কমরেড হেমন্ত সরকারের ১৭তম প্রয়াণ দিবস আজ

174

নড়াইল কণ্ঠ : আজ ২৮শে ডিসেম্বর ২০১৫ উপমহাদেশের প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা কমরেড হেমন্ত সরকারের ১৭তম প্রয়াণ দিবস। এ উপলক্ষে কমরেডের নিজ গ্রাম নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের বড়েন্দার গ্রামে তাঁর সমাধি চত্বরে প্রতিবছরের মত এবারও দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে সকাল দশটায় প্রয়াত কমরেডের সমাধিতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহের পুষ্পমাল্য অর্পণ ও বেলা তিনটায় স্মরণসভা। সমাধি চত্বরে বেলা বারোটা থেকেই শুরু হবে মেলা । প্রতিবারের মত এবারেও প্রতিটি অনুষ্ঠানেই বামপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিপুল সংখ্যক নিবেদিত প্রাণ কর্মী যোগ দেবেন বলে মনে করছেন হেমন্ত সরকার স্মৃতিরক্ষা কমিটির অন্যতম সদস্য কমরেড সৌরভ গোলদার। কমরেড কিরণ গোলদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নড়াইল জেলার সভাপতি ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য কমরেড শেখ হাফিজুর রহমান। স্থানীয় হেমন্ত সরকার অনুরাগীরা ছাড়াও এই স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখবেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড নজরুল ইসলাম ও কমরেড নওরোজ মোল্যা।

কমরেড হেমন্ত সরকার ১৯১০ সালে বড়েন্দার গ্রামে এক গরীব কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্কুল কলেজের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কোনদিন গ্রহণ করেননি। প্রথম জীবনে তিনি নড়াইলের প্রতাপশালী জমিদারদের লাঠিয়াল হিসেবে কাজ করতেন। পরে উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত কমরেড অমল সেনের সংস্পর্শে এসে মার্কসবাদের দীক্ষা নেন। পরবর্তীতে চল্লি¬শের দশকে নড়াইলের ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তাঁর ৮৮ বছরের জীবনে ষাট বছরের বেশী সময় তিনি আত্মগোপন ও জেল জীবন যাপন করেছেন। অন্তরীণ অবস্থায় তাঁর লেখাপড়ার হাতে খড়ি এবং জেলজীবনের অধিকাংশ সময় তিনি পড়াশোনা করে কাটিয়েছেন ও মার্কসবাদের উপর কয়েকখানি বইও লিখেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি কখনও তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ১৯৯৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভোরে তিনি নড়াইলে এক শুভানুধ্যায়ীর বাড়ীতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।