নড়াইল জমিদার বাড়ির সম্পত্তি বেহাতের আশংকা

139

নড়াইল কণ্ঠ : প্রস্তাবিত শিশু পার্ক নড়াইল হাটবাড়িয়া জমিদার বাড়ির ১২একর সরকারি জায়গাজমি বেহাতের আশংকা দেখা দিয়েছে। যশোর শহরের মোস্তাব মন্ডল নামের এক ভূমি দস্যু এই সরকারি সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেছেন। ইতিমধ্যে নড়াইলের যুগ্ম দায়রা জজ আদালত ও হাইকোর্টে ওই ব্যক্তির পক্ষে রায় দিয়েছে। সরকার এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অসমর্থিত সূত্র থেকে জানা গেছে, জনৈক মোস্তাব মন্ডল নড়াইলের প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে সরকারী ৩০ কোটি টাকার ওই সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে এলাকার বিশিষ্টজনদের ধারনা সরকার পক্ষ কুশলীগণ মামলার তথ্য উপাত্ত যথাযথভাবে বিজ্ঞ বিচারকমন্ডলীর নিকট উপস্থাপন করতে সমর্থ হলে এ সম্পত্তি বেহাত হবে না। ইতিমধ্যে এই সম্পত্তি বেহাতের চেষ্টা প্রতিহত করতে নড়াইলের বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করলেও কোনো ফল হয়নি। ২০১৪ সালের ৬ মার্চ মোস্তব মন্ডল নামে ঐ ভূমি দস্যুর শাস্তির দাবিতে আদালত চত্বরে মানববন্ধন, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি ও প্রতিবাদ সমাবেশ ছাড়াও ওই বছরের ২৮ এপ্রিল নড়াইল টাউন ক্লাবে, ১৯ মে ও ৮ জুন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ও নাগরিক সমাজ শহরে একই ধরনের কর্মসূচি পালন করে।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পূর্বে নড়াইলের হাটবাড়িয়ার জমিদার আশুতোষ রায় এবং অজিত রায় পিতা জিতেন্দ্রনাথ রায় নড়াইল পৌরসভার ৫৬নং ব্রাক্ষ্মণডাঙ্গা মৌজার ৫টি দাগে ২৩.৭৬ একর জমির মালিক ছিলেন। দেশ বিভাগের পর উভয় জমিদার কারও কাছে জমি রেজিস্ট্রি দলিলমুলে হস্তান্তর না করেই সপরিবারে তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ১৯৫০ সনে জমিদারী উচ্ছেদ ও প্রজাস্বত্ব আইন জারীর পর প্রজাস্বত্ব আইনের বিশেষ বিধান অনুযায়ি অত্র সম্পত্তি খাস জমি হিসেবে পরিগণিত হওয়ায় সম্পত্তিতে সরকারের স্বত্ব ও দখল অর্জিত হয়। বর্তমান হাল রেকর্ডে সরকারের ১নং খাস খতিয়ানভূক্ত রয়েছে।

বর্তমানে যশোরের বাসিন্দা জনৈক মোস্তাব মন্ডল তাঁর ভারতের ২৪পরগনা জেলার বনগাঁ থানাধীন দক্ষিন সুদ্দরপুর মৌজার ১১.১০ একর জমির সাথে আমমুক্তার দলিল (চড়বিৎ ড়ভ অঃঃড়ৎহবু) মূলে ১৯৭৫ সালে নড়াইলের হাটবাড়িয়ার জমিদার আশুতোষ রায় ও অজিত রায়ের সাথে এই জায়গা বিনিময় করেন। পরবর্তীতে যশোর জেলার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে ১৯৭৫ সালের ২১ মার্চ বর্ণিত বিনিময় ২৩/৭৪-৭৫ নং মিস মামলার বৈধতা করে বর্ণিত নড়াইলের হাটবাড়িয়ার ১১.৮৮ একর ভুমির স্বত্ত্বাধিকারী হয়েছেন বলে দাবি করেন।

জানাগেছে, হাটবাড়িয়া জমিদার বাড়ির ৫৬নং ব্রাক্ষ্মণডাঙ্গা মৌজার ৫টি দাগে ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারী নড়াইলের যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালতে নালিশী এ জমি বাদি মোস্তব মন্ডলের পক্ষে রায় প্রদান করা হয়। সরকার পক্ষ তৎকালীন জেলা প্রশাসক আঃ গাফ্ফার খান নড়াইলের যুগ্ম জেলা জজ আদালতের ৩৯/০৫ নং আপীল মামলার রায়ের বিরুদ্ধে সিভিল রিভিশন দায়ের করেন।

নড়াইল-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, সরকারী সম্পত্তি কোনোভাবেই বেহাত করতে দেয়া যাবে না। এর জন্য আইনি লড়াইসহ জনগনকে সাথে নিয়ে যেকোনো আন্দোলনে থাকব।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলার ডেপুটি কমান্ডার ও সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র-এর নড়াইল জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট এস,এ মতিন বলেন, ইতোমধ্যে নড়াইলে ভূমি দস্যুরা অনেক জায়গা দখল করেছে। বিজ্ঞ আদালতকে ভুল বুঝিয়ে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন না করে, জাল দলিল সৃষ্টি করে এ জায়গার রায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই খাস জায়গাটুকু ছাড়া নড়াইল শহরে আর কোনো ভালো জমি নেই। এই মূল্যমান জায়গা রক্ষার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে আন্দোলন করব।

নড়াইলের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নদী বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক প্রফেসর মুন্সি হাফিজুর রহমান বলেন, কোন অবস্থাতেই প্রস্তাবিত শিশু পার্কের জায়গা আমরা বেদখল হতে দেব না। এই জায়গা রক্ষা করতে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনের তাগিদে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ রায়হান কাওছার বলেন, এ রায়ের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ২৭মে হাইকোর্টে সিআর মামলা হয়। কিন্তু হাইকোর্টে সরকারের সিভিল রিভিশন গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় এ বছরের (২০১৫ সাল ) ১০ আগষ্ট ওই মোস্তাব মন্ডলের পক্ষে পূনরায় রায় হয়। সরকার এ রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে না পাওয়ায় কিছুটা দেরী হচ্ছে বলে জানান। এ ব্যাপারে মোস্তাব মন্ডলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।