ঢাকায় জমে উঠেছে মাসব্যাপি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

101

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : ঢাকায় জমে উঠেছে মাসব্যাপি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা । মেলায় সববয়সি মানুষের ভিড় লক্ষণীয়। কোলের শিশুকে নিয়ে এসেছেন মেলায় অনেকেই। নড়াইল কণ্ঠ পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক গত শনিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলার ঘুরে মাসব্যাপি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এ মেলার একটি ভিডিও চিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন।
উল্লেখ্য, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মাসব্যাপি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) গত ৮ জানুয়ারি সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের মাঠে বাণিজ্য মেলার ২৩তম এই আসরের উদ্বোধন করেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করেছে। এবারের মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, নেপাল, হংকং, জাপান, আরব আমিরাত, মরিশাস, ঘানা, মরক্কো এবং ভুটান অংশ নিয়েছে।
মেলায় ১৪ ক্যাটাগরিতে দেশ-বিদেশের ৫২০টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ পেয়েছে। এর মধ্যে থাকছে, ৬৪টি প্রিমিয়াম প্যাভিলিয়ন, ৩৬টি মিনি প্রিমিয়াম প্যাভিলিয়ন, ১৭টি জেনারেল প্যাভিলিয়ন, ২৫টি মিনি জেনারেল প্যাভিলিয়ন, চারটি রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন, ছয়টি মিনি রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন, ২৭টি বিদেশি প্যাভিলিয়ন এবং ৮টি মিনি বিদেশি প্যাভিলিয়ন। এছাড়া ৬৭টি প্রিমিয়ার স্টল, ১৮টি বিদেশি স্টল, ২৬০টি সাধারণ স্টল ও ২৪টি ফুড স্টল।
বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) বর্তমানে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারেই কাজ করছে না, এটা নগরবাসীর জন্য অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রও হয়ে উঠেছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে মেলার সার্বিক সুশৃঙ্খল আয়োজনে।
উদ্যোক্তরা জানান, ‘আমরাও পারি’ থিম নিয়ে আয়োজিত ২৩তম বাণিজ্য মেলার মূল ফটকটি পদ্মা সেতুতে স্থাপিত প্রথম স্প্যানটির আদলে নির্মাণ করা হয়েছে।
মেলার ভেতরটায় বেশ ফাঁকা জায়গা রেখে এর দুই প্রান্ত সুন্দরবন ইকোপার্কের আদলে তৈরি করা হয়েছে। চলার পথগুলো অতীতের চেয়ে আরো প্রশস্থ করা হয়েছে। মেলায় ২টি শিশু পার্ক, রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, মা ও শিশু কেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে। রয়েছে অর্কিড বাগান।
গত বছরের তুলনায় এ বছর বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ননের আকার দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় এ প্যাভিলিয়নটি নান্দনিক করে সাজানো হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম এবং দেশি-বিদেশি সবাই বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে।
এছাড়া, বাণিজ্য মেলাকে পর্যায়ক্রমে ৩৬০ ডিগ্রি ভার্চুয়াল ট্যুর-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গুগল স্ট্রিট ভিউ, ওয়েবসাইট, ফেসবুক, গুগলে দেশ-বিদেশ থেকে যে কেউ, যে কোন সময়ে অনলাইনে VR Goggles -এর সাহায্যে অনলাইনে বসে বাণিজ্যমেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন। ই-শপের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতারাও পণ্য পরিসেবার আওতায় আসবেন। ডিআইটিএফ-২০১৮ এর লে-আউট প্লান এবার ডিজিটাল ব্লো-আপ বোর্ডের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় মেলা প্রাঙ্গণে ১০০টি সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভি মনিটর করবেন। প্রবেশ গেটে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রোভার স্কাউটরা রয়েছে।
৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ মেলা উন্মুক্ত থাকবে। প্রবেশ টিকিটের মূল্য প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।