দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়ার ৫ বছরের জেল

78

নড়াইল কণ্ঠ : খালেদা জিয়া ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শারীরিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার অপর আসামি তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচ জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা ২৯ মিনিটে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত পঞ্চম আদালতের বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান এ রায় দেন।বিচারক জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে ৪০৯ ও ১০৯ ধারার অপরাধ প্রমাণ হয়েছে।
এর আগে বিচারক সকাল ১০টা ২০ মিনিটে আদালতে পৌঁছান। আর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুর ১টা ৫১ মিনিটে আদালতে পৌঁছান খালেদা জিয়া। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে বিচারকে ওঠেন এজলাসে। আর সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে খালেদা জিয়ার হাজিরা জমা দেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।
আদালতে বিচারক প্রবেশের আগে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আব্দুর রেজ্জাক খানসহ বেশকিছু বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল, ঢাকা মহানগরের পিপি আবু আবদুল্লাহসহ আরও কিছু আইনজীবী সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা ১০ মিনিটের মধ্যে আদালতে প্রবেশ করেন।
এরপর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত আদালত এলাকায় খালেদা জিয়া পৌঁছান। এরপর ব্যারিকেড সরিয়ে শুধু খালেদা জিয়ার গাড়িটিকে আদালত প্রাঙ্গনে ঢুকতে দেয়া হয়। পৌনে ২টার দিকে আদালতের এজলাসে প্রবেশ করেন বিএনপি নেত্রী। সেখানে একটি চেয়ারে তার বসার ব্যবস্থা করা হয়।এ সময় তার সঙ্গে বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রায় শোনার পর আদালতে উপস্থিত খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হট্টগোল শুরু করেন।জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কুয়েত থেকে এতিমদের জন্য পাঠানো দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করে দুদক। ওই বছরই ৪ জুলাই মামলাটি গ্রহণ করেন আদালত। তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন।
মামলায় খালেদা জিয়াতারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্যসচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান
যে দুই ধারায় খালেদার বিরুদ্ধে বিচারকাজ হয়েছে সেগুলো হলো, দণ্ডবিধির ৪০৯ ও দুদক আইনের ৫(২) ধারা। দণ্ডবিধির ৪০৯ এ বলা আছে, ‘যে ব্যক্তি তাহার সরকারি কর্মচারীজনিত ক্ষমতার বা একজন ব্যাংকার, বণিক, আড়তদার, দালাল, অ্যাটর্নি বা প্রতিভূ হিসাবে তাহার ব্যবসায় যে কোনও প্রকারে কোনও সম্পত্তি বা কোনও সম্পত্তির ওপর আধিপত্যের ভারপ্রাপ্ত হইয়া সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেন, সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।’ দুদক আইনের ৫ (২) ধারা অনুযায়ী, ‘কোন সরকারি কর্মচারী অপরাধমূলক অসদাচরণ করিলে বা করার উদ্যোগ গ্রহণ করিলে তিনি সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের যোগ্য হইবেন।’
দীর্ঘ এই বিচার প্রক্রিয়ায় মামলা থেকে রেহাই পেতে খালেদা জিয়া উচ্চ আদালতে গেছেন একাধিকবার। তার অনাস্থার কারণে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তিনবার এ মামলার বিচারক বদল হয়েছে। পরে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। একই বছরের ৭ মে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে এ দু’টি মামলা বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।