লুকিয়ে আছে, নাকি সিক্ত ঘাসে মুখ লুকিয়ে পোকামাকড় খোঁজার চেষ্টা করছে। দিনরাত এক করে প্রতিবছরই নিজের অজানা প্রেয়সীর জন্য গলা ছেড়ে ডাক দেয় রোমিও। কিন্তু আজও তার দেখা মেলেনি। তবে এবার নিজের জুলিয়েটের দেখা পেতে বদ্ধপরিকর বলিভিয়ার ব্যাঙ রাজপুত্তুরটি। তাই এবার মানুষের সাহায্য নিয়েছে সে। নাম লিখিয়েছে ডেটিং অ্যাপে।বলিভিয়ার এই বিরল প্রজাতির উভচরটিই বিশ্বের সবচেয়ে একাকী অর্থাৎ নিঃসঙ্গ ব্যাঙ। এ নিয়ে অবশ্য তর্কের অবকাশ রয়েছে। তবে একটি বিষয়ে কোনও তর্ক, কোনও সন্দেহ নেই যে রোমিও নিঃসন্তান রয়ে গেলে এ পৃথিবী থেকে তার গোটা প্রজাতিই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই এই ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’-তেই রোমিওর জন্য সঙ্গী খুঁজতে বদ্ধপরিকর বিজ্ঞানীরা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে এগিয়ে এসেছে একটি ডেটিং সাইটও। তাতে রোমিওর পাত্রীর খোঁজে প্রোফাইলও খোলা হয়েছে। আর আবেদন করা হয়েছে দেশের কোনও নদী কিংবা নালার পাশে যদি সেহুয়েনকাস প্রজাতির কোনও মহিলা ব্যাঙ পাওয়া যায়। তাহলে যেন অবিলম্বে খবর দেওয়া হয়। ব্যাঙাচি মিললেও চলবে। তাহলে এ যাত্রায় রোমিওর বংশকে বাঁচানো সম্ভব হবে।এত বছর পরও আশা ছাড়েনি রোমিও। আপাতত কোচাবাম্বা ন্যাচরাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে অপেক্ষায় রয়েছে সে। কবে জুলিয়েটের দেখা মিলবে। আর নতুন করে তার সঙ্গে শুরু করবে নতুন জীবন। রক্ষা করবে নিজের বংশ। মনের সুখে তার সঙ্গেই কাটাবে প্রতিটা ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’।